In regard to the chief goddess, Gowri, the Goddess of the Harvest, one great peculiarity remains to be mentioned, She is supposed to have been followed secretly by her husband, Siva, who remains hidden under the outer-fold of her sari, and is represented by a lota covered by a cocoanut and filled with rice carefully measured…
অর্থাং, ওই শস্যদেবী গৌরী সম্বন্ধে একটা খুব বড়ো বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ বাকি আছে। কল্পনা করা হয়, তার স্বামী শিব লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে অনুগমন করছেন। শিব ঢাকা থাকেন গৌরীর শাড়ির আঁচলে এবং একটি ঘটির মধ্যে চাল দিয়ে ও ঘটির মুখে নারকেল ঢাকা দিয়ে এই শিবের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়।
ইতিপূর্বে শ্রীযুক্ত ক্ষিতিমোহন সেন মহাশয়ের রচনায় আমরা দেখেছি, আমাদের দেশে পিতৃপ্রাধান্ত ও মাতৃপ্রাধান্য অর্থে বীজপ্রধান ও ক্ষেত্রপ্রধান শব্দ ব্যবহৃত হতো। মাতৃপ্রধান এই গণেশচতুর্থী ব্রতের বেলায় দেখছি, পুরুষকে সত্যিই বীজপূর্ণ ঘট বলেই কল্পনা করা হচ্ছে—এবং বীজ অপ্রধান, গৌরীর শাড়ির আঁচলে ঢাকা রয়েছে।
কৃষিকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানটিতে এইভাবে পুরুষের ভূমিকা ‘অপ্রধান’ এবং ‘উদাসীনে’র মতো হয়ে যাওয়ার সঙ্গে তান্ত্রিক ধ্যানধারণার এবং সাংখ্য দর্শনের কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে কি না—এ-প্রশ্নে আমরা পরে প্রত্যাবর্তন করবো।
—————
৩৬৭. বিশ্বকোষ ৫:২০৬-৭।
৩৬৮. B. A. Gupte in IA—February 1906.
৩৬৯. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর : বাংলার ব্রত ৫৩।
৩৭০. B. A. Gupte op. cit. 62.
৩৭১. R. Briffault M 3:3.
৩৭২. Ibid.
৩৭৩. Ibid.
৩৭৪. B. A. Gupte op, cit, 63,
৩৭৫. Ibid. Figure 3.
৩৭৬. Ibid. 63.
৩৭৭. Ibid. 61.
২৬. বার্তাশস্ত্রোপজীবী পর্যায়ে গণপতির নবরূপ
তাহলে, কৃষিকেন্দ্রিক এই ব্রতটির বিশ্লেষণ থেকে দেখতে পাওয়া যায় যে, ব্রতটির মূল অনুষ্ঠানটুকুর মধ্যে পুরুষপ্রাধান্যের বদলে নারীপ্রাধান্যেরই বিকাশ ঘটছে। অথচ, ব্রতটির অন্তত নামের মধ্যে থেকে গণপতি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হননি। অন্যান্য দৃষ্টান্তের বেলায় দেখা যায়, বার্তাশস্ত্রোপজীবী পর্যায়ে পৌঁছেও গণেশের পুরুষাকৃতিটি বিলুপ্ত বা নিশ্চিহ্ন হচ্ছে না—পুরোনো পর্যায়ের রেশটুকু নবপর্যায়ে পৌঁছাবার পর সব সময়েই যে সম্পূর্ণভাবে মুছে যাবে তা মনে করা ঠিক নয়। তার বদলে প্রায়ই দেখা যায়, নতুন পর্যায়েও পুরোনো পর্যায়ের রেশট থেকে গিয়েছে। তবু সেইটুকুই বড়ো কথা নয়। আসলে বড়ো কথা হলো, নবপর্যায়ে উপনীত হবার পর এ-পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য অনিবাৰ্যভাবেই ফুটে উঠতে বাধ্য। বার্তাশস্ত্রোপজীবী পর্যায়ে গণপতির পুরোনো পুরুষরূপটা অনেক ক্ষেত্রে টিকে থাকলেও, দেখা যায় নবপর্যায়ের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য এই রূপটির সঙ্গে অনিবাৰ্যভাবেই সংযোজিত হচ্ছে। এখানে তারই কয়েকটি দৃষ্টান্ত আলোচনা করা যাক।
পাশ এবং অঙ্কুশকে আয়ুধজীবী পর্যায়েরই স্বাভাবিক আয়ুধ মনে করা দরকার; শিকার ছাড়া এই জিনিস দুটি আর কোনো কাজে লাগে না। স্বভাবতই, কৃষিবৃত্তির পটভূমিতে এই আয়ুধ ভুটির গুরুত্ব গৌণ। তার বদলে এ-পর্যায়ে গণেশের হাতে এমনতরো বস্তুই প্রাসঙ্গিক হবে যা কিনা উর্বরাশক্তির প্রতীক। গণেশের পরিকল্পনায় সত্যিই সে-রকম বস্তু সংযোজিত হতে দেখা যায় কি?
বালগণপতি(৩৭৮)হিসেবে গণেশের যে-পরিকল্পনা তার বেলায় দেখা যায় গণেশের হাতে পাশ বা অঙ্কুশ কিছুই নেই। তার বদলে রয়েছে, আম, কলা, আখ, কাঁঠাল। ভক্তিবিঘ্নেশ্বর(৩৭৯) হিসেবে গণেশকে কল্পনা করবার সময় তাঁর হাতে নারকেল, আম, গুড় এবং পায়েস দেবার নির্দেশ। এখানেও তাহলে গণেশ শিকারজীবীদের অস্ত্র ফেলে কৃষিজাত সামগ্রীই গ্রহণ করছেন। আধুনিক পণ্ডিতদের(৩৮০) মতে, গণেশের এই নবলব্ধ সম্পদগুলির মধ্যে নারকেল ইত্যাদি অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই উর্বরা-শক্তির প্রতীক। আবার অন্যত্ৰ—যেমন লক্ষ্মীগণপতি ও মহাগণপতির পরিকল্পনায়(৩৮০)–দেখা যায় পাশ আর অঙ্কুশ একেবারে বর্জন না করলেও গণেশের হাতে এসেছে পদ্ম, পূর্ণকুম্ভ, কল্পকলতা, ধানের শিষ আর ডালিম ফল। এগুলি সবই উর্বরা-শক্তির প্রতীক(৩৮২) অতএব বার্তাশস্ত্রোপজীবী পর্যায়ের পক্ষেই প্রাসঙ্গিক—সে-পর্যায়েরই অবদান।
এগুলির মধ্যে বিশেষ করে একটি প্রতীক নিয়ে আলোচনা তুলবো। ডালিম-ফল। গণেশের হাতে এ-ভাবে ডালিম-ফল দেখা দেবার তাৎপর্যটা কী?
এই ডালিম-ফল যদি শুধুমাত্র গণেশের হাতেই দেখা যেতো তাহলে এর তাৎপর্যকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে না করলেও হয়তো চলতো। কিন্তু আসলে তা নয়। এই ফলটিকেই আমাদের দেশের নানান দেবদেবীর(৩৮৩) হাতে দেখতে পাওয়া যায়। আর শুধু আমাদের দেশেই বা কেন? দেশান্তরের দেবদেবীদের সঙ্গেও এই রক্তবর্ণ-বহুবীজ ফলটির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রাচীন গ্রীসের ডিমিটর-দেবীর(৩৮৪) প্রায় সমস্ত মূর্তিতেই দেখতে পাওয়া যায় তার হাতে ডালিম ফল রয়েছে। একই বৈশিষ্ট্য দেবী এথেনার—রোমানরা যাঁকে দেবী মিনার্ভ বলে কল্পনা করেছিলো। এথেন্স-এ পাওয়া মূর্তিতে দেখা যায় তাঁর হাতে এই ফলটিই রয়েছে(৩৮০)। অলিম্পিয়ায় পাওয়া মিলন্-এর(৩৮৬) মূর্তিতেও একই চিহ্ন; মিলন্ ছিলেন দেবী হেরা-র পুরোহিত। আগস্-এ পাওয়া হেরার মূর্তিতেও দেখা যায় তাঁর হাতে রয়েছে ডালিম-ফল(৩৮৭)।
