——————
৩৩১. R. P. Chanda IAR 150-1.
৩৩২. দৃষ্টান্ত বিরল নয়। বস্তুত তন্ত্র-প্রসঙ্গে আধুনিক বিদ্বানদের বেশির ভাগ
আলোচনাই এই জাতীয়।
৩৩৩. J. Marshall MIC 1:51.
৩৩৪. G. Thomson SAGS 41.
৩৩৫. Ibid. 144.
৩৩৬. Ibid. 43.
৩৩৭. Ibid.
৩৩৮. R. Briffault M &IV G Thomson SAGS 149-50.
৩৩৯. R. Briffault M 1:96-100, 195-267.
৩৪০. G. Thomson SAGS 149ff.
৩৪১. Ibid. 43.
৩৪২. H. L. Morgan AS 62.
৩৪৩. R. Briffault op. cit. 1:316ff.
৩৪৪. H. L. Morgan op. cit. 10-1.
৩৪৫. R. Briffault op. cit. 2:25If.
৩৪৬. Ibid. 3:59.
৩৪৭. A. B. Keith RPVU.
৩৪৮. M. Winternitz HIL 1:64.
৩৪৯. R. L. Mitra IA ch. xx.
৩৫০. M. Winternitz op. cit. 64.
৩৫১. S G. Childe A 78ff.
৩৫২. Ibid. 64.
৩৫৩. Ibid.
৩৫৪. F. Engels OFPPS 103.
৩৫৫. A. Macdonell VM 124ff.
৩৫৬. মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৯২ ৷
৩৫৭. M. Winternitz op, cit. 1:57; A. & Macdonell HSL45; A. B. Keith in CHI 1:77-8.
৩৫৮. A. A. Macdonell HSL 103, VM 124ff. ; R. G. Bhandarkar VS
142ff. W. Crooke in Folk-lore 30284sq., ইত্যাদি।
৩৫৯. ঋগ্বেদ ১০.৯০।
৩৬০. ঋগ্বেদ (রমেশচন্দ্র দত্ত) ১৫৭১।
৩৬. S. Radhakrishnan IP 104, osts
৩৬. A. B. Keith RPVU 57, 186-7, 256. 366. A. A. Macdonell. HSL 166. i.
৩৬. O. R. Ehrenfels MRI 2.
৩৬. Ibid 2, 98, 113.
৩৬৫. ক্ষিতিমোহন সেন : ভারতের সংস্কৃতি ১১ ৷
৩৬৬. ঐ ১৬।
২৫. গণেশচতুর্থী ব্ৰত: কৃষিআবিষ্কার ও মাতৃপ্রাধান্য
আমাদের ওই গণেশ ঠাকুরটি সত্যিই যেন সিদ্ধিদাতা। তাকে কেন্দ্র করেই ভারতীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আজো এমন অনুষ্ঠান টিকে রয়েছে যা থেকে আমাদের এই বর্তমান যুক্তিটির উপর প্রভূত আলোকপাত হতে পারে। আমাদের যুক্তি হলো, কৃষিআবিষ্কার মেয়েদের কাজ আর তাই কৃষিআবিষ্কারের প্রাথমিক পর্যায়ে মানব-সমাজে মাতৃপ্রাধান্য দেখা দিয়েছিলো। আমাদের দেশে গণেশচতুর্থী নামের একটি ব্ৰত অনুষ্ঠান প্রচলিত আছে। এ-অনুষ্ঠান স্পষ্টই কৃষি-কেন্দ্রিক। এবং এ-অনুষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যায় যে, পুরুষ-দেবতা ম্লান হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছেন, তার জায়গায় দেখা দিচ্ছেন এক নারী—গৌরী। আমাদের আলোচনায় তাই ব্রতটির সাক্ষ্য খুবই চিত্তাকর্ষক হবে।
গণেশচতুর্থী ব্রতের কিছুটা বর্ণনা পাওয়া যাবে নগেন্দ্রনাথ বসু(৩৬৭) সংকলিত ‘বিশ্বকোষ’-এ। পূর্ণতর বিবরণের জন্যে ১৯০৬ সালের ইণ্ডিয়ান এ্যান্টিকোয়ারি পত্রিকায় ঐযুক্ত বি. এস. গুপ্তের(৩৬৮) প্রবন্ধ পড়ে দেখা দরকার। প্রধানত তাঁরই প্রবন্ধের উপর নির্ভর করে আমরা এখানে অগ্রসর হবার চেষ্টা করবো।
ব্রতটি এখন প্রধানতই দক্ষিণাপথবাসীদের মধ্যে প্রচলিত। বোম্বাই ও পুণা অঞ্চলে এই উপলক্ষ্যে বিশেষ ধুমধাম হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে এই ব্রতের কোনো সম্পর্ক নেই। আসলে কিছুটা নামান্তরের ও কিছুটা রূপান্তরের আড়ালে এই ব্ৰতই আমাদের অঞ্চলেও বর্তমান রয়েছে। সে-কথায় পরে ফেরা যাবে।
ব্রতটি একদিনে উদযাপিত হয় না। সাতদিন ধরে একটানা এর অনুষ্ঠান চলে। কিন্তু মজা হলো, যদিও গণেশের নাম থেকেই ব্রতটির নামকরণ হয়েছে এবং যদিও ব্রত অনুষ্ঠান শুরু হবার আগে থাকতেই গণেশকে নিয়ে বেশ কয়েকদিন অনেক রকম সমারোহ করা হয়, তবুও আসল অনুষ্ঠানের মধ্যে খোদ গণেশকে দেখতে পাওয়া যায় মাত্র প্রথম দু-একদিন। বাকি ক’দিনের অনুষ্ঠানটির মধ্যে গণেশের কোনো স্থান নেই। হালকা ভাষায় বললে বলা যায়, প্রথম দু-একদিনের মধ্যেই সিদ্ধিদাতার যেন সুবুদ্ধি দেখা দেয়; কৃষিকেন্দ্রিক এই অনুষ্ঠানটিকে নেহাতই মেয়েলি ব্যাপার বলে চিনতে পেরে তিনি বিদায় নেন দৃশ্যপট থেকে। তার জায়গায়, ব্রতের কেন্দ্রে, এসে দাঁড়ান গৌরী। ফলে গণেশচতুর্থী-ব্রতের বেশির ভাগটাই হয়ে দাঁড়ায় গৌরী-ব্ৰত।
ভাদ্র মাসের চতুর্থ তিথিতে গণেশ-চতুর্থ ব্রতের শুরু। ওই দিনটিই বুঝি গণেশের জন্মদিন। পুণা ও বোম্বাই অঞ্চলে আজকাল অবস্থাপন্ন বাড়িতে গণেশমূর্তি কিনে এনে এই দিনটিতে মহা সমারোহে গণেশ-পুজো হয়। বলাই বাহুল্য, অবস্থাপন্ন পরিবারের সমারোহের মতোই এই পুজোপাঠের ব্যাপারটাও অবশ্যই অর্বাচীন। হয়তো তার আড়াল থেকে গণেশচতুর্থী ব্রতের প্রথম দিনকার অনুষ্ঠানের আদি ও অকৃত্রিম রূপটি খুজে পাওয়া কঠিন। দুঃখের বিষয়, ইণ্ডিয়ান-এ্যান্টিকোয়ারির প্রবন্ধ-লেখকও গণেশকে কৃষি-উৎসবের প্রতীক বলে প্রমাণ করবার ভ্রান্ত আগ্রহে (ভ্রান্ত কেন, সে-কথা একটু পরেই তোলা বাবে) গণেশচতুর্থী ব্রতের প্রথম দিনকার বর্ণনাটি দিতে ভুলে গিয়েছেন।
দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ভাদ্র পঞ্চমীর দিনই, গণেশের বিসর্জন।
এইভাবে, ব্ৰত অনুষ্ঠানের কেন্দ্র থেকে গণেশ বিদায় গ্রহণ করবার পর ব্রতটির তাৎপর্য স্পষ্টতর হয়ে উঠতে থাকে।
ভাদ্র ষষ্ঠীর দিন ভোর বেলাতেই মেয়েরা বেরিয়ে পড়ে একরকম শাকের গুচ্ছ সংগ্রহ করে আনতে। শাকগুলি উপড়ে কাপড়ে জড়িয়ে কুলোয় করে বাড়ি আনা হয়। তারপর, বাড়ি এনে সেগুলিকে ওই অবস্থায় চৌকির উপর স্থাপন করে চৌকির নিচে সিদুঁর দিয়ে আলপনা আঁকা হয়। সন্ধ্যার দিকে এই কলা-বৌ মূর্তিটির পাশে এসে বসে একটি কুমারী মেয়ে। সধবারা পরস্পরকে সিদুঁর পরিয়ে দেয়। তারপর, কলা-বৌকে নিয়ে বাড়ির ঘরে ঘরে ঘোরা হয়। সঙ্গে চলে কুমারী মেয়েটি। প্রত্যেকটি ঘরেই প্রশ্ন করা হয়, “গৌরী, গৌরী, কী এনেছো তুমি? কী দেখছো তুমি?” উত্তরে কুমারী মেয়েটি গৌরীর হয়ে জবাব দেয়, সে এনেছে প্রচুর ঐশ্বর্য, সে-দেখছে প্রচুর ঐশ্বর্য। কিন্তু শুধু ওই মুখের কথাটুকুই যথেষ্ট নয়। গৌরী যে এসেছিলেন, সত্যিই ঘরে ঘরে ঐশ্বর্য দিয়ে গিয়েছেন—
