• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 16, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

জেনারেল বোরিসের পি এস ভিক্টর কুমাকভ ঠিক সাড়ে আটটায় অফিসে গিয়ে পৌঁছল। জেনারেল বোরিস অফিসে আসেন নয়টায়। তাঁর জন্য সব ফাইল রেডি করা এবং দিনের কাজের একটা আউট লাইন দাঁড় করতে আধা ঘন্টা সময় ভিক্টর কুমাকভের দরকার হ্য়। সেই জন্য ভিক্টর কুমাকভের অফিস আওয়ার সাড়ে আটটা থেকেই।
অফিসে বসে ভিক্টর কুমাকভ সবে ফাইলে হাত লাগিয়েছে এমন সময় দরজা ঠেলে প্রবেশ করল অপারেশনাল উইং-এর ডিজি টিটভ। তার হাতে একটা ফাইল। ফাইলটা টেবিলে রেখে বলল, ফাইলটার কাজ ইমিডিয়েটলি হওয়া দরকার। আমি দশটায় ফাইল ফেরত নেয়ার জন্য আসব।
ভিক্টর কুমাকভ মাথা নেড়ে বলল, ঠিক আছে।
বেরিয়ে গেল টিটভ।
ভিক্টর কুমাকভ হাতের ফাইল্টা রেখে ‘টপ সিক্রেট’ ‘টপ প্রায়োরিটি’ লেবেল আঁটা টিটভের ফাইলে মনোযোগ দিল। দেখল ফাইলের ভিতরে একটা ইনভেলাপ আঠা দিয়ে মুখ আঁটা। বিশেষ গোপনীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ছাড়া কোন ডকুমেন্টই মুখ আঁটা অবস্থায় পি,এস এর কাছে আসেনা।
ইনভেলাপটি হাতে নিয়ে কয়েকবার নাড়াচাড়া করল ভিক্টর কুমাকভ। অপারেশনাল উইং থেকে আসা এমন জরুরী মুখবন্ধ ডকুমেন্টের অর্থ হলো এর মধ্যে নিশ্চয় কোন অপারেশন সংক্রান্ত পরিকল্পনা আছে। এই চিন্তার সাথে সাথে ইনভেলাপের ডকুমেন্টের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে গেল ভিক্টরের।
পাঠকদের মনে থাকার কথা এই ভিক্টর কুমাকভের আসল নাম যুবায়েরভ। সাইমুমের গোয়েন্দা ইউনিটের একজন কর্মকর্তা ইনি। আগে ইনি সিক্যুরিটি বিভাগের রেকর্ড সেকশনে ছিলেন। অরুশ তূর্কী, বিশেষ করে মুসলিম অফিসার কর্মচারীদের রুশ অঞ্চলে ট্রান্সফার করার পর এখানে আগে থেকে কর্মরত রুশ কর্মচারীরা তাদের অভিজ্ঞতার কারণে বড় বড় শিফট পেয়ে যান। সেই সুবাদে দায়িত্বশীল ও কর্তব্যনিষ্ঠ বলে পরিচিত যুবায়েরভ জেনারেল বোরিসের পার্সোনাল সেক্রেটারী পদ লাভ করেছে। সাইমুম একে তাদের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ রহমত হিসেবে মনে করছে।
ইনভেলাপ শেষ পর্যন্ত খোলারই সিদ্ধান্ত নিল যুবায়েরভ। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখল তখন ৮ টা ৭ মিনিট। যুবায়েরভ তাড়াতাড়ি উঠে পাশের টেকনিক্যাল রুমে গেল। সর্বাধুনিক ইনভেলাপ ওপেনারও আছে সেখানে। সুইচ টিপে যন্ত্রের মধ্যে ইনভেলাপটি ঢুকিয়ে দিল ইনভেলাপের আঠা বিন্দুমাত্র নষ্ট না করেই ইনভেলাপ খুলে দেয়। কাজ সেরে ইনভেলাপের আঠাতেই সেটা আবার বন্ধ করা যায়। ধরবার কোন উপায় থাকেনা।
ভিক্টর ইনভেলাপ ওপেনার দিয়ে দ্রুত ইনভেলাপটি খুলে ফেলল।
ইনভেলাপের ভিতরে টাইপ করা দুটো কাগজ। একটা হল তথ্য-বিবরণী, আরেকটা অপারেশন প্ল্যান।
যুবায়েরভ দ্রুত কাগজ দু’টির ফটো করে নিল। তারপর মূল কাগজ দুটি ইনভেলাপে ঢুকিয়ে আবার ইনভেলাপের মুখ বন্ধ করে দিল।
ঠিক ন’টায় বোরিস অফিসে এল। যুবায়েরভ নিয়ম অনুসারে অপারেশনাল উইং-এর টপ প্রায়োরিটি তার কাছে পেশ করল।
যুবায়েরভের মনটা উসখুস করছিল। তথ্য-বিবরণী ও অপারেশন প্ল্যানের শিরোনাম ছাড়া আর কিছুই পড়া হয়নি তার। শিরোনাম দেখেই বুঝেছে লেনিন স্মৃতি পার্ক নিয়ে তারা কিছু করতে যাচ্ছে।
এসময় টেলিকম কথা বলে উঠায় তার চিন্তায় ছেদ পড়ে গেল। টেলিকমে কথা বলছিল জেনারেল বোরিস। বলল সে, ভিক্টর টিটভ কখন আসবে বলেছে?
-দশটায়। বল যুবায়েরভ।
-না দশটায় নয়, এখুনি আসতে বল।
-বলছি স্যার।
টেলিকম বন্ধ হয়ে গেল। যুবায়েরভ অয়্যারলেসে টিটভের সাথে যোগাযোগ করল। তাকে জানাল জেনারেলের নির্দেশের কথা।
অয়্যারলেস বন্ধ করে দিয়ে চেয়ারে গা এলিয়ে দিল যুবায়েরভ। ব্যাপারটা নিশ্চয় জরুরী। তা নাহলে জেনারেল বোরিস ১০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবেননা কেন! আর স্থির থাকতে পারলো না যুবায়েরভ। অবশেষে কাগজ দু’টো নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করল সে।
প্রথমে অপারেশন প্ল্যানটায় চোখ বুলাল যুবায়েরভ। চোখ বুলাতে গিয়ে চোখ দু’টো ছানাবড়া হয়ে উঠল তার। আজ রাত ১ টা থেকে লেনিন স্মৃতি পার্কে ওদের কম্বিং অপারেশন। সন্ধ্যা ৬ টা থেকে আফগান সীমান্তে সশস্ত্র গোয়েন্দাদের পাহারা বসান হবে যাতে একটা পিঁপড়াও সীমান্ত অতিক্রম না করতে পারে।
লেনিন স্মৃতি পার্কের সব বিষয়ে নজর রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে গোয়েন্দা মোতায়েনের উল্লেখ আছে। বেলা ৩ টায় ষ্ট্যালিনবাদ থেকে আর্মি মুভ করাবে, রাত ৯ টায় লেনিন স্মৃতি পার্কে তারা পৌঁছবে।
তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ আছে, লেনিন স্মৃতি পার্কে সাইমুম বিরাট এক অস্ত্রাগার গড়ে তুলেছে। লেনিন স্মৃতি পার্কের প্রধান প্রবেশ পথে যে গোপন ক্যামেরা আছে তার ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মস্কোভা জেল থেকে পালানো আয়েশা আলিয়েভ ও রোকাইয়েভা, রোকাইয়েভার মা, হিসার দূর্গের মোল্লা আমীর সুলাইমানের মেয়ে শিরীন শবনম এই লেনিন স্মৃতি পার্কে প্রবেশ করেছে। তারা বের হবার প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। সর্বশেষ মস্কো থেকে পালানো ১০ জন ছাত্রীও সেদিন এখানেই এসে উঠেছে। সব মিলিয়ে ধরে নেয়া হয়েছে লেনিন স্মৃতি পার্ক সাইমুমের এক বিরাট ঘাটি। পড়া শেষ করে যুবায়েরভ বেরিয়ে এল বাথরুম থেকে। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। উদ্বেগে ছিঁড়ে যাচ্ছে যেন হৃদয়টা। এই মূহূর্তেই খবর পৌঁছানো দরকার হেড কোয়ার্টারে। কিন্তু বেলা ১টার আগে অফিস থেকে বেরুবার কোনই উপায় নেই।
নিদারুণ উদ্বেগে সময় কাটছিল যুবায়েরভের। চেয়ারে হেলান দিয়ে মনটাকে একবার স্থির করতে গিয়ে ঘুম এসে গিয়েছিল তার চোখে। এ সময় রুমে প্রবেশ করল জেনারেল বোরিস। যুবায়েরভের অবস্থা দেখে জেনারেল বোরিস একটু উদ্বিগ্ন হয়েই বলল, তোমার শরীর খারাপ নয়তো ভিক্টর?
দ্রুত সোজা হয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যুবায়েরভ বলল, একটু খারাপ বোধ করছি স্যার।
-এতক্ষণ বলনি কেন? আমার আজ তেমন কাজ নেই। তুমি চলে যেতে পার।
আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া আদায় করে যুবায়েরভ বেলা ১১ টায় অফিস থেকে বেরিয়ে এল। বেরিয়ে সোজা চলে এল বাড়ীতে।
নিজের রুমে ঢুকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিল। ষ্টীল আলমারীটা খুলে বের করল একটা এটাচি কেস। এটাচি খুলতেই বেরিয়ে পড়ল একটি শক্তিশালী রেডিওগ্রাহক যন্ত্র। বৈধ লাইসেন্সের অধীনে রাখা অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রাহক যন্ত্র এটা। কিন্তু এই গ্রাহক যন্ত্রের নিচের অংশে বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক একটি রেডিও ট্রান্সমিটার।
হাজার বর্গমাইলের মধ্যে যে কোন জায়গায় এর মাধ্যমে খবর প্রেরণ ও গ্রহন করা যায়। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এর ট্রান্সমিশনের অবস্থান ডিটেক্ট করার কোন যন্ত্র এখনও উদ্ভব হয়নি।
যুবায়েরভ চিন্তা করল, প্রথমেই ব্যাপারটা লেনিন স্মৃতি পার্কে আলদর আজিমভকে জানিয়ে দেয়া দরকার। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবল, না প্রথমে হেড কোয়ার্টারকেই জানানো উচিত। এই খবর কোথায় কিভাবে কতখানি পাঠানো হবে সেটা হেডকোয়ার্টারই ভাল বুঝবে।
যুবায়েরভ সালাম জানিয়ে বলল, মুসা ভাই জরুরী মেসেজ।
-ভাল আছ তো?
-জি হ্যাঁ।
-বল তোমার মেসেজ।
যুবায়েরভ তার স্মৃতি থেকে তথ্য বিবরণী ও অপারেশন প্ল্যানের পুরো বিবরণ রিলে করল আহমদ মুসার কাছে।
মেসেজ শেষ হলে ওপার থেকে আহমদ মুসা বলল, বড় একটা জায়গাকে ওরা টার্গেট করেছে যুবায়েরভ। আল্লাহ নিশ্চয় আমাদের সাহায্য করবেন। তোমাকে মোবারকবাদ, আল্লাহ তোমাকে দিয়ে জাতির একটা বিরাট খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন।
এপার থেকে যুবায়েরভ বল, দোয়া করুন মুসা ভাই। দুনিয়ার স্বার্থ সম্পদ কিছুই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই আল্লাহর বান্দাহদের কল্যাণ এবং যা কিছু করতে পারছি তার বিনিময়ে আল্লাহ যেন দয়া করে আমাদের পরকালীন মুক্তির ব্যবস্থা করেন।
আহমদ মুসা ওপার থেকে ‘আমিন’ বলে অয়্যারলেসের লাইন কেটে দিল।
শহিদ আনোয়ার পাশা ঘাঁটিতে আহমদ মুসার রুমে পরামর্শে বসেছে আহমদ মুসা, হাসান তারিক এবং কর্ণেল কুতাইবা। যুবায়েরভের পাঠানো তথ্য নিয়ে অনেক আলোচনা হল। সবশেষে আহমদ মুসা বলল, আমরা লেনিন স্মৃতি পার্কে ‘ফ্র’-এর সাথে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে চাইনা। ভেতর থেকেই আজ যখন এরা ভেংগে পড়ার মুখোমুখি, তখন একে আমি অনর্থক মনে করি। আমি লেনিন স্মৃতি পার্ক ঘাঁটি সরিয়ে আনতে চাই। শুধু আলদর ক্ষুদ্র দল নিয়ে ওখানে থাকবে। অস্ত্রগুলো সীমান্তের ওপারে আমাদের আফগান ঘাটিতে আপাতত রাখা হোক। মেয়েদের সরিয়ে আনতে হবে বখশ নদীর তীরে আলী ইব্রাহীমের ওখানে গুলমহল ঘাঁটিতে। আর ষ্ট্যালিনবাদ থেকে যে কম্যুনিষ্ট সেনাদল লেনিন স্মৃতি পার্কে যাত্রা করবে তাদের আমরা পথেই আটকাতে চাই। আমার মতে উদ্ভূত পরিস্থিতি আমরা এভাবেই মোকাবিলা করতে পারি।
হাসান তারিক এবং কুতাইবা মাথা নেড়ে সায় দিল আহমদ মুসার কথায়।
পরামর্শের পর আহমদ মুসা গিয়ে বসল অয়্যারলেস সেটের পাশে। যোগাযোগ করল লেনিন স্মৃতি পার্কে আলদর আজিমভের সাথে। মুসা তাকে বলল, আমি তো মনে করি ওখানকার গোয়েন্দাদের ট্যাকল করতে তোমার লোকরাই যথেষ্ট!
ওপার থেকে আলদর আজিমভ বলল, দোয়া করুন, মোতায়েন হবার পর ওদের গোয়েন্দারা আমাদের হাতে ধরা পড়ে যাবে।
আহমদ মুসা আবার বলল, লেনিন স্মৃতি পার্ক ঘাঁটি থেকে আপাতত জমা অস্ত্রগুলো এবং মেয়েদের সরিয়ে নিতে হবে। সব পরামর্শ দিয়ে ওখানে হাসান তারিক এবং কুতাইবাকে পাঠাচ্ছি। সবাইকে আমার সালাম বলো। বলে আহমদ মুসা অয়্যারলেস বন্ধ করে দিল।
তারপর বখশ নদীর তীরের ঘাটিতে আলী ইব্রাহীমের সাথে যোগাযোগ করে বলল, তোমরা তৈরী থেকো আমি আসছি। একটু থেমে বলল, আমার মনে হয়, প্রস্তুত হয়ে তোমরা যদি পশ্চিমে এগিয়ে যাও এবং বখশ শহরের ৫০ মাইল পূর্বের ব্রীজ টার কাছে ৫টার মধ্যে পৌছে যাও তাহলে সেখানেই আমার সাথে তোমাদের দেখা হতে পারে এবং এটাই সবদিক থেকে ভাল হবে।
ওপার থেকে আলী ইব্রাহিম বলল, আমরা আপনার এ পরামর্শ অনুসারে কাজ করব।
আরেকটা জরুরী কথা, বলল, আহমদ মুসা, গুলমহলে আমাদের ঘাটির কাজ কি কমপ্লিট?
-জি হ্যাঁ। বলল, আলী ইব্রাহীম।
একটূ থেমে আবার সে বলল, এখন আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি।
-না করে আর উপায়ও নেই আলী ইব্রাহীম। আমাদের লেনিন স্মৃতি পার্ক ছাড়তে হচ্ছে। সম্ভবত আজই আমাদের মেয়েরা গুলমহল ঘাটিতে পৌছে যাবে।
-ঠিক আছে, ওখানে সব ব্যবস্থাই কমপ্লিট। হাসান তারিক ভাই সব কিছু জানেন।
-আর কোন কথা আলী ইব্রাহিম?
-নেই জনাব।
-ইনশাআল্লাহ ৫টার মধ্যে ওখানে আমাদের দেখা হচ্ছে।
বলে আহমদ মুসা অয়্যারলেস রেখে দিল। তারপর উঠে ফিরে দাঁড়াল হাসান তারিক ও কুতাইবার দিকে। বলল তোমরা এখনি রওনা হও লেনিন স্মৃতি পার্কে। সীমান্তের ওপারে অস্ত্র পাঠানোর কাজ সহজেই হয়ে যাবে। আগামী ভোরের আগেই তোমরা আমাদের মেয়েদের গুলমহল ঘাটিতে পৌছাতে পারবে ইনশাআল্লাহ। আমরাও আলী ইব্রাহিমের ঘাটি হয়ে ওখানে সকালের দিকে যেতে পারি।
বলে আহমদ মুসা হাত বাড়িয়ে দিল ওদের দিকে হ্যান্ডশেকের জন্যে।
হ্যান্ডশেক করতে করতেই কুতাইবা বলল, আপনার সাথে কে যাচ্ছে মুসা ভাই?
-জীপ নিয়ে যাব। দেখি, দু’একজন কেউ সাথে গেলেই চলবে। আহমদ মুসা বিদায় হলো ওদের কাছ থেকে। জীপ রেডি ছিল। ঘাঁটি প্রধান আলী আমর লোক বাছাই করে আগেই তুলে দিয়েছিল জীপে। আহমদ মুসা এসে জীপের ড্রাইভিং সিটে বসল। স্টার্ট নিল জীপ। আহমদ মুসা বিসমিল্লাহ বলার সাথে চলতে শুরু করল। জীপ ছুটে চলল পামির সড়কের দিকে।
ব্যবসার কাফেলার আনাগোনা ছাড়া পামির সড়ক আজকাল প্রায় শূন্যই থাকে। ‘ফ্র’ এর কম্যুনিস্ট সরকারের বাহিনী এখন বড় বড় দল ছাড়া বিচ্ছিন্ন ভাবে বের হয় না। স্থানীয় লোকদের নিয়ে গঠিত সরকার ও কম্যুনিস্ট পার্টি ভেঙ্গে দেবার পর তারা নিজেরাও এখন নিজেদেরকে জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবছে। সুতরাং জনগনকে তারা ভয় করে। বিরাট কোন বাহিনী বহর ছাড়া এখন রাস্তায় বের হয় না বললেই চলে। সুতরাং সাইমুমের জন্য মধ্য এশিয়ার সব রাস্তা আজ প্রায় নিরাপদ হয়ে গেছে।
পামির সড়ক দিয়ে তীব্র গতিতে এগিয়ে সেই ব্রীজের দিকে যাচ্ছিল আহমদ মুসার জীপ। ৪টার দিকে বখশ শহর অতিক্রম করে সোয়া চারটার দিকে সে বখশ শহর থেকে ৫০ মাইল দুরের সেই ব্রীজের কাছে পৌছল।
জায়গাটার নাম সফেদকোহ। এই এলাকার সবচেয়ে উচু পর্বত এখানেই। এ পর্বতের মাথায় আইস ক্যাপ আছে। ওখানে বরফ জমে থাকে প্রায় সারা বছরই। এই থেকে এ জায়গাটার নাম হয়েছে সফেদকোহ। এখানে এসে পামির সড়ক অনেক উচু। সফেদকোহর মাঝখান দিয়ে একটা সংকীর্ণ ও গভীর উপত্যকা। সে উপত্যকা দিয়ে অত্যন্ত খরস্রোতা একটা পাহাড়ী নদী প্রবাহীত। উপত্যকার উপর একটা বড় ব্রীজ পামির সড়কের সংযোগ সাধন করেছে।
ব্রীজের কাছে এসে আহমদ মুসা সাইমুমের কোডে হর্ন বাজাল। মুহূর্ত কয়েকের মধ্য রাস্তায় স্বয়ং আলী ইব্রাহীম নেমে এসে আহমদ মুসাকে স্বাগত জানাল।
আহমদ মুসা প্রথমেই তাকে বলল, জীপটাকে কোথাও সামলানো দরকার। মুহূর্তে সামলানো হলো জীপটা। কিছু পথ ঘুরে পাহাড়ের একটা গলিপথ দিয়ে জীপটাকে একটা পাহাড়ের আড়ালে নিয়ে আসা হলো।
তারপর আহমদ মুসা আলী ইব্রাহীমকে নিয়ে পরামর্শে বসল। প্রথমে আলী ইব্রাহীমের কথা শুনে নিয়ে আহমদ মুসা উপসংহার টানল এইভাবে। আমাদের লোকেরা ব্রীজের এপারে রাস্তার দুধারে পাহাড়ে মোতায়েন থাকবে। রাস্তার একপার তুমি, অন্য পারে আমি তাদের সাথে থাকব। ব্রীজ আমরা ওদের পেরোতে দেবো না। আমার জীপে দেখ একটা স্ট্যান্ড সাইন বোর্ড আছে। ওটা আমরা ব্রীজ থেকে দু’শ গজ ওপারে রাস্তার উপর রেখে দেব। ওতে নির্দেশ দেখার পর তারা স্বাভাবিক ভাবেই মনে করবে ব্রীজের ওপারে তাদের জন্যে প্রতিরোধ অপেক্ষা করছে, এ অবস্থায় তারা তিনটা কাজ করতে পারে। এক, তারা এখানে সামনে অগ্রসর হবে। দুই, তারা পিছনে সরে যাবে। তিন, তারা এখানে নেমে পড়ে রাস্তার দুধারে আশ্রয় নিয়ে স্ট্যালিনবাদ কিম্বা বখশ শহর থেকে বিমান সাহায্যর জন্য অপেক্ষা করবে। তিন অবস্থার মধ্যে তারা যদি পিছিয়ে যায় তাহলে আমরা তাদের যেতে দেব। কিন্তু যদি তারা সামনে অগ্রসর হয় কিম্বা নামার চেষ্টা করে অথবা অন্য কোন তৃতীয় পন্থার আশ্রয় নেয়, তাহলে আমরা তৎক্ষণাৎ ওদের উপর এন্টি ট্যাংক ডিনামাইট দিয়ে আক্রমন চালাব রাস্তার দুপাশ থেকে।
এ্যান্টি ট্যাংক ডিনামাইট সাইমুমের অস্ত্রাগারে নতুন আমদানী। কম্যুনিস্ট সরকারেরই এক মুসলিম বিজ্ঞানীর ফর্মূলায় তৈরী এটা। তৈরীও হয়েছে কম্যুনিস্ট সরকারের ফ্যাক্টরীতে। এই ডিনামাইট ছোড়ার ঝুঁকি অতি সামান্য কিন্তু ৯০ ফুট আয়তনের মধ্য এর ধ্বংসকারী ক্ষমতা অতি ভয়াবহ।
বেলা ৫ টা বেজে ৪মিনিট। এ সময় আহমদ মুসার দূরবীনে ধরা পড়ল ৩০টি সামরিক ট্রাকের একটা কনভয় উঠে আসছে পামির সড়কের ঢাল বেয়ে।
আহমদ মুসা দ্রুত হিসাব করল সাইনবোর্ড স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে ৩০টি ট্রাক পিছন দিকে কতটুকু জায়গা নেবে। হিসাব করে পকেট অয়্যারলেসে রাস্তার ওপারে আলী ইব্রাহীমকে জানিয়ে দিল তার লোকজনদের পিছনের দিকে কতটা ছড়িয়ে দিতে হবে।
ঠিক ৫টা ১০মিনিটে ৩০টা ট্রাকের কনভয় এসে হাজির হলো আহমদ মুসাদের বেষ্টনীর মধ্যে। ট্রাক বহরের সামনে ছিল একটা জীপ। জীপটা রাস্তার স্ট্যান্ড সাইনবোর্ডের ৫গজের মধ্যে এসে দাঁড়াল। এক এক করে সব গুলি ট্রাক একটার পেছনে আরেকটা দাঁড়িয়ে পড়ল।
জীপে ড্রাইভারের পাশের সিটে একজন ব্রিগেডিয়ার বসেছিল। সে সাইনবোর্ড পড়ল তারপর পিছনের অফিসারদের সাথে আলোচনা করল।
আহমদ মুসা সাইন বোর্ডের সমান্তরাল এক পাথর খন্ডের আড়াল থেকে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছিল। আহমদ মুসার পাশেই ডিনামাইট হাতে প্রস্তুত একজন।
জেনারেল তার অধঃস্তনদের সাথে কি পরামর্শ করল জানা গেল না। কিন্তু দেখা গেল অয়্যারলেস মুখের কাছে তুলে নিয়ে কি যেন নির্দেশ দিল। পরক্ষণেই দেখা গেল ৩০টি ট্রাকের দুপাশের মোতায়েন রাখা কামানের লোকগুলো নড়ে চড়ে প্রস্তুত হয়ে উঠল। তারপর জেনারেলের জীপ নড়ে উঠে দ্রুত অগ্রসর হলো সামনে।
জীপটি তখন রাস্তার সেই সাইনবোর্ডের উপর গিয়ে পড়েছে, জীপের বলিষ্ট চাকার আঘাতে সাইনবোর্ডটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যখন ছিটিয়ে পড়ছে, ঠিক সে সময় রাস্তার দুপাশ থেকে দুটো ডিনামাইট এসে জীপকে আঘাত করল। মাত্র কয়েক সেকেন্ড! প্রচন্ড বিস্ফোরণের মধ্যে জীপটি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেল। গোটা রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন।
প্রথম ডিনামাইট দুটির শব্দ মিলিয়ে যাবার আগেই রাস্তার দুধার থেকে ৩০টি সামরিক ট্রাক লক্ষ্যে বৃষ্টির মত নিক্ষিপ্ত হল ডিনামাইট।
তারপরের দৃশ্যটা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। কোন কোন কামানের নল একটু উচু হয়েছিল গোলাবষর্ণের জন্যে, কেউ কেউ কামানের বোতাম টিপতে যাচ্ছিল কিন্তু সব ডুবে গেল অনেক ডিনামাইটের সম্মিলীত বিস্ফোরণের আকাশ ভেদী শব্দে। মুহুর্তে গোটা রাস্তা অগ্নিগোলকে পরিণত হল। অনেক্ষন পর সেই আগুন কিছুটা থামল, তখন ট্রাকগুলো দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া চেসিস এবং ইতঃস্তত ছিটানো ইস্পাতের টুকরো ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ল না।
আহমদ মুসা দূরবীন চোখে ধরেই বসে ছিল, মৃত্যু ও ধ্বংসের দৃশ্য থেকে সে চোখ সরাতে পারছিল না। এইতো জ্বলজ্যান্ত মানুষগুলো ছিল, কোথায় হারিয়ে গেল নিমেষে! কি মর্মান্তিক এই হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। এদের মা আছে, স্ত্রী আছে, ছেলে মেয়ে আছে। কত স্নেহ কত আকুলতা নিয়ে তারা পথ চেয়ে থাকবে। তারপর যখন খবর পৌছবে কি ভাববে তারা? কেমন হবে তখনকার দৃশ্য? তারা কি বুঝবে সেই রাজনীতির কথা যে রাজনীতি তাদের ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে, যে রাজনীতি মানবতার কন্ঠ রোধ করা আর মানুষের শান্তি স্বাধীনতা হরণ করার অস্ত্র হিসাবে তাদের প্রিয়জনদের ব্যবহার করছে। চোখ দুটি আহমদ মুসার সিক্ত হয়ে উঠেছিল।
আলী ইব্রাহীম এসে ধীরে ধীরে একটা হাত রাখল আহমদ মুসার কাঁধে।
আহমদ মুসা ধীরে মুখটা তার ঘুরিয়ে নিয়ে আলী ইব্রাহীমের দিকে চেয়ে বলল, আমরা তো এই হত্যাযজ্ঞ চাইনি আলী আব্রাহীম, কেন তা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে আমাদের উপর।
কন্ঠ ভারী আহমদ মুসার।
আলী ইব্রাহীম বলল, জনসমর্থন হারিয়ে ওরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। একমাত্র শক্তির জোরে রক্ত সাগর বইয়ে হলেও ওরা টিকে থাকতে চায়। তা না হলে ওরা লেনিন স্মৃতি পার্কের মত জায়গায় বাড়তি ৩০ ট্রাক সৈন্য পাঠাবে কেন?
ছাই এর স্তুপ, পোড়া দেহ এবং কুন্ডলি পাকান ইস্পাত রাশির দিকে আবার চোখ ফিরিয়ে আহমদ মুসা অনেক স্বগত কন্ঠেই বলল, কাজ আমাদের দ্রুত করতে হবে আলী ইব্রাহীম। আল্লাহর বান্দাদেরকে এদের ধ্বংশকারী অক্টোপাশ থেকে বাঁচাতে হবে।
বখশ নদী তীরের আলী ইব্রাহীমের ঘাটি এবং এই নদীর তীরে অবস্থিত আলী ইব্রাহীমের গ্রাম গুলমহলের মাঝামঝি জায়গায় পাহাড়ের দেয়াল আর নদী ঘেরা উপত্যকায় গড়ে তোলা হয়েছে গুল মহল ঘাটি। সবুজ বনানীর মধ্যে সবুজ রং করা পাথর দিয়ে গড়ে তোলা এই লোকালয় উপর থেকে চোখই পড়ে না। একটু দুর থেকেও এর অস্তিত্ব ভালভাবে বুঝা যয় না। আলী ইব্রাহীমের ঘাটি হয়ে আসাই এখানে আসার সবচেয়ে সহজ পথ। খরস্রোতা বখশ নদীপথে স্পিডবোট দিয়েও এখানে আসা যাওয়া করা যায়।
সাইমুমের হাসপাতাল এবং মেয়েদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবেই একে গড়ে তোলা হয়েছে।
গতরাতে লেনিন স্মৃতি পার্ক থেকে মেয়েদের এখানে আনা হয়েছে।
সম্প্রতি মস্কো থকে পালিয়ে আসা ছাত্রীরাও এখানে আশ্রয় নিয়েছে, একমাত্র ফারহানা ছড়া।
লেনিন স্মৃতি পার্ক থেকে অস্ত্র সরান এবং মেয়েদের এখানে নিয়ে আসরা সব বিবরণ দিচ্ছিল তারিক আহমদ মুসার কাছে।
সে বলছিল, এ কাজে কোন অসুবিধাই হয়নি। আলদর আজিমভের পাতা ফাঁদে ‘ফ্র’ এর সব গোয়েন্দা ধরা পড়ে যায়। লেনিন স্মৃতি পার্ক প্রশাসনের কিছু বুঝার আগেই আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি। বিনা রক্তপাতেই আমরা সবকটা কাজ সমাধান করতে পেরেছি। রাত ৯টায় আর্মি আসা এবং ১টায় অপারেশন এই রুটিন প্রোগামের দিকেই তাদের সবার নজর ছিল। এর বাইরে কোন কিছু তারা চিন্তা করতে পারেনি।
একটু থেমে হাসান তারিক বলল, আসার পথে পামির সড়কে হঠাৎ করে আব্দুল্লায়েভের সাথে আমাদের কাফেলার দেখা হয়ে যায়। পিতার ভীষণ অসুখের খবর শুনে ফারহানা ঐখানে নেমে পড়ে আব্দুল্লায়েভের সাথে চলে যায়।
উদ্বিগ্ন আহমদ মুসা প্রশ্ন করল, অসুখের কিছু বিবরণ শুনেছ?
-অল্প শুনেছি, পাহাড় থেকে নামার পথে পড়ে গিয়েছিল। সেই থেকে শরীরটা ক্রমশ তার খারাপ হয়েই চলছে। হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু তাদের পিতা রাজী হয়নি।
আহমদ মুসা আর কিছু বলল না। বৃদ্ধ আব্দুল গফুরের চেহারা তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। ওয়াদা দিয়েছিল সে মাঝে মাঝে ওখানে যাবার কিন্তু সময় করে উঠতে পারেনি আহমদ মুসা। আজ মনটা যেন বলে উঠতে চায়, অসুখের খবর পেয়ে ফারহানা ছুটে গেছে, তারও উচিত যাওয়া।
এ সময় খবর এল দাদী তাদের ডাকছে। রোকাইয়েভের দাদীই আজ সকলের দাদীতে পরিণত হয়েছে। সকলের কাছে দাদী অসীম ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র। গোটা মেয়ে মহলের অভিভাবিকা এখন সে। তার ডাক পেয়ে আহমদ মুসা এবং হাসান তারিক দুজনেই সেদিকে চলল।
মেয়েদের জন্য যে হল বরাদ্দ হয়েছে তার, অতিথি রুমে গিয়ে আহমদ মুসা ও হাসান তারিক বসল।
সাদা চাদর গা মুড়ে দাদী এসে ভেতরের দরজার পাশেই একটা চেয়ারে বসল। বয়সের ভারে দেহটা একটু নুয়ে পড়েছে। কিন্তু হাঁটতে পারেন ভালভাবেই। চশমাও ব্যবহার করতে হয় না।
দাদী এসে প্রবেশ করতেই আহমদ মুসা এবং হাসান তারিক তাকে সালাম জানাল।
দাদী সালাম নিয়ে বসতে বসতে বলল, বেঁচে থাক ভাইয়া, আল্লাহ তোমাদের হায়াত দরাজ করুন।
-দাদী আমাকে মাফ করবেন, নানা কাজে ব্যস্থ থাকায় এতদিন আপনার সাথে দেখা করার সুযোগ করে উঠতে পারিনি। বলল আহমদ মুসা।
– না না, ঠিক আছে তাতে হয়েছে কি! আমি তো জানি তোমরা কত ব্যস্ত। তোমরা আমার গর্ব।
একটু থামল দাদী, তারপর বলল, হাসান তুমি একটু বাইরে যাও মুসার সাথে একা কয়েকটা কথা বলব।
হাসান তারিখ বাইরে বেরিয়ে গেল। হাসান তারিক বেরিয়ে গেলে আহমদ মুসা একটু নড়ে চড়ে বসে বরল, বলুন দাদী।
-আমি বলতে চাই, তুমি তোমার বোনদের কথা কিছু কি ভাব?
-কোন বোনরা দাদী?
-তোমার যে বোনরা এখানে আছে?
-হ্যাঁ ভাবিতো। কোন ভাবনার কথা বলছেন?
-আমি তোমার বোনদের বিয়ের কথা বলছি। ইসলামী শরিয়তের বিধান, মেয়ে বড় হলে তাড়াতাড়ি তার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে আমি মাঝে মাঝে অস্বস্তিবোধ করি কিন্ত তোমরা কিছুই ভাব না।
-দাদী, আপনি অভিভাবক হিসেবে এ ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করলে আমরা খুশি হবে।
-বোকা ভাই তুমি তো সকলের সর্দার, তোমাকেই ভাবতে হবে, সব ব্যবস্থা তোমাকেই করতে হবে।
-দাদী জানেন তো, আমি খুব ব্যস্ত।
-আমি জানি সেটা কিন্ত ইসলাম তো ভারসাম্যের ধর্ম। যুদ্ধের ময়দানে তুমি যাবে, জেহাদের ময়দানে তুমি থাকবে কিন্তু তার অর্থ তোমার ঘর থাকবেনা তা নয়। ঘর এবং বাইর দুটো নিয়েই তোমার জীবন, কোন একটি বাদ দিয়ে নয়। এ ব্যাপারে ইসলামের স্পষ্ট বিধানও আছে তুমি জান।
-জানি দাদী, একটু থেমে আহমদ মুসা বরল, পরামর্শ দিন দাদী।
-তোমার কোন চিন্তা আছে কিনা জানালে আমার পরামর্শ বলতে পারি।
একটু থামল আহমদ মুসা। একটু চিন্তা করল। তারপর বলল, সকলের মত আমার জানা নেই, তবে আমার মনে হয়েছে আয়েশা আলিয়েভাকে হাসান তারিক, শিরীন শবনমকে কুতাইবা এবং রোকাইয়েভাকে যুবয়েরভের সাথে বিয়ে দেয়ার কথা আমরা চিন্তা করতে পরি। অন্যদের ব্যাপারেও এইভাবে ভেবে দেখা যেতে পারে।
দাদী একটু হাসল, বলল, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন।
তুমি ঠিকই ভেবেছ, আমিও এরকম চিন্তা করেছি।
একটু থেকে দাদী আবার বলল, হাসান তারিক, কুতাইবা এখানে হাজির আছে, যুবায়েরকে খবর দিলে সেও আসবে, তোমাকেও পেয়েছি। আমি আজই এই বিয়ের কাজ সেরে ফেলতে চাই।
-আমি আপনার সাথে একমত দাদী কিন্ত ওদের মতটা না জেনে একেবারে ফাইনাল করা..।
-তিন ছেলের মত সম্পর্কে তোমার বক্তব্য?
-এ প্রস্তাবের সাথে তারা দ্বিমত করবে না।
-ঠিক আছে আমি মেয়েদের মতটা নিয়ে আসছি।
বলে দাদী ভেতর চলে গেল।
ভেতরে লাইব্রেরীতেই সবাইকে পেল। আয়েশা আলিয়েভা, শিরীন শবনম ও রোকাইয়েভাকে রেখে সবাইকে লাইব্রেরী থেকে বের করে দিল দাদী।
-কি ব্যাপার দাদী সবাইকে বের করে দিলেন কেন? প্রশ্ন রাখলো আলিয়েভা।
-তোমাদের তিনজনের সাথে জরুরী কথা আছে।
-কি ব্যাপার, আমরা কি কিছুর আসামী নাকি? বলল রোকাইয়েভা।
কিন্তু রোকাইয়েভার কথার দিকে কান না দিয়ে দাদী গম্ভীর কণ্ঠে বলল, দেখ তোমাদের বয়স হয়েছে। তোমাদের ব্যাপারে তোমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা রাখ। তোমাদের বিয়ের ব্যাপারে আহমদ মুসার কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে, প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি তোমাদের মত জানতে চান।
আহমদ মুসা যার জন্যে যে নাম প্রস্তাব করেছে, সে নাম লেখা চিরকুট তাদের সামনে দিয়ে দিল দাদী, তারপর বলল, সত্ত্বর মত দাও তোমরা।
দাদীর মুখে বিয়ের কথা শুনে তিনজনেরই হাসি উবে গিয়েছিল। লজ্জায় সংকুচিত হয়ে পড়েছিল তারা। এর মধ্যে আশা নিরাশার একটা কষ্টকর অনুভুতি তাদের পীড়িত করছিল।
তারপর দাদীর চিরকুটে চোখ বুলিয়ে লজ্জায় তিনজনের মুখ লাল হয়ে উঠল। দাদী যখন মত জানতে চাইল, রোকাইয়েভা তখন ‘তুমি সব জান, আমি জানিনা,’ বলে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গের। আর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢাকল আয়েশা আলিয়েভা এবং শিরীন শবনম।
ওদের কাছে কোন জবাব না পেয়ে দাদী উঠে গিয়ে ওদের দু’জনের মুখ তুলে ধরল। দেখল অশ্রুতে ধুয়ে যাচ্ছে ওদের মুখ। দাদী একটু হেসে ওদের দু’জনের গালে স্নেহের দুটো টোকা দিয়ে বলল, জবাব পেয়েছি বুড়িরা, আনন্দের অশ্রু জবাব দিয়ে দিয়েছে।
দু’জনে মুখ ঢাকল আবার।
দাদী বেরিয়ে এল ঘর থেকে। বাইরে দরজার পাশেই দাড়িয়েছিল রোকাইয়েভা। দাদীকে দেখে রোকাইভেয়া পালাতে যাচ্ছিল। ওর হাতটা চেপে ধরল দাদী। বলল, এখনি সরছিস দাদীর কাছ থেকে? যুবায়ের আসলে কি দাদীর কথা আর মনে রাখবি?
এবার রোকাইয়েভা জড়িয়ে ধরল, দাদীকে। কেঁদে ফেলল সে।
বলল, আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে পারবনা দাদী।
দাদী হেসে জবাব দিল, ঠিক আছে তুই একথা যুবায়েরকে বলিস।
দাদী অতিথি রুমে ফিরে এল। বলল আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, সব ঠিক আছে, বিয়ের ব্যবস্থা কর।
-ঠিক আছে দাদী, তাহলে এখন উঠি।
-না বস, বলল দাদী।
দাদী একটু থামল। তারপর আবার বলল, তোমার কথা তুমি ভাবছ কিছু?
-কি কথা দাদী্
-তোমার বিয়ের কথা।
-না দাদী আমি ভাবছি না, ভাবতে পারছি না।
-তুমি না পারলেও তোমার দাদীকে তো ভাবতে হচ্ছে।
আহমদ মুসা চুপ করে থাকল। দাদীই আবার কথা বলল, আমাদের এক বোন আমাদের সাথে ছিল, পিতার অসুস্থতার খবর পেয়ে চলে গেছে। তুমি অনুমতি দিলে তার নাম প্রস্তাব করতে পারি।
আহমদ মুসার মুখটা মুহুর্তের জন্যে রাঙা হয়ে উঠল কিন্তু সামলে নিয়ে আহমদ মুসা গম্ভীর হল। একটু ভেবে নিয়ে বলল, না থাক দাদী। আমি যাযাবর, আমি কিছু চিন্তা করতে পারছি না।
দাদী আহমদ মুসার দিকে একবার চোখ তুলে তাকাল। তারপর একটু কঠিন স্বরেই বলল, তুমি নিজের উপর জুলুম করবে, এ অধিকার ইসলাম তোমাকে দেয়নি।
আহমদ মুসার অন্তরটা সত্যিই কেঁপে উঠল। দাদীর যুক্তিকে খন্ডন করার যুক্তি সে পেলনা। তার খুব ভাল লাগল দাদীর এ ধমক। এক আপনাত্বের সুর আছে এ ধমকে। দাদা দাদীকে সে দেখেনি। বাবা-মা’র স্নেহও বেশী দিন ভাগ্যে জোটেনি তার। আপনজনের এমন স্নেহ মাখানো ধমক সে কতদিন শোনেনি। চোখটা তার ছলছল করে উঠতে চাইল। অশ্রু গোপন করার চেষ্টা করে আহমদ মুসা বলল, দাদী! ওর অভিভাবক আছে, এ প্রসংগটা আজ থাক।
দাদি বলল, ঠিক আছে আজকের মত থাক। কিন্তু মনে রেখ, তুমি কচি হৃদয়ের উপর জুলম করছ।
দাদীর একথাটা বুকের কোথায় যেন খোঁচা দিল আহমদ মুসার। আহমদ মুসার চোখের সামনে ভেসে উঠল ফাতেমা ফারহানার বিনত সলজ্জ মুখ। মনে পড়ল পুলিশের হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধারের সেদিনের ঘটনা। আহমদ মুসাকে দেখে সেদিন ফাতেমা ফারহানা বিদ্যুতে শক পাওয়া মানুষের মত নির্বাক হয়ে গিয়েছিল, নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল ফারহানা একেবারেই। আহমদ মুসা জোর করেই সেদিন কিছু বুঝতে চায়নি। কিন্তু সেই দৃশ্য তার অবচেতন সত্তায় একটা তৃপ্তির বান ডেকেছিল, একটা পাওয়ার আনন্দ হৃদয়কে ভরে দিয়ছিল, একে সে অস্বীকার করবে কেমন করে? দাদী যা বলেছেন, সত্যি কি সে তার উপর জুলুম করছে, জুলুম করছে সে নিজের উপরও? দাদীর কথার উত্তরে আর কোন কথা যোগালোনা আহমদ মুসার মুখে। অল্পক্ষণ মাথা নীচু করে চুপ থেকে সে বলল, এখন উঠি দাদী।
দাদীকে সালাম জানিয়ে আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। বেরুতে বেরুতে বলল, দাদী বিয়ের জন্যে ভেতরের যা ব্যবস্থা সব করুন। আমি বাইরেরটা দেখছি।
বিকেলের মধ্যেই যুবায়েরভ এস পড়ল। কেনা কাটার যা কাজ আলী ইব্রাহীম তা সেরে এল। মাগরিব নামাজ শেষে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হলো।
গুলমহল উপত্যকা তখন গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা, উপরে আকাশে নবমীর চাঁদ। এরই মধ্যে শান্ত-পবিত্র এক পরিবেশে দাদী লাজনম্র অশ্রু ধোয়া আয়েশা আলিয়েভাকে তুলে দিল হাসান তারিকের হাতে, শিরীন শবনমকে কুতাইবার হাতে এবং রোকাইয়েভাকে যুবায়েরভের হাতে। শেষ হাতটি তুলে দেয়ার সময় কান্নায় ভেংগে পড়ল দাদী। বোধ হয় তার মনে পড়ছিল শহীদ ওমর জামিলভের কথা এবং অতীত দিনের অনেক কথাই।

৬

জেনারেল বোরিস নিজের চুল যেন নিজেই ছিঁড়ছিল। রাগে-দুঃখে ক্ষোভে তাকে বড়ই বিপর্যস্ত দেখাচ্ছে। হাত দুটি পিছনে বেঁধে ঘরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে সে আহত বাঘের মত। লেনিন স্মৃতিপার্কে তার লোকরা কিছুই করতে পারলনা। উল্টো যে গোয়েন্দাদের পাহারায় দেয়া হয়েছিল তারাই জীবন হারাল। সবচেয়ে অসহনীয় তিরিশ ট্রাক সৈন্যের জীবন হানি। এ ব্যর্থতার কোন কৈফিয়ত তার কাছে নেই। মস্কো থেকে টেলিফোন এসেছিল, কোন জবাব জেনারেল বোরিস দিতে পারেনি। তীব্র তিরস্কার এবং ভৎসনার শিকার হয়েছে সে। মস্কো থেকে ‘ফ্র’ প্রধান বলেছে, রাশিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। শুধু জনগন নয়, খোদ সেনাবাহিনীর মধ্যে থেকেও। মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতি সরকারকে ডুবাতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে। সুতরাং কোন ব্যর্থতাই আর ক্ষমা করা হবে না। উদ্বেগ বোধ করেছে জেনারেল বোরিসও। পায়ের তলার মাটি যেন ক্রমেই সরে যাচ্ছে। বলতে গেলে গোটা মধ্য এশিয়ার জনগনই সাইমুমের দখলে চলে গেছে। কয়েকটা শহর ছাড়া সৈনিকরাও আজ আর কোথাও বেরুতে পারছে না। গ্রামাঞ্চলের যে লীডারশীপের উপর ভর করে কম্যুনিষ্ট শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছিল তা আজ একেবারেই ধ্বসে পড়েছে। তুঘরীল তুগানের মত হারিয়ে গেছে সবাই। ক্ষমতার এই ভিত কি আর গড়ে তোলা যাবে?
নির্বাচন কি তাদের সুযোগ এনে দেবে?
ইন্টারকম কথা বলে উঠল এ সময়। ইন্টারকমে পি.এ বলল, স্যার টিটভ এসেছেন, সাক্ষাৎ করতে চান।
-‘আসতে বল’ বলে জেনারেল বোরিস চেয়ারে এসে বসল। নতুন একটা উদ্বেগ উৎকন্ঠার চিহ্ন ফুটে উঠল জেনারেল বোরিসের মুখে। আজ ছিল সুপ্রিম কংগ্রেস এবং রাজ্য কংগ্রেসের নমিনেশন পেপার সাবমিটের দিন। সম্ভবত টিটভ সেই খবরই নিয়ে আসছে। খবর নিশ্চয়ই ভাল হবে।
দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করল টিটভ। তার মুখটা বিষন্ন, বিধ্বস্ত। ধীরে ধীরে টেবিলে এসে বসল টিটভ।
জেনারেল বোরিস তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। তার দৃষ্টিতে একটা ফুঁসে ওঠা ভাব।
টিটভ বসলে জেনারেল বোরিস বলল, বল কি খবর?
-খবর ভাল নয় স্যার।
-জানতে চাই সেটা কি?
-কোন নমিনেশন জমা পড়েনি স্যার। কান্নার মত করুণ কন্ঠস্বর টিটভের।
-কোন নমিনেশন জমা পড়েনি? কেন রূশীয়দের?
-শহরাঞ্চলে রূশীয়দের নমিনেশন জমা পড়েছে। তাদের সংখ্যা সব মিলে দেড়শ’র বেশী নয়। এর মধ্যে কম্যুনিষ্ট সুপ্রিম কংগ্রেসের ৭০ টি এবং রাজ্য কংগ্রেসের ৮০ টি। রূশীয়দেরই রাজ্য কংগ্রেসে ৭০ টি এবং সুপ্রিম সোভিয়েতে ৩০ টি নমিনেশন জমা পড়েনি। এদেশীয় তুর্কীদের তিনশ’ নমিনেশনের একটিও জমা পড়েনি।
কতকটা মুখ ভেংচিয়েই জেনারেল বোরিস বলে উঠল, জমা পড়েনি। যাদের মনোনয়ন দিলে তারা কোথায় গেল?
ক্রোধে মুখটা বিকৃত হয়ে উঠেছে জেনারেল বোরিসের।
-নমিনেশন পেপার জমা দিতে কেউ আসেনি। বাড়িতে ও পাওয়া যায়নি। সবাই পালিয়েছিল। অনুসন্ধান করে সন্ধ্যার দিকে মোট ১০০ জনকে ধরা হয়েছে। অন্যান্যের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনও।
-এই একশ’ জনের নমিনেশন তো জমা করতে পারতে, করনি কেন? জেনারেল বোরিসের চোখে আগুন।
টিটভ দু’হাত কচলে বলল, স্যার বিদেশী সাংবাদিকদের কাছে সব তথ্য চলে গেছে, এখন কিভাবে……
ধমকে উঠল জেনারেল বোরিস, বিদেশী সাংবাদিকদের কে এ্যালাও করল?
-স্যার কেন্দ্রের নির্দেশে এই অফিস থেকেই তো তাদের পাশ দেয়া হয়েছে।
-নির্দেশ থাকলেই সব কাজ করতে দেয়া যায় না। আন্তর্জাতিক মুখ রক্ষার জন্য কেন্দ্রকে অনেক কিছুই করতে হয় কিন্তু তোমাদের সে দায়- দায়িত্ব নেই। নির্দেশ দিয়েছে, যেতে দেব না, কি হবে?
-এ রকম কোন নির্দেশ আমাদের উপর থাকলে…।
-সবই নির্দেশ দিতে হবে, তোমরা কি করবে, ঘোড়ার ঘাস কাটবে? জেনারেল বোরিস থর থর করে কাঁপছিল রাগে।
কিছুক্ষন কথা বলতে পারল না জেনারেল বোরিস। একটু দম নিয়ে বলল, সেই ১০০ জন যাদের ধরেছ, কোথায় রেখেছ তাদের?
-জনাবিশেক আমাদের এখানে আছে। অবশিষ্টরা বিভিন্ন শহরে।
জেনারেল বোরিস উঠে দাঁড়াল। বলল, চল দেখব সেই হারাম-জাদাদের ধড়ে কয়টা প্রাণ আছে।
টিটভ জেনারেল বোরিসকে নিয়ে তার স্বরাস্ট্র বিভাগের প্রিজনারস রুমে প্রবেশ করল।
চোরের মত কোমরে দড়ি বাঁধা বন্দীরা বসেছিল। জেনারেল বোরিস ও টিটভ ঘরে প্রবেশ করতেই তারা উঠে দাঁড়াল।
জেনারেল বোরিস ঘরে ঢুকেই তাদের উদ্দেশ্য করে বলল, নিমক হারাম কুত্তার বাচ্চারা, তোদের নমিনেশন পেপার কোথায়? হারামজাদার বাচ্চা, এই বিশ্বাসঘাতকতা করতে একটুকু ও চক্ষুলজ্জা হলো না?
সামনেই ছিল উজবেকিস্তানের আহমদ নূরভ। সে বলল, আমরা কুত্তার বাচ্চা হারামজাদার বাচ্চা কিছুই নই। আমরা বিম্বাসঘাতকতা করিনি। আমরা যা করেছি সেটা হল আমরা জাতির বিরুদ্ধে যাইনি, জনগণের বিরুদ্ধে যাইনি।
ক্রোধে চিৎকার করে উঠল জেনারেল বোরিস। পাগলের মত পকেট থেকে পিস্তল বের করে আহমদ নূরভকে লক্ষ্য করে গুলী করতে লাগল সে। তিনটা গুলী শেষ হতেই গুঁড়ো হয়ে যাওয়া মাথা নিয়ে মাটিতে ঢলে পড়ল আহমদ নূরভ। তারপর পিস্তল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে জেনারেল বোরিস পাশের প্রহরীর কাছ থেকে সাব মেশিনগান হাতে নিল। ট্রিগার চেপে ধরে একবার সেই সাব মেমিন গানটা ঘুরিয়ে নিল বিস্ফোরিত চোখ সেই ঊনিশ জন বন্দীর উপর দিয়ে। চোখের নিমিষে ঊনিশটি লাশ পড়ে গেল মাটিতে।
রক্তের স্রোত বইল মেঝের উপর দিয়ে।
সাব মেশিন গানটা ফেলে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল জেনারেল বোরিস। তার পিছনে পিছনে বেরিয়ে এল টিটভ। তারা প্রায় ধাক্কা খেল দু’জন বিদেশী সাংবাদিকের সাথে। সাংবাদিকদ্বয় তাদের স্টার্ট দেয়া মোটর সাইকেলে চড়ে দ্রুত সরে পড়ল সেখান থেকে। এটা দেখে জেনারেল বোরিস বিষদৃষ্টিতে তাকাল টিটভের দিকে। টিটভ পাশের দু’জন প্রহরীকে নির্দেশ দিল, দেখ হারামজাদাদের পাকড়াও কর। প্রহরী দু’জন গ্যারেজ থেকে গাড়ি নেয়ার জন্য ছুটল।
প্রিজনারস রুম থেকে বেরিয়ে জেনারেল বোরিস পকেট থেকে একটা অর্ডার শিট বের করে তাতে নির্দেশ লিখল নমিনিশন পেপার জমা না দেয়া বিশ্বাসঘাতকদের গুলী করে হত্যার জন্য এই মুহুর্তে। অর্ডার শিটটি টিটভের হাতে তুলে দিয়ে বলল, এখনই রিলে করে দাও সব জায়গায়।
-‘ইয়েস স্যার’ বলে টিটভ দ্রুত চলে গেল তার রুমের দিকে।
পরদিন গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল এই খবর।
‘সমগ্র মধ্য এশিয়া ‘ফ্র’ পরিচালিত কম্যুনিষ্ট সরকারের প্রতি সার্বিক অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে। সেখানকার জনগন কম্যুনিষ্ট সরকার পরিকল্পিত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। যাদের কে একান্ত অনুগত ও বংশবদ মনে করে কম্যুনিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনোনয়ন দিয়েছিল, তারাও তাদের নমিনেশন পেপার জমা দেয়নি। মনোনয়ন দেয়া সাড়ে তিনশ’ উজবেক, তাজিক, কাজাখ, কিরঘিজ ও তুর্কমেনের একটি নমিনেশন ও জমা পড়েনি। সুতরাং নির্বাচন করে শেষ রক্ষার উদ্যোগটি ও কম্যুনিষ্ট সরকারের ব্যর্থ হয়ে গেল। ইতিপূর্বে ‘ফ্র’ এর কম্যুনিষ্ট সরকার বিশ্বাসঘাতকতা ও আনুগত্যহীনতার অভিযোগ তুলে সেখানকার সরকার ও কম্যুনিষ্ট পার্টি ভেংগে দিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের বিবরণে প্রকাশ, পরাজয়ের ক্রোধে অন্ধ হয়ে ‘ফ্র’ নমিনেশন জমা না দেয়া তিনশ’ নেতৃস্থানীয় লোককে হত্যা করেছে।’
ফিলিস্তিনের সাইমুম সরকার এবং মিন্দানাও-এ পিসিডা সরকারের চেষ্টাতেই এ খবর গুলো সংগৃহীত হয় এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তার সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ে মধ্য এশিয়ার অভ্যন্তরের রক্তলেখা হাজারো খবর। হৈ চৈ পড়ে যায় গোটা বিশ্বে। তীব্র চাপ সৃষ্টি হয় মস্কোর উপর।

Page 85 of 165
Prev1...848586...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In