জামাতে ইসলামীর পত্রিকায় সাম্প্রতিক কলামে মখফির লিখেছেন, ‘রাজধানীর রাজপথ থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত এখন এক কথা, দেশের সীমান্ত মুছে ফেলার দাবিদার মুরতাদ তসলিমা ও তার সহগামী দালালদের বিচার করো। স্বাধীনতার মেকী দরদী সেজে যারা দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যারা অন্নদাশংকরের কবিতা ছেপে শিশু কিশোরদের বাংলাদেশের বর্তমান সীমানা তুলে দেবার পরোক্ষ উস্কানি দেয়, যেসব পত্রিকা বিদেশী এনজিওর অর্থ খেয়ে তাদের দালালি করে এবং কুরআনের আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে ও মহানবীর (সঃ) কুৎসা রচনাকারী মুরতাদ বিরোধী গণআন্দোলন ও প্রতিবাদ দিবসকে বানচাল করতে চায়, তাদের স্বরূপ দেশের কোটি কোটি তওহিদী জনতার কাছে এবার নগ্ন ভাবে ধরা পড়েছে। ধরা পড়েছে জরায়ুর স্বাধীনতাকামিনী মুরতাদ তসলিমার সমর্থক এ দেশে কারা? যারা এখানকার মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, জাতীয় বৈশিষ্ট্য ও শিক্ষা সংস্কৃতিকে সুকৌশলে ধ্বংস করে বাংলাদেশের মুসলিম জাতিসত্ত্বাকে ব্রাহ্মণ্য সমাজ সংস্কৃতিতে বিলীন করে দিতে চায়, তারা এখন আত্মপরিচিত। চিহ্নিত তাদের প্রচার বাহনগুলো।
দেশের স্বাধীনতা ও জাতির কলঙ্ক এসব ধর্মদ্রোহী গাদ্দার শ্রেণীর আসল চেহারা ধরা পড়েছে ফতোয়াবাজ আখ্যা দিয়ে পাইকারি ভাবে ধর্মের প্রকৃত সেবক দেশের আলেম সমাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার দ্বারা। এ যাবত তারা সমাজে বিশেষ সম্মানিত কয়েকজন ইসলামী ব্যক্তিত্বের ও কোনও কোনও ইসলামী সংগঠন ও তার নেতাদের বিরুদ্ধেই নানা মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। তাদের চরম মিথ্যা আশ্রিত প্রচারণার ধরন দেখেই মনে হয়েছিল যে, আসলে লক্ষ্য বিশেষ কোনও ইসলামী সংগঠন, ব্যক্তিত্ব নয় বরং ইসলামকে এ দেশ থেকে উৎখাত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
স্বাধীনতা ও ধর্মদ্রোহী এ মহলটি ইসলাম বিরোধী এনজিওর অর্থে প্রকাশিত কয়টি পত্রিকা হাতে পেয়েই তাদের মূল পরিকল্পনার দিকে অগ্রসর হয়। অর্থাৎ ইসলামের মূল প্রচারক, সেবক, আলেম, ওলামাকে সমাজে হেয় করার কাজ শুরু করে। ওলামা মাশায়েখকে তারা সমাজের উন্নতি অগ্রগতির দুশমন রূপে চিহ্নিত করার জন্য মিথ্যা প্রচারণা চালায়। তাদের চরিত্র হনন করে বিভিন্ন প্রচার মিডিয়ায় কর্মরত নিজেদের সঙ্গীদের দিয়ে তারা আলেম সমাজের জন্যে অপমানকর কাহিনী তৈরি করে। বিশেষ করে টিভি নাটকের খল চরিষেন অভিনয়কারীদেরকে অধিকাংশ ক্ষেষেন ওলামা মাশায়েখের পোশাক আশাক, টুপি, জামা, রুমাল, তসবিহ পরিয়ে দর্শক চিত্তে তাদের ভাব মর্যাদাকে ধ্বংস করার অভিযানে লিপ্ত হয়। তারা জানে না, এ পথ কত ভয়াবহ। তাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, নানা কারণে সমাজের ওলামা একেরাম এ দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক ও সক্রিয়ভাবে অংশ না নিলেও তারা এই উপমহাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতিতে আগাগোড়া বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছে। হিমালিয়ান উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ঔপনিবেশিক বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কারা অস্ত্র হাতে নিয়েছিল? ১৮৫৭ সালেও সিপাহী বিপ্লবের সূচনা কারা করেছিল? মূলত আজ বাংলাদেশে যে সমস্ত ওলামা এখানকার কুখ্যাত মুরতাদ ও নবী বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে জানের বাজি রেখে আন্দোলনে নেমেছেন, তারা প্রকৃত পক্ষে আমাদের সে সকল সংগ্রামী বীর মুজাহিদদেরই উত্তরসূরী। সাইয়েদ আহমেদ শহীদ, মুজাদ্দিদে আলফেসানী, হযরত শাহ জালাল, হাজী শরিয়তুল্লাহ ও শহীদ হাজী নেসার আলী তিতুমীর প্রমুখ আমাদের মুক্তি সংগ্রাম ও ইসলামী আন্দোলনের পূর্বসুরীরা হিন্দু এবং একশ্রেণীর সুবিধাভোগী মুসলমানের ন্যায় ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে নিজেদের আখের গুছাতে পারতেন, কিন্তু গোছাননি।
এ সকল সংগ্রামী পূর্বসূরীদের উত্তরাধিকারী ওলামা মাশায়েখ এবং দেশের কোটি কোটি তওহিদী জনতাই আজ ইসলামের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। জনতার এই আবেগ বিবেচনাবোধ ও পদক্ষেপকে ক্ষমতাসীন সরকারের আর অবহেলা করা উচিত নয়। অতি সত্বর তাদের দাবি মেনে নেয়া, অপরাধীদের শাস্তিদান এবং দেশে ব্লাসফেমি আইন চালু করা সরকারের কর্তব্য। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম সীমান্ত রক্ষা করা যেমন সরকারের জন্য ফরয, তেমনি ফরয জাতির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সত্তাকে রক্ষা করা, যা দেশ ও জাতীয় অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।
একটি ধর্মবিদ্বেষী গোষ্ঠী ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকে মিশন হিসেবে নিয়েছে। অপসংস্কৃতির ধারক বাহকরা মুরতাদ তসলিমা-শরীফ গংদের পক্ষ নিয়েছে।
৩০ জুন হরতাল বিরোধীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। –এসব কথা ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৩ দিন ব্যাপী কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক শিবিরে বলা হয়েছে। জামাতে ইসলামীর সন্ত্রাসী সংগঠন এই শিবির ঠাণ্ডা মাথায় মানুষের গলা কেটে নিতে, হাত পায়ের রগ কেটে ফেলতে অভ্যস্ত। শিবিরের লোক যখন কোনও কাজে নামে, তখন কাজ তারা করে ছাড়ে যে করেই হোক।
আবছা আলোয় পড়ছিলাম। পত্রিকা থেকে চোখ তুলে দেখি অন্ধকার ঘর। ঘরে কোনও আলো নেই। বাইরে অনেকক্ষণ সন্ধে নেমে এসেছে। চোখ টন টন করে। পত্রিকাগুলো সরিয়ে রেখে অন্ধকারের কোলে মাথা রেখে বসে থাকি। সারারাত। সারারাত আমার পাশে বড় বড় চোখ করে আমাকে ভয় দেখাতে থাকে গোলাম আযম।
৩. অতলে অন্তরীণ – ২০
তেইশ জুন, বৃহস্পতিবার
