বরিশালে বিবির পুকুরপাড়ে বিকাল ৩টায় ইসলামি শাসনতন্ত্রের জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (দৈনিক ইনকিলাব)
নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়িতে হইবে
ইসলাম ও রাষ্ট্রাদ্রোহী তৎপরতা প্রতিরোধ মোর্চা গঠনের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও উলামা কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতী ফজলুল হক আমিনী নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। মোর্চা ঘোষিত ৯ ই জুনের যুব সমাবেশ ও ১০ই জুনের বিক্ষোভ দিবস সফল করার লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার লালবাগের জামেরা কোরানিয়া আরাবিয়ায় আয়োজিত এক দোয়া সমাবেশে বক্তৃতাকালে মাওলানা আমিনী বলেন, আল্লাহর নিদর্শন যে জাতি অবমাননা করে, আল্লাহর বিধান হইল সে জাতিকে ধ্বংস করিয়া দেওয়া। পবিত্র কোরানের সহিত যে চরম বেয়াদবি ও উপহাস করা হইতেছে তাহাতে যে কোনও সময় ্এই জাতি ধ্বংস হইয়া যাইতে পারে। তাই এ দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রতিটি মুসলমানকে প্রতিবাদমুখর হইতে হইবে। (দৈনিক ইত্তেফাক)
জামাতে ইসলামির পত্রিকা দৈনিক সংগ্রামে আজকের সম্পাদকীয়
তসলিমাকে রক্ষার অভিনব উদ্যোগ
ধর্মদ্রোহী তসলিমার বিরুদ্ধে বিলম্বে হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যখন একটি জামিনের অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, তখন তসলিমাকে রক্ষাকারী ও তার অপসৃষ্ট মুদ্রণ-প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণকারী এনজিও সেক্যুলারবাদীরা পরিস্থিতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সম্ভবত পতাকা নাটকের অভ্যুদয় ঘটিয়েছে। তসলিমা, আহমদ শরীফসহ মুরতাদ ইসলামবিরোধী মহলের ঢালাও অপপ্রচার ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে সারাদেশে যখন ধর্মপ্রাণ জনগণের মাঝে স্বতস্ফূর্ত ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, তখন নাস্তিকতাবাদী মুরতাদপন্থীরা ষড়যন্ত্রের চোরাপথে তসলিমাকে রক্ষার জন্য নতুন নাটক শুরু করেছে। জাতীয় সংসদের কার্যক্রম যখন স্থগিত ছিল, তখন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় পতাকার বদলে কে বা কারা এক টুকরো বিতর্কিত রঙিন কাপড় টানিয়ে দিয়েছে এবং এই নিয়েই তসলিমা পন্থীরা সারাদেশে তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে দিয়েছে। এ ক্ষেষেন বিরোধীদলীয় নেষনী শেখ হাসিনার ভূমিকাও তসলিমা ও মুরতাদপন্থীদের আস্কারা দেবে। তসলিমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকে শেখ হাসিনা বাড়াবাড়ি বলে অভিহিত করে তার ও তার দলের অবস্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে নারী জরায়ুর স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে নারী পুরুষ ধর্ষণের মত অশালীন কুৎসিত কথা বলে, যে নারী পবিত্র কোরান সংশোধনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে, শেষ হাসিনা সেই নারীর রক্ষক হতে চাইছেন। শেখ হাসিনাদের হজ্ব, মাজার জিয়ারত যে কত ভণ্ডামি এতেই তার প্রমাণ মিলছে। ইতিমধ্যেই কথা উঠেছে, ইসলামের মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হতে দেবার ক্ষেষেন শাসকদল ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। সরকারের যে পুলিশরা এতদিন তসলিমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে, তাদের চোখকে এখন ফাঁকি দিয়ে তসলিমা কিভাবে আত্মগোপন করল? তসলিমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সময়ই কি তাহলে তাকে খবর দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে? পুলিশ নাকি দশ মিনিটের ব্যবধানে তাকে ধরতে পারেনি। তসলিমার ব্যাপারে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রিতা নানাধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। সরকারের পুরো কার্যক্রমই মনে হচ্ছে আই ওয়াশ। অবশ্য স্পীকারও বলেছেন, তসলিমার ধর্মদ্রোহীতামূলক আচরণের প্রসঙ্গ জাতীয় সংসদে আলোচনা করা হবে। তবে তসলিমার মত একটি ধিকৃত নষ্ট মেয়েকে রক্ষা করার জন্য তার ভক্ত অনুরক্ত মৌলবাদবিরোধী চক্রটি শেষ পর্যন্ত জাতীয় পতাকার মত স্পর্শকাতর ইস্যুকেও ব্যবহার করে ছেড়েছে। পতাকা নামানো এবং সেখানে একখন্ড কাপড় ঝোলানোর এই ঘটনার জন্য সংসদ সচিবালয়ে প্রেসনোট ইস্যু করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছে। এছাড়া এ ব্যাপারে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেবার লক্ষ্যে ব্যাপক পুলিশী তদন্ত চলছে। কিন্তু তারপরও এনজিওবিরোধী ফতোয়াবাজ মৌলবাদীদের এ ব্যাপারে অভিযুক্ত করার অপপ্রয়াস চলছে। বামপন্থী গুটিকতক লোক এ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছে, মিছিল পর্যন্ত বের করেছে। এমনকি কেউ কেউ পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সরকারী ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে সরকারের পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করেছে। একদল তো তসলিমার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নিন্দা করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে তারা নানা ধরনের বাক্যবান নিক্ষেপ করেছে। সরকার নাকি মৌলবাদীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তসলিমার বিরুদ্ধে যখন আদালতে মামলা বিচারাধীন, সেই অবস্থায় ইস্যুটি রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিভাবে? একশ্রেণীর পত্রপত্রিকা একই ইস্যুতে সংবাদপষেনর নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিকৃত উস্কানিমূলক খবর প্রচার করে যাচ্ছে। এই বাড়াবাড়ির অবসান হওয়া দরকার। সরকার যদি এসব সমাজবিরোধী শান্তিবিনাশী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন না করে, তাহলে তসলিমাকে গুম করার নাটকও হয়ত আমাদের দেখতে হবে। কেননা, তসলিমা এখন মহলবিশেষের হাতে তুরুপের তাস। তসলিমা গ্রেফতারের নাটক যত চলতে থাকবে, পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে।
