প্রথম চিঠি–
Dear Ms. Taslima Nasreen,
I have been impressed by your courage and determination in the face of such backwardness and fundamentalism. I was not able to contact you before due to my pressing engagements at home. I would extend my unflinching sup port to you. I have contacted Sonia and have urged her to provide you with all legal avenues of protection. I was saddened to know that you had to make amends in your book. Your prose and poetry have been an integral part of my collection and I would like it to bloom further with fresh and bold ideas like yours. Keep up the struggle but please remember that some times discretion is the better part of valor.
With warm regards.
Benazir Bhutto
Chairperson –Pakistan Peoples Party
দ্বিতীয় চিঠি —
Dear Ms Taslima Nasreen,
I am so glad that you are fine. I know what it is like to live under the puritani cal yoke of our backward looking societies. It is like trying to find fresh oxygen in a room filled with smoke. I hope you reach a safe and functional destination soon. I am sure Sonia will chalk out something for your safety. Congress should enhance its liberal image by extending all support to you.
Remember dear, home is where your human soul finds resonance. Wishing you all the best.
Sincere regards
Benazir Bhutto
Chairperson –Pakistan Peoples Party
শুনেছি জারদারি একটি অপদার্থ লোক। অনেকে বলে বেনজিরের মতো শিক্ষিত মহিলা কী করে জারদারির মতো একটা চোর আর অপদার্থকে বিয়ে করে! ঠিক এরকমও আমার বেলায়, আমিও তো বিয়ে করেছিলাম অপদার্থ আর বদমাশকে। ভুল যে কেউ করতে পারে। বেনজিরের আর আমার মধ্যে পার্থক্য হল, আমি তালাক দিয়েছি অপদার্থদের, বেনজির দেননি। আরও একটি বড় পার্থক্য, বেনজির ভোটের জন্য অনেক মৌলবাদীর সঙ্গে আপোস করেছেন, আমি কোনও স্বার্থে বা কোনও কারণেই মৌলবাদীদের সঙ্গে আপোস করিনি।
.
২৮ ডিসেম্বর
‘নির্ভীক, সত্যসন্ধ, বিশ্ববিশ্রুত বাঙালি লেখিকা তসলিমা নাসরিন সম্প্রতি দিল্লিতে বস্তুত নিঃসঙ্গ গৃহবন্দি। যদিও তাঁর অনেক রচনা ভারতের বিভিন্ন ভাষায় এবং পশ্চিমের অধিকাংশ প্রধান ভাষায় তর্জমাকৃত রূপে প্রকাশিত হয়েছে, তাঁর মাতৃভাষা বাংলা, এবং সেই ভাষাতেই তিনি অসামান্য শক্তিশালী লেখিকা। তাঁর সাহসী সত্যকথনের জন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত। তসলিমা শিল্পের জন্যই শিল্প এই তত্ত্বের শিল্পী নন। তিনি চান সমাজ এবং সংস্কৃতির ব্যাপক পরিবর্তন –উভয়ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়, সতোর প্রতিষ্ঠা। ভাষা তাঁর নিপুণ হাতে সেই যন্ত্র যাকে তিনি প্রয়োগ করেন মানুষের রচিত শৃঙ্খলের মোচনে, সেই মহৎ প্রয়াসে অত্যাচারিতের চেতনায় উদ্যোগের উদ্দীপনে’ –শিবনারায়ণ রায়।
বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি শেষ পর্যন্ত ছাপা হল পত্রিকায়। শীলা রেড্ডি বিবৃতিটা লিখেছেন বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে আমার খুব খারাপ সময়ে তাকে যে কথাগুলো বলেছি, সেগুলোই সাজিয়ে। পড়ে আমি সত্যিই আহত হই। এ কারণেই কি শীলা একবারও আমাকে পড়ে শোনায়নি বিবৃতি? শোনালেই আমি আপত্তি করবো বলে! সই করেছেন খুশবন্ত সিং, অরুন্ধতী রায়, শ্যাম বেনেগাল, গিরিশ কারনাড, এম এ বেবি, আউটলুকের সম্পাদক বিনোদ মেহতা। এ আর ক’জন। শীলা তো বলেছিল প্রচুর বুদ্ধিজীবী নাকি সই দিচ্ছেন। উচিত ছিল ওঁদের নিজেদের বলা, আমার অভিযোগ উল্লেখ করে বিবৃতি তৈরি করাতে আমার এমন মনে হচ্ছে যে মুক্ত চিন্তার বা মত প্রকাশের অধিকার চাওয়াটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। অভিযোগগুলো আমি তো বিবৃতিতে ব্যবহার করার জন্য করিনি। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারণে এখন যদি আমার ওপর বুলডোজার চলে, কেউ কি আমাকে বাঁচাবেন। এসব কারণে মন খারাপ।
বেনজিরের মৃত্যু এখনও চোখের সামনে। আল কায়দা আজ জানিয়ে দিয়েছে তারা মেরেছে বেনজিরকে। আমাকেও কি একদিন এভাবে মেরে ফেলবে আল কায়দার লোক? যখন বাংলাদেশে ছিলাম, যখন আল কায়দার নাম বা দুর্নাম কিছু হয়নি, ওসামা বিন লাদেনও চেনা কোনও নাম নয়, তখনই একবার লেখা হয়েছিল ওসামা বিন লাদেন এবং আফগানিস্তান থেকে জঙ্গী ট্রেনিং নিয়ে আসা বাংলাদেশি তালিবানরাও নাকি আমার মৃত্যু চায়। তারপর নানা কারণে ওসামা বিখ্যাত বা কুখ্যাত হয়ে উঠলো। আমাকে ভুলে গিয়ে বা আমার চেয়ে বড় টার্গেট পেয়ে গিয়ে বাঁচিয়েছে আমাকে। বাংলাদেশে হরকতুল জেহাদি ঠিক ওই সময়টাতেই গড়ে উঠেছিল, উঠেই আমার ফাঁসি চাইতে শুরু করে। তাদের নাম এখন বিশ্বের বাজারে হুজি। হুজি এখন বড় সন্ত্রাসী দল। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও সময় সময় বোমা ফাটিয়ে যায়। প্রচুর নিরীহ মানুষকে নিশ্চিন্তে খুন করে যায়।
মেরে কি সত্যিই আমাকে ফেলবে কোনও ইসলামি সন্ত্রাসী দল। বিশ্বাস হতে চায় na, আবার মনে হয় বুক বরাবর গুলি ঢুকে গেল, মনে হয় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলাম কোনও আত্মঘাতী বোমা হামলায়। হয়তো মরতেই হবে ওভাবে। এই ভয়ে ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে থাকতে হবে কেন আমাকে? মরবো বলে কি বাঁচবো না?
