Your idea of marriage, companionate marriage and love seems very strange to us. Your divorces startle us. We believe in the holiness of marriage, considering it a sacred and divine union of two souls. Our marriages are regarded as permanent; separation or divorce unspeakable, we stay married.
গুঞ্জন উঠল, সে কী! এতদিন যে আমরা শুনেছি ভারতে মেয়েরা পুরুষের হাতের খেলার পুতুল! আর তাদের সম্মান? সে তো নেই বললেই চলে। এ কথাই তো আমরা জেনেছি। বিদেশিনীদের কথায় হাসি পায় সুষমার। বলেন, আমাদের দেশের মেয়েরা অনেক বেশি প্রভাবশালিনী। তারা সৃষ্টির কাজে ঈশ্বরকে সাহায্য করে। তোমাদের কাছে ভগবান পিতা কিন্তু ভারতে আমরা তাকে বলি মা। আর অত দূরে যাবার দরকার কি, সুষমা প্রশ্ন করেন তাদের, এই যে আমি এত দূরে এসেছি, বাড়ি থেকে চোদ্দ হাজার মাইল দূরে, স্বামীর ওপর প্রভাব বিস্তার করবার ক্ষমতা না থাকলে পারতুম কি?
আমেরিকায় সুষমা যে সব বক্তৃতা দিয়েছিলেন তার মধ্যে ভারতের নারী, নারী শিক্ষা, ভারতের আদর্শ, ভারতের দর্শন, বিশ্বভগ্নীত্ববোব (Universal Sisterhood), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধীর দর্শন ও বৈদিক সঙ্গীত খুন জনপ্রিয় হয়। বার বার নানান জায়গা থেকে তার ডাক আসে। শেষদিকে আরো দুটো বক্তৃতা দিয়েছিলেন মাই পিল গ্রীমেজ টু আমেরিকা ও এ্যাডভানটেজ এ্যাণ্ড ডিজএ্যাডভানটেজ অব ইণ্টার ম্যারেজ বিটুইন ইন্দো-এরিয়ানস এ্যাণ্ড ইউরো-এরিয়া। প্রায় দু বছর ধরে বিদেশ সফর করে ঘরে ফিরে আসেন। সুষমা ১৯২৯ সালের জুলাই মাসে। সঙ্গে নিয়ে আসেন শিক্ষণ ব্যবস্থার রীতিপদ্ধতি, মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও দুর্লভ সম্মান। যুক্তরাষ্ট্রের আটত্রিশটি জায়গায় সুষমা বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল অবশ্য শিক্ষা তাই তাকে ওয়াল্ড ফেডারেশন অব ন্যাশনাল এডুকেশনের কনফারেন্সেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা গেছে। তিনি সব সময় বলেছেন শিক্ষার মতো প্রয়োজনী আর কিছুই নয়, The general education for the masses is more important than any kind of agitation for political clauge. তাই কাকা রবীন্দ্রনাথের মতোই তিনিও গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনকে সমর্থন করতে পারেননি। বলেছেন, A word such as non-co-operation is meaningless to the great majority in India, education being permanet and political condition transitory.
ভারতবর্ষে ফিরে এসে সুষমা তাঁর বিপুল অভিজ্ঞতাকে খুব বেশি কাজে লাগাতে পারলেন না কারণ তার স্বামী ও এক কন্যার আকস্মিক মৃত্যু এবং দুই পুত্রের সন্ন্যাস গ্রহণ তাকে জটিল সমস্যার মুখোমুখি করে দিল। অবশ্য ভেঙে পড়েননি সুষমা। শিক্ষা এবং স্কুল সম্বন্ধে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির কথা ছাপা হল সংবাদপত্রে। জনশিক্ষা বিস্তারের জন্যে তার চিন্তা এবং পরিকল্পনা সত্যিই অভিনন্দনযোগ্য। তার পরিকল্পনার প্রধান তিনটি পদক্ষেপ হল :
১. ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অন্তত ২০ জন সদস্য নিয়ে ভারতের গ্রাম নিরক্ষরতা দূরীকরণ সমিতি নামে একটা সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
২. প্রত্যেক প্রদেশে একটা করে প্রাদেশিক কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
৩. যেখানে যেখানে ইউনিশ্লন বোর্ড আছে এবং সেই বোর্ডের অধীনে যত গ্রাম আছে, তাদের প্রত্যেক গ্রামের এক একজন প্রতিনিধি নিয়ে প্রাদেশিক কমিটি খুলবে গ্রাম্য শিক্ষা কমিটি। এছাড়া গ্রামের ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়তে আসছে কিনা সেটা দেখার ভার থাকবে গ্রাম্য শিক্ষা কমিটির ওপর। স্থানীয় চাঁদায় পাঠশালার জিনিষপত্র কেনা হবে, ক্লাস হবে খোলা হাওয়ায়, গাছের নীচে। আর যদি স্বতঃপ্রবৃত্ত শিক্ষক না পাওয়া যায় তাহলে তাকে সামান্য পারিশ্রমিক অর্থাৎ নগদে না হোক চাল ডাল জিনিষপত্র দিতে হবে। প্রত্যেক জমিদারকে দিতে হবে পাঁচ বিঘা জমি আর প্রত্যেক প্রদেশের জন্যে দরকার হবে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা।
মনে রাখতে হবে, সুষমা যখনকার কথা ভেবেছেন তখন ভারতের শাসক বিদেশী। সুতরাং সরকারী সাহায্যের কথা তিনি ভাবেননি। তার এই পরিকল্পনার মধ্যে পল্লীচিন্তা এবং শিক্ষাবিস্তারের বাস্তবানুগ ধারণার ছাপ স্পষ্ট। এখনকার দিনে বয়স্ক শিক্ষার প্রসারের কথাও ভাবা হচ্ছে। গ্রামের মধ্যে থেকেই এ ধরনের কমিটি গড়ে উঠলে শিক্ষার প্রসার আরও সহজ হবে বলেই মনে হয়। এর পরেও সুষমা দীর্ঘদিন ছিলেন। ইদানীংকালে আমেরিকায় নারীমুক্তি আন্দোলনের ঝড় তুলেছিলেন বেটি ফ্রিডান, গ্লোরিয়া স্টেনেম ও কেটি মিলেট— কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে সুষমা আর নারীমুক্তি নিয়ে চিন্তা করেননি। কেউ তার মতামতও জানতে চাননি। অথচ এ সময় তিনি প্রবন্ধ লিখেছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন, স্কুলে পড়িয়েছেন কিন্তু সবই নীরবে প্রায় নিভৃতে। দুঃখের বিষয় এই যে, আন্তর্জাতিক নারীবর্ষেও সুষমা রয়ে গেলেন সবার অলক্ষ্যে।
সুষমা সম্বন্ধে আর একটি কথা বলে আমরা প্রসঙ্গান্তরে যাব। তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধ আমেরিকায় বেদান্ত ধর্মের প্রভাব ও সমাদর। প্রবন্ধটি তৎকালীন কোন কাগজে ছাপা হয়নি বলে পাণ্ডুলিপি আকারেই পড়ে আছে। খানিকটা বাদ দিয়ে ১৩৩৬ সালের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা চতুরঙ্গে ছাপা হলেও আমাদেয় কৌতূহল উদ্রেক করে সুষমার মূল রচনাটি। কারণ এতে সুষমা স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কিত কিছু খবর দিয়েছেন। যদিও এ খবর আমাদের অজানা নয়, তবু ঠাকুরবাড়ির একটি মেয়ে আমেরিকায় গিয়ে স্বামীজীর সংবাদ সংগ্রহ করতে আগ্রহী হয়েছিলেন জেনে ভাল লাগে বৈকি। রামকৃষ্ণ মিশন এবং সন্ন্যাসীদের প্রতি সুষমার শ্রদ্ধা ছিল। তার জ্যেষ্ঠ পুত্রও রামকৃষ্ণ মিশন থেকে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। সুষমার সঙ্গে আমেরিকায় স্বামী অভেদানন্দ, স্বামী পরমানন্দ, ভগিনী দেবমাতা ও ভগিনী দয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় হয়। যাইহোক, ভারতবর্ষে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ স্বামীজীর আমেরিকাবাস ও ভ্রমণ সম্পর্কে নানারকম কুৎসা রটাচ্ছিলেন। দু একটি সংবাদপত্রও এ ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ইন্সে করেই এ সব কুৎসাকে প্রশ্রয় দিতে থাকলেও খবরের কাগজের এসব সংবাদ অধিকাংশ ভারতবাসীকে সেদিন মর্মাহত করেছিল। দুঃখ পেয়েছিলেন সুষমা। তাই আমেরিকায় গিয়ে তিনি এই পৃতচরিত্র সন্ন্যাসীর মিথ্যা দুর্নাম সম্বন্ধে বহু খোঁজ করেন। সুষমার অনুসন্ধান ব্যর্থ হয়নি। আমেরিকার বিভিন্ন মানুষ বিশেষ করে মহিলারা জানান স্বামীজীর নামে যা কিছু রটানো হয়েছে সবই মিথ্যা, এমনকি তার পেছনে তদানীন্তন সরকারেরও চক্রান্ত রয়েছে। স্বামীজীর প্রতি সুষমার শ্রদ্ধা এবং তার এই অনুসন্ধান স্পৃহা আমাদের মুগ্ধ করে।
