ডেভিড বলল, ও মাই গড! এই ট্রাফিক জ্যামের কথা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। গতবার ঢাকা এসে আমি বুঝেছিলাম ট্রাফিক জ্যাম কাকে বলে।
আমি আর সাজিদ আবারও হেসে উঠলাম। সাজিদ বলল, হ্যাঁ। এটাই তো সমস্যা। তা, অ্যালেনদের বাসাটি কোথায় যেন?
সে বলল, আই ডোন্ট নো একচুয়ালি। তার সাথে কনট্যাক্ট করে জানতে হবে।
ঠিক আছে, বলল সাজিদ। কিন্তু ডেভিড, আমার একটি প্রশ্ন আছে।
ডেভিড বলল, শিওর।
ক্রিসমাস ডে কেন পালন করা হয় সে ব্যাপারে আমরা তোমার কাছ থেকে জানতে চাই।
ডেভিড অবাক হয়ে বলল, আই সী। তোমরা জানো না ক্রিসমাস ডে কেন পালন করা হয়?
আমরা দুজনেই চুপ করে রইলাম। ডেভিড আবার বলল, ক্রিসমাস ডে হলো জিসাস ক্রাইস্টের জন্মদিন। এই দিনে, অর্থাৎ পচিশে ডিসেম্বর মাতা মেরী জিসাস ক্রাইস্টকে জন্ম দেন। আমাদের পরম পবিত্র ঈশ্বরের এই দিনে পৃথিবীতে আগমনের স্মৃতি হিশেবে আমরা পঁচিশে ডিসেম্বরকে ক্রিসমাস ডে হিশেবে পালন করি।
সাজিদ বলল, আই সী…।
সাজিদকে আই সী বলতে দেখে ডেভিড বলল, সাজিদ, আমার কথা শুনে তুমি বেশ অবাক হলে বলে মনে হলো।
সাজিদ বলল, অবাক হওয়ার মতোই তো ব্যাপার।
সাজিদের কথা শুনে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম। যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিনেই তো বড়দিন তথা ক্রিসমাস ডে পালন করা হয়। এ কথা তো একটি বাচ্চা ছেলেও জানে। এটি শুনে তো সাজিদের অবাক হবার কথা নয়।
আমার মতো ডেভিডও অবাক হলো। সে তার কপালের ভাঁজ মোটা করে বলল, অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার মানে? বুঝতে পারলাম না কিছুই।
সাজিদ থামল একটু। বলল, আচ্ছা ডেভিড, তোমার জন্মদিন কবে?
ডেভিড বুঝতে পারল না জিসাস ক্রাইস্টের জন্মদিনের সাথে তার জন্মদিনের কী। সম্পর্ক। তারপরও সে বলল, জুলাইয়ের সতেরো তারিখ।
সাজিদ বলল, বাহ। তোমার জন্মদিনের সাথে একজন বিখ্যাত ব্যক্তির জন্মদিনের মিল রয়েছে।
ডেভিড বলল, কার?
স্যার জর্জ ল্যামিত্রে। আধুনিক বিগ ব্যাং থিওরির জনক বলা হয় যাকে। তিনিও জন্মেছিলেন আঠারোশো চুরানব্বই সালের সতেরোই জুলাইতে।
আমি বুঝতে পারছি না সাজিদ এসব কী আলাপ করছে ডেভিডের সাথে। বুঝতে না পারলেও কিছু করার নেই। চুপ করে শুনে যেতে হবে।
সাজিদ আবার বলল, আচ্ছা ডেভিড, তোমার জন্মদিন হলো জুলাইয়ের সতেরো তারিখে; কিন্তু আমি যদি তোমার জন্মদিন পালন করি জানুয়ারির পাঁচ তারিখে, তোমার তখন কেমন লাগবে?
ডেভিড বলল, স্ট্রেইঞ্জ! জানুয়ারির পাঁচ তারিখে কেন আমার জন্মদিন পালন করতে যাবে?
যদি পালন করা হয়, তোমার কেমন লাগবে সেটাই বলল।
ডেভিড চোখমুখ শক্ত করে বলল, এটি অবশ্যই ঠিক কাজ হবে না। আমি যেদিন জন্মেছি, সেদিনই আমার জন্মদিন পালন হওয়া উচিত। অন্য কোনো দিনে নয়।
দ্যাটস রাইট, বলল সাজিদ। একদম ঠিক বলেছ; কিন্তু আমি যদি বলি তোমরা ঠিক এমন একটি দিনে যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন পালন করো যেদিন আসলে তার জন্মদিনই নয়?
এবার হাঁ হয়ে গেল ডেভিডের মুখ। চমকে গেলাম আমিও। কী বলল এটি সাজিদ? ডেভিড কিছুক্ষণ ওভাবেই তাকিয়ে ছিল সাজিদের দিকে। এরপর প্রশ্ন করল, কী বললে তুমি?
সাজিদ বলল, আমি বললাম যে, খ্রিষ্টানরা যে-দিনটি যিশুর জন্মদিন হিশেবে পালন করে, সে-দিন আসলে যিশুর জন্মদিন নয়। তারা ভুল একটি দিনকে উদ্যাপন করে যাচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।
বুঝতে পারলাম না। সাজিদ কি ড্যান ব্রাউন সাজতে চাচ্ছে নাকি? খ্রিষ্টানরা নাকি যুগের পর যুগ ধরে ভুল দিনে যিশুর জন্মদিন পালন করে আসছে। হাউ স্ট্রেইঞ্জ! ডেভিড মুখ খুলল। বলল, সরি, কুডনট আন্ডারস্ট্যান্ড। ক্যান ইউ ক্ল্যারিফাই ইট পোপারলি?
এই প্রথম ডেভিডের মুখে ন্যাটিভ আমেরিকান টোন শুনলাম। সাজিদ নড়েচড়ে বসল। বলল, আচ্ছা, আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলছি। তুমি কি কখনো তোমাদের পবিত্র বাইবেল আগাগোড়া পড়ে দেখেছ?
ডেভিড না সূচক মাথা নাড়ল। পড়েনি। সাজিদ বলল, কোনো সমস্যা নেই; কিন্তু ডেভিড, আমি যদি তোমাকে বলি যিশু খ্রিষ্ট কোন দিনে জন্মগ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে বাইবেলে একটি শব্দও নেই, তুমি কি বিশ্বাস করবে?
ডেভিড কোনো কিছুই বলল না। একটি প্রচ্ছন্ন নীরবতা নেমে এলো আমাদের মাঝে। সাজিদ আবার বলতে শুরু করল, ডেভিড, খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হলেও সত্য এই যে, পুরো বাইবেলে যিশুর জন্মদিনের ব্যাপারে এক্সাক্ট একটি শব্দও তুমি খুঁজে পাবে না; বরং যিশুর জন্মদিন নিয়ে বাইবেল যা ইঙ্গিত করে, তা শুনলে তুমি নিজেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবে।
যেমন?, জানতে চাইল ডেভিড।
আচ্ছা, বল তো যিশু কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
ডেভিড দ্রুত উত্তর দিল। বলল, বেথেলহামে।
রাইট। এই বেথেলহাম কোন দেশে অবস্থিত জানো?
হ্যাঁ। ফিলিস্তিন।
এক্সাক্টলি। তুমি কি জানো ফিলিস্তিনে ডিসেম্বরে কোন ঋতু থাকে? আই মিন, এখন ফিলিস্তিনে কোন ঋতু চলছে?
ফিলিস্তিন সম্পর্কে খুব বেশি জানাশোনা নেই ডেভিডের। এ জন্য সে বলতে পারল না ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনে কোন ঋতু চলে। তাকে হেল্প করল সাজিদ। বলল, আমি বলছি। ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনে এখানকার মতোই শীতকাল। তবে ফিলিস্তিনের শীতটা আরও প্রকট। ইউরোপের মতো শীতকালে ওখানেও তুষারবৃষ্টি হয়। গরমকালে প্রচণ্ড গরম আর শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা, শীতল হয়ে পড়ে ওই অঞ্চল।
