স্যার, বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের এই ফর্মুলা, কাজ, এটা কি আমাদের পৃথিবীতে সূর্যের বিস্ফোরিত গ্যাস, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, উল্কাপিণ্ড থেকে ‘ছাদ’ এর মতো রক্ষা করছে না? আপনার বাসায় বৃষ্টি পানি প্রবেশ করতে পারে না আপনার বাসার ছাদের জন্য। বিভিন্ন দুর্যোগে আপনার বাসার ছাদ যেমন আপনাকে রক্ষা করছে, ঠিক সেভাবে বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর কি আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা করছে না?
আমরা আকাশের সংজ্ঞা থেকে জানলাম যে, পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে উপরের সবকিছুই আকাশের মধ্য পড়ে। বায়ুমন্ডলও তো আকাশের মধ্যে পড়ে, এবং আকাশের সংজ্ঞায় বায়ুমন্ডলের কথা আলাদা করেই বলা আছে।
তাহলে বায়ুমণ্ডলের এই যে আশ্চর্যরকম ‘প্রটেক্টিং পাওয়ার’, এটার উল্লেখ করে যদি আল্লাহ বলেন- ‘আর আমরা আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ। অথচ তারা আমাদের নির্দেশনাবলী দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।’
তাহলে স্যার ভুলটা কোথায় বলছে? বিজ্ঞানতো নিজেই বলেছে, বায়ুমণ্ডল, স্পেশালি বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর একটি ছাদের ন্যায় পৃথিবীকে রক্ষা করছে। তাহলে আল্লাহও যদি একই কথা বলে, তাহলে সেটা অবৈজ্ঞানিক হবে কেন?
আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, হয় আপনার সে অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান বোঝেন না, নয়তো তিনি বিশেষ কোন গোষ্ঠীর পেইড এজেন্ট, যাদের কাজ সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মনগড়া কথা লিখে কোরআনের ভুল ধরা।’
কথাগুলো বলে সাজিদ থামল। পুরো ক্লাসে এতক্ষণ একটা লেকচার দিয়ে গেল বলে মনে হচ্ছে। তাকে আইনস্টাইন বলায় যারা খলখল করে হাসতো, তাদের চেহারাগুলো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। মফিজুর রহমান স্যার কিছুই বললেন না। See you Next বলে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলেন সেদিন।
কোরআনে বিজ্ঞান – কাকতালীয় না বাস্তবতা
কোরআনে বিজ্ঞান – কাকতালীয় না বাস্তবতা
দেবাশীষ বললো, -‘ধর্ম গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজ্ঞান খোজা আর আমাজন জঙ্গলের রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে সভ্যতার খোঁজা একই ব্যাপার। দুটোই হাস্যকর। হা হা হা হা।’
ওর কথায় অন্যরা খুব ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। শাকিব বলল, -‘দেখ দেবাশীষ, অন্য ধর্ম গ্রন্থগুলোর ব্যাপারে জানিনা, তবে আল কোরআনে এমন অনেক বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্ট নিয়ে বলা আছে, যা বিজ্ঞান অতি সম্প্রতি জানতে পেরেছে।’
দেবাশীষ বিদ্রূপ করে বলল, -‘এই জন্যই তো মুসলমানদের কেউই নোবেল পায় না বিজ্ঞানের। সব অই ইহুদি-খ্রিস্টানরাই মেরে দেয়। তখন আবার বলিস না যে, ইহুদি-খ্রিস্টান কোরআন পড়ে এসব বের করেছে। হা হা হা। পারিসও ভাই তোরা। হা হা হা।’
রাকিব বলল, -‘নোবেল লাভ করার উদ্দেশ্যে তো কোরআন নাজিল হয়নি, কোরআন এসেছে একটি গাইডবুক হিসেবে। মানুষকে মুত্তাকী বানাতে।’
-‘হুম, তো।’দেবাশীষের প্রশ্ন।
রাকিব কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। ঠিক সে সময় সাজিদ বলে উঠলো, -‘আমি দেবাশীষের সাথে একমত। আমাদের উচিত না ধর্ম গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজ্ঞান খোঁজা।’
সাজিদের কথা শুনে আমরা সবাই ‘থ’ হয়ে গেলাম। কোথায় সে দেবাশীষকে যুক্তি আর প্রমাণ দিয়ে এক হাত নেবে তা না, উল্টো সে দেবাশীষের পক্ষে সাফাই করছে।
সাজিদ আবার বলতে লাগল, -‘আরো ক্লিয়ারলি, বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলোকে যাচাই করা ঠিক না। কারণ, ধর্মগ্রন্থগুলো ইউনিক। পাল্টানোর সুযোগ নেই। কিন্তু বিজ্ঞান প্রতিনিয়তই পাল্টায়। বিজ্ঞান এতই ছলনাময়ী যে, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনকেও তার দেওয়া মত তুলে নিয়ে ভুল স্বীকার করতে হয়েছে।
দেবাশীষ বললো, -‘মানে? তুই কি বলতে চাস?’
সাজিদ মুচকি হাসল। বলল। -‘দোস্ত, আমি তো তোকেই ডিফেন্ড করছি। বলছি যে, ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞান খোঁজা আর তা দিয়ে ধর্মগ্রন্থ জাজ করাটা বোকামি। আচ্ছা বাদ দে। দেবাশীষ, শেক্সপিয়ারের রচনা তোর কাছে কেমন লাগে রে?’
একটু অবাক হলাম। এ আলোচনায় আবার শেক্সপিয়ার আসে কোথা থেকে এসে পড়ল? যাহোক, কাহিনী কোন দিকে মোড় নেয় দেখার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
-‘ভালো লাগে। কেন?’
-‘হেলমেট পড়েছিস?’
-‘হ্যাঁ।’
-‘পড়ে নিশ্চয়ই কান্না পেয়েছে?’
দেবাশীষ বাঁকা চোখে সাজিদের দিকে তাকালো। সাজিদ বলল, -‘আরে বাবা, এটা তো কোন রোমান্টিক রচনা না যে এটা পড়ে মজা পেয়েছিস কিনা জিজ্ঞেস করবো। এটা একটা করুন রসভিত্তিক রচনা। এটা পড়ে মন খারাপ হবে, কান্না পাবে এটাই স্বাভাবিক, তাই নয়।’
দেবাশীষ কিছু বললো না।
সাজিদ আবার বলল, -‘শেক্সপিয়ারের ‘A Mid Summer Night’s Dream’ পড়েছিস?কিংবা Comedy of Errors?’
-‘হ্যাঁ’
-‘Comedy of Errors পড়ে নিশ্চয়ই হেসে কুটিকুটি হয়েছিস। তাই না? হা হা হা হা।’
দেবাশীষ বললো, -‘হ্যাঁ, মজার রচনা।’
সাজিদ বললো, -‘তোকে শেক্সপিয়ারের আরকেটি নাটকের নাম বলি। হয়তো পড়ে থাকবি। নাটকের নাম হচ্ছে ‘Henry The Fourth’। ধারণা করা হয়, শেক্সপিয়ার এই নাটকটি লিখেছেন ১৫৯৭ সালের দিকে এবং সেটি প্রিন্ট হয় ১৬০৫ সালের দিকে।’
-‘তো?’
-‘আরে বাবা, বলতে দে। সেই নাটকের এক পর্যায়ে মৌমাছিদের নিয়ে দারুণ কিছু কথা আছে। শেক্সপিয়ার দেখিয়েছেন, পুরুষ মৌমাছিদের একজন রাজা থাকে। রাজাটা নির্ধারিত হয় পুরুষ মৌমাছিদের ভেতর থেকেই। রাজা ব্যতীত, অন্যান্য মৌমাছিদের হলো সৈনিক মোমাছি। এই সৈনিক মোমাছিদের কাজ হল, মৌচাক নির্মাণ, মধু সংগ্রহ থেকে শুরু করে সব। রাজার নির্দেশমতো সৈনিক মৌমাছিরা তাদের প্রত্যাহিক কাজ শেষ করে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাজা রাজা মউমাছির কাছে জবাবদিহি করে। অনেকটা প্রাচীন যুগের রাজা বাদশাহের শাসনের মতো আর কি।’
