• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
বৃহস্পতিবার, জুন 11, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

বিবিধ রচনা (বঙ্কিম) – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Bibidha Prabandha by Bankim Chandra Chatterjee

মেঘ

আমি বৃষ্টি করিব না। কেন বৃষ্টি করিব? বৃষ্টি করিয়া আমার কি সুখ? বৃষ্টি করিলে তোমাদের সুখ আছে। তোমাদের সুখে আমার প্রয়োজন কি?

দেখ, আমার কি যন্ত্রণা নাই? এই দারুণ বিদ্যুদগ্নি আমি অহরহ হৃদয়ে ধারণ করিতেছি। আমার হৃদয়ে সেই সুহাসিনীর উদয় দেখিয়া তোমাদের চক্ষু আনন্দিত হয়, কিন্তু ইহার স্পর্শ মাত্রে তোমরা দগ্ধ হও। সেই অগ্নি আমি হৃদয়ে ধরি! আমি ভিন্ন কাহার সাধ্য এ আগুন হৃদয়ে ধরে?

দেখ, বায়ু আমাকে সর্ব্বদা অস্থির করিতেছে। বায়ু, দিগ্‌বিদিক্ বোধ নাই, সকল দিক্ হইতে বহিতেছে। আমি যাই জলভারগুরু, তাই বায়ু আমাকে উড়াইতে পারে না।

তোমরা ভয় করিও না, আমি এখনই বৃষ্টি করিতেছি-পৃথিবী শস্যশালিনী হইবে। আমার পূজা দিও।

আমার গর্জ্জন অতি ভয়ানক-তোমরা ভয় পাইও না। আমি যখন মন্দগম্ভীর গর্জ্জন করি, বৃক্ষপত্র সকল কম্পিত হইয়া, শিখিকুলকে নাচাইয়া, মৃদু গম্ভীর গর্জ্জন করি, তখন ইন্দ্রের হৃদয়ে মন্দারমালা দুলিয়া উঠে, নন্দসূনুশীর্ষকে শিখিপুচ্ছ কাঁপিয়া উঠে, পর্ব্বত-গুহায় মুখরা প্রতিধ্বনি হাসিয়া উঠে। আর বৃত্রনিপাতকালে, বজ্রসহায় হইয়া যে গর্জ্জন করিয়াছিলাম, সে গর্জ্জন শুনিতে চাহিও না-ভয় পাইবে।

বৃষ্টি করিব বৈ কি? দেখ, কত নবযূথিকা-দাম আমার জলকণার আশায় ঊর্দ্ধমুখী হইয়া আছে। তাহাদিগের শুভ্র, সুবাসিত বদনমণ্ডলে স্বচ্ছ বারিনিষেক, আমি না করিলে কে করে?

বৃষ্টি করিব বৈ কি? দেখ, তটিনীকুলের দেহের এখনও পুষ্টি হয় নাই। তাহারা যে আমার প্রেরিত বারিরাশি প্রাপ্ত হইয়া, পরিপূর্ণ হৃদয়ে হাসিয়া হাসিয়া, নাচিয়া নাচিয়া, কল কল শব্দে উভয় কূল প্রতিহত করিয়া, অনন্ত সাগরাভিমুখে ধাবিত হইতেছে, ইহা দেখিয়া কাহার না বর্ষিতে সাধ করে?

আমি বৃষ্টি করিব না। দেখ, ঐ পাপিষ্ঠা স্ত্রীলোক, আমারই প্রেরিত বারি, নদী হইতে কলসী পূরিয়া তুলিয়া লইয়া যাইতেছে, এবং “পোড়া দেবতা একটু ধরণ কর না” বলিয়া আমাকেই গালি দিতেছে। আমি বৃষ্টি করিব না।

দেখ, কৃষকের ঘরে জল পড়িতেছে বলিয়া আমায় গালি দিতেছে। নহিলে সে কৃষক কেন? আমার জল না পাইলে তাহার চাষ হইত না-আমি তাহার জীবনদাতা। ভদ্র, আমি বৃষ্টি করিব না।

সেই কথাটি মনে পড়িল,

মন্দং মন্দং পবনশ্চানুকূলো যথা ত্বাং
বামশ্চায়ং নদতি মধুরশ্চাতকস্তে সগর্ব্বঃ।

কালিদাসাদি যেখানে আমার স্তাবক, সেখানে আমি বৃষ্টি করিব না কেন?

আমার ভাষা শেলি বুঝিয়াছিল। যখন বলি, I bring fresh showers for the thirsting flowers, তখন সে গম্ভীরা বাণীর মর্ম্ম শেলি নহিলে কে বুঝিবে? কেন জান? সে আমার মত হৃদয়ে বিদ্যুদগ্নি বহে। প্রতিভাই তাহার বিদ্যুৎ।

আমি অতি ভয়ঙ্কর। যখন অন্ধকারে কৃষ্ণকরাল রূপ ধারণ করি, তখন আমার ভ্রূকুটি কে সহিতে পারে? এই আমার হৃদয়ে কালাগ্নি বিদ্যুৎ তখন পলকে পলকে ঝলসিতে থাকে। আমার নিঃশ্বাসে, স্থাবর জঙ্গম উড়িতে থাকে, আমার রবে ব্রহ্মাণ্ড কম্পিত হয়।

আবার আমি কেমন মনোরম! যখন পশ্চিম-গগনে, সন্ধ্যাকালে লোহিতভাস্কারঙ্কে বিহার করিয়া স্বর্ণতরঙ্গের উপর স্বর্ণতরঙ্গ বিক্ষিপ্ত করি, তখন কে না আমায় দেখিয়া ভূলে? জ্যোৎস্না-পরিপ্লুত আকাশে মন্দ পবনে আরোহণ করিয়া কেমন মনোহর মূর্ত্তি ধরিয়া আমি বিচরণ করি। শুন পৃথিবীবাসীগণ! আমি বড় সুন্দর, তোমরা আমাকে সুন্দর বলিও।

আর একটা কথা আছে, তাহা বলা হইলেই আমি বৃষ্টি করিতে যাই। পৃথিবীতলে একটি পরম গুণবতী কামিনী আছে, সে আমার মনোহরণ করিয়াছে। সে পর্ব্বত-গুহায় বাস করে, তাহার নাম প্রতিধ্বনি। আমার সাড়া পাইলেই সে আসিয়া আমার সঙ্গে আলাপ করে। বোধ হয়, আমায় ভাল বাসে। আমিও তাহার আলাপে মুগ্ধ হইয়াছি। তোমরা কেহ সম্বন্ধ করিয়া আমার সঙ্গে তাহার বিবাহ দিতে পার?

রাজার উপর রাজা

গাছ পুঁতিলাম ফলের আশায়,
পেলাম কেবল কাঁটা।
সুখের আশায় বিবাহ করিলাম
পেলাম কেবল ঝাঁটা ||
বাসের জন্য ঘর করিলাম
ঘর গেল পুড়ে।
বুড়ো বয়সের জন্য পুঁজি করিলাম
সব গেল উড়ে ||
চাকুরির জন্যে বিদ্যা করিলাম,
ঘটিল উমেদারি।
যশের জন্য কীর্ত্তি করিলাম,
ঘটিল টিটকারী ||
সুদের জন্য কর্জ্জ দিলাম,
আসল গেল মারা।
প্রীতির জন্য প্রাণ দিলাম,
শেষে কেঁদে সারা ||
ধানের জন্য মাঠ চষিলাম,
হলো খড় কুটো ||
পারের জন্য নৌকা করিলাম,
নৌকা হলো ফুটো ||
লাভের জন্য ব্যবসা করিলাম,
সব লহনা বাকি।
সেটাম দিয়া আদালত করিলাম,
ডিক্রীর বেলায় ফাঁকি ||
তবে আর কেন ভাই, বেড়াও ঘুরে,
বেড়ে ভবের হাট।
ঘূর্ণী জলে নৌকা যেমন, ঝড়ের কুটো,
জ্বলন্ত আগুনের কাঠ ||
মুখে বল হরিনাম ভাই,
হৃদে ভাব হরি!
এ ব্যবসায় লোকসান নেই ভাই,
এসো লাভে ঘর ভরি ||
এ গুণেতে শত লাভ,
শত গুণে হাজার।
হাজারেতে লক্ষ লাভ,
ভারি ফলাও কারবার ||
ভাই বল হরি, হরি বোল,
ভাঙ্গ ভবের হাট!
রাজার উপর হওগে রাজা
লাট সাহেবের লাট ||

সংযুক্তা

১। স্বপ্ন

১

নিশীথে শুইয়া,                       রজত পালঙ্কে
পুষ্পগন্ধি শির,                       রাখি রামা অঙ্কে,
দেখিয়া স্বপন,                         শিহরে সশঙ্কে,
মহিষীর কোলে, শিহরে রায়।
চমকি সুন্দরী,                          নৃপে জাগাইল,
বলে প্রাণনাথ,                          এ বা কি হইল,
লক্ষ যোধ রণে,                       যে না চমকিল
মহিষীর কোলে সে ভয় পায়!

২

উঠিয়া নৃপতি                         কহে মৃদু বাণী
যে দেখিনু স্বপন,                    শিহরে পরাণি,
স্বর্গীয়া জননী                          চৌহনের রাণী
বন্য হস্তী তাঁরে মারিতে ধায়।
ভয়ে ভীত প্রায়                        রাজেন্দ্রঘরণী
আমার নিকটে                        আসিল অমনি
বলে পুত্র রাখ,                         মরিল জননী
বন্যহস্তি-শূণ্ডে প্রাণ বা যায় ||

৩

ধরি ভীম গদা                          মারি হস্তিতুণ্ডে
না মানিল গদা,                        বাড়াইয়া শূণ্ডে
জননীকে ধরি,                         উঠাইলে মুণ্ডে;
পড়িয়া ভূমেতে বধিল প্রাণ।
কুস্বপন আজি                         দেখিলাম রাণি,
কি আছে বিপদ                      কপালে না জানি
মত্ত হস্তী আসি                       বধে রাজেন্দ্রাণী
আমি পুত্র নারি করিতে ত্রাণ ||

৪

শুনিয়াছি নাকি                      তুরস্কের দল
আসিতেছে হেথা,                  লঙ্ঘি হিমাচল
কি হইবে রণে,                      ভাবি অমঙ্গল,
বুঝি এ সামান্য স্বপন নয়।
জননীরূপেতে                       বুঝি বা স্বদেশ
বুঝি বা তুরস্ক                       মত্ত হস্তী বেশ,
বার বার বুঝি                      এইবার শেষ!
পৃথ্বীরাজ নাম বুঝি না রয় ||

৫

শুনি পতিবাণী                                  যুড়ি দুই পাণি
জয় জয় জয়!                                  বলে রাজরাণী
জয় জয় জয়                                 পৃথ্বীরাজের জয়-
জয় জয় জয়! বলিল বামা।
কার সাধ্য তোমা                                  করে পরাভব
ইন্দ্র চন্দ্র যম                                      বরুণ বাসব।
কোথাকার ছার                                     তুরষ্ক পহ্লব
জয় পৃথ্বীরাজ প্রথিতনামা ||

৬

আসে আসুক না                                   পাঠান পামর,
আসে আসুক না                                আরবি বানর,
আসে আসুক না                               নর না অমর।
কার সাধ্য তব শকতি সয়?
পৃথ্বীরাজ সেনা                                     অনন্ত মণ্ডল
পৃথ্বীরাজভূজে                                       অবিজিত বল
অক্ষয় ও শিরে                                  কিরীট কুণ্ডল
জয় জয় পৃথ্বীরাজের জয় ||

৭

এত বলি বামা                                   দিল করতালি
দিল করতালি                                  গৌরবে উছলি,
ভূষণে শিঞ্জিনী,                                   নয়নে বিজলি
দেখিয়া হাসিল ভরতপতি।
সহসা কঙ্কণে                                       লাগিল কঙ্কণ,
আঘাতে ভাঙ্গিয়া                                    খসিল ভূষণ,
নাচিয়া উঠিল                                       দক্ষিণ নয়ন,
কবি বলে তালি না দিও সতি ||

২। রণসজ্জা।

১

রণসাজে সাজে                            চৌহানের বল,
অশ্ব গজ রথ                                পদাতির দল,
পতাকার রবে,                               পবন চঞ্চল,
বাজিল বাজনা-ভীষণ নাদ।
ধূলিতে পূরিল                                   গগনমণ্ডল,
ধূলিতে পূরিল                                যমুনার জল,
ধূলিতে পূরিল                               অলক কুন্তল,
যথা কূলনারী গণে প্রমাদ ||

২

দেশ দেশ হতে                              এলো রাজগণ
স্থানেশ্বর পদে                                 বধিতে যবন
সঙ্গে চতুরঙ্গ                               সেনা অগণন-
হর হর বলে যতেক বীর।
মদবার2  হতে                               আইল সমর3
আবু হতে                              এলো দুরন্ত প্রমর
আর্য্য বীরদল                           ডাকে হর! হর!
উছলে কাঁপিয়া কালিন্দী-নীর ||

৩

গ্রীবা বাঁকাইয়া                              চলিল তুরঙ্গ
শূণ্ড আছাড়িয়া                       চলিল মাতঙ্গ
ধনু আস্ফালিয়া-                   শুনিতে আতঙ্গ-
দলে দলে দলে পদাতি চলে।
বসি বাতায়নে                              কনৌজনন্দিনী
দেখিলা অদূরে                             চলিছে বাহিনী
ভারত ভরসা,                               ধরম রক্ষিণী-
ভাসিলা সুন্দরী নয়নজলে ||

৪

সহসা পশ্চাতে                       দেখিল স্বামীরে,
মুছিলা অঞ্চলে                          নয়নের নীরে,
যুড়ি দুই কর                       বলে “হেন বীরে
রণসাজে আমি সাজাব আজ।”
পরাইল ধনী                               কবচকুণ্ডল
মুকতার দাম                           বক্ষে ঝলমল
ঝলসিল রত্ন                           কিরীট মণ্ডল
ধনু হস্তে হাসে রাজেন্দ্ররাজ ||

৫

সাজাইয়া নাথে                     যোড় করি পাণি
ভারতের রাণী                        কহে মৃদু বাণী
“সুখী প্রাণেশ্বর                      তোমায় বাখানি
এ বাহিনীপতি চলিলা রণে।
লক্ষ যোধ প্রভু                       তব আজ্ঞাকারী,
এ রণসাগরে                        তুমি হে কাণ্ডারী
মথিবে সে সিন্ধু                         নিয়তি প্রহারি
সেনার তরঙ্গ তরঙ্গসনে ||

৬

আমি অভাগিনী                       জনমি কামিনী
অবরোধে আজি                       রহিনু বন্দিনী
না হতে পেলাম                      তোমার সঙ্গিনী,
অর্দ্ধাঙ্গ হইয়া রহিনু পাছে।
যবে পশি তুমি                           সমর-সাগরে
খেদাইবে দূরে                        ঘোরির বানরে
না পাব দেখিতে,                    দেখিবে ত পরে,
তব বীরপনা! না রব কাছে ||

৭

সাধ প্রাণনাথ                   সাধ নিজ কাজ
তুমি পৃথ্বীপতি                   মহা মহারাজ
হানি শত্রুশিরে                 বাসবের বাজ
ভারতের বীর আইস ফিরে।
নহে যদি শম্ভু                    হয়েন নির্দ্দয়
যদি হয় রণে                    পাঠানের জয়
না আসিও ফিরে,-             দেহ যেন বয়
রণক্ষেত্রে ভাসি শত্রুরুধিরে ||

৮

কত সুখ প্রভু,               ভুঞ্জিলে জীবনে!
কি সাধ বা বাকি             এ তিন ভূবনে?
নয় গেল প্রাণ,               ধর্ম্মের কারণে?
চিরদিন রহে জীবন কার?
যুগে যুগে নাথ              ঘোষিবে সে যশ
গৌরবে পূরিত                হবে দিক্ দশ
এ কান্ত শরীর                     এ নব বয়স
স্বর্গ গিয়ে প্রভু পাবে আবার ||

৯

করিলাম পণ                 শুন হে রাজন
নাশিয়া ঘোরীরে,           জিতি এই রণ
নাহি যতক্ষণ                  কর আগমণ,
না খাব কিছু, না করিব পান।
জয় জয় বীর                জয় পৃথ্বীরাজ,
লভ পূর্ণ জয়                সমরেতে আজ
যুগে যুগে প্রভু              ঘোষিবে এ কাজ
হর হর শম্ভো কর কল্যাণ ||

১০

হর হর হর!                    বম্ বম্ কালী!
বম্ বম্ বলি                   রাজার দুলালি,
করতালি দিল-                 দিল করতালি
রাজরাজপতি ফুল্ল হৃদয়।
ডাকো বামা জয়                জয় পৃথ্বীরাজ
জয় জয় জয়                      জয় পৃথ্বীরাজ-
জয় জয় জয়                      জয় পৃথ্বীরাজ
কর, দুর্গে, পৃথ্বীরাজের জয় ||

১১

প্রসারিয়া রাজ                মহা ভূজদ্বয়ে,
কমনীয় বপু,                  ধরিল হৃদয়ে,
পড়ে অশ্রুধারা               চারি গণ্ড বয়ে,
চুম্বিল সুবাহু চন্দ্রবদনে।
স্মরি ইষ্টদেবে                 বাহিরিল বীর,
মহাগজপৃষ্ঠে                   শোভিল শরীর
মহিষীর চক্ষে                  বহে ঘন নীর।
যে জানে এতই জল নয়নে।

১২

লুটাইয়া পড়ি                       ধরণীর তলে
তবু চন্দ্রাননী                       জয় জয় বলে
জয় জয় বলে-                     নয়নের জলে
জয় জয় কথা না পায় ঠাই।
কবি বলে মাতা                     মিছে গাও জয়
কাঁদ যতক্ষণ                          দেহ প্রাণ রয়,
ও কান্না রহিবে                       এ ভারতময়
আজিও আমরা কাঁদি সবাই ||

৩। চিতারোহণ

১

কত দিন রাত                   পড়ে রহে রাণী
না খাইল অন্ন                     না খাইল পানি
কি হইল রণে                     কিছুই না জানি,
মুখে বলে পৃথ্বীরাজের জয়।
হেন কালে দূত                   আসিল দিল্লীতে
রোদন উঠিল                     পল্লীতে পল্লীতে-
কেহ নারে কারে                  ফুটিয়া বলিতে,
হায় হায় শব্দ ফাটে হৃদয়!

২মহারবে যেন                        সাগর উছলে
উঠিল রোদন                        ভারতমণ্ডলে
ভারতের রবি                       গেল অস্তাচলে
প্রাণ ত গেলই, গেল যে মান।
আসিছে যবন                         সামাল সামাল
আর যোদ্ধা নাই                      সে ধরিবে ঢাল?
পৃথ্বীরাজ বীরে                        হরিয়াছে কাল,
এ ঘোর বিপদে কে করে ত্রাণ ||

৩

ভূমিশয্যা ত্যজি                  উঠে চন্দ্রানী,
সখীজনে ডাকি                    বলিল  তখনি,
সম্মুখ সমরে                       বীরশিরোমণি
গিয়াছে চলিয়া অনন্ত স্বর্গে।
আমি যাইব                          সেই স্বর্গপুরে,
বৈকুণ্ঠেতে গিয়া                    পূজিব প্রভুরে,
পূরাও রে সাধ;                      দুঃখ যাক দূরে,
সাজা মোর চিতা সজনীবর্গে ||

৪

যে বীর পড়িল                     সম্মুখ সমরে
অনন্ত মহিমা                       তার চরাচরে
সে নহে বিজিত;                   অপ্সরে কিন্নরে,
গায়িতেছে তাহার অনন্ত জয়।
বল সখি সবে                       জয় জয় বল,
জয় জয় বলি                       চড়ি গিয়া চল
জ্বলন্ত চিতার                        প্রচণ্ড অনল,
বল জয় পৃথ্বীরাজের জয় ||

৫

চন্দনের কাষ্ঠ                        এলো রাশি রাশি
কুসুমের হার                        যোগাইল দাসী
রতন ভূষণ                           কর পরে হাসি
বলে যাব আজি প্রভুর পাশে।
আয় আয় সখি,                       চড়ি চিতানলে
কি হবে রহিয়ে                       ভারতমণ্ডলে?
আয় আয় সখি                        যাইব সকলে
যথা প্রভু মোর বৈকুণ্ঠবাসে ||

৬

আরোহিলা চিতা                        কামিনীর দল
চন্দনের কাষ্ঠে                             জ্বলিল অনল
সুগন্ধে পূরিল                              গগনমণ্ডল-
মধুর মধুর সংযুক্তা হাসে।
বলে সবে বল                            পৃথ্বীরাজ জয়
জয় জয় জয়                               পৃথ্বীরাজ জয়
করি জয়ধ্বনি                              সঙ্গে সখীচয়
চলি গেলা সতী বৈকুণ্ঠবাসে ||

৭

কবি বলে মাতা                       কি কাজ করিলে
সন্তানে ফেলিয়া                        নিজে পলাইলে,
এ চিতা অনল                         কেন বা জ্বালিলে,
ভারতের চিতা, পাঠান ডরে।
সেই চিতানল,                              দেখিল সকলে
আর না নিবিল                             ভারতমণ্ডলে
দহিল ভারত                               তেমনি অনলে
শতাব্দী শতাব্দী শতাব্দী পরে ||

======================

1 পৃথ্বীরাজের মহিষী-কান্যকুব্জরাজার কন্যা। টডকৃত রাজস্থানের সংযুক্তার বৃত্তান্ত দেখ।

2 মেবার।

3 সমর সিংহ।

Page 19 of 198
Prev1...181920...198Next
Previous Post

সাম্য – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Next Post

বনফুলের গল্প সমগ্র – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

Next Post

বনফুলের গল্প সমগ্র - বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

নূহর নৌকা - বাণী বসু

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In