যদি পৃথিবীতে যা আছে, তাই থাকে ৪৫২বি তে, তাহলে পৃথিবীর চেয়ে চার গুণ বেশি পদার্থ আছে ওর। তা যদি হয় তা হলে গ্র্যাভিটি বেড়ে যাবে পৃথিবীর চেয়ে ১.৬ গুণ। কারও ওজন যদি পৃথিবীতে একশ পাউণ্ড হয়, ৪৫২বিতে তার ওজন হবে ১৬০ পাউণ্ড, অবশ্য যদি আমাদের পৃথিবী যে পদার্থ দিয়ে তৈরি, সে পদার্থ দিয়ে যদি তৈরি হয় কেপলার ৪৫২বি। গ্র্যাভিটিটা বেশি হলে বেশি গ্যাস থাকে চারদিকে, এতে করে বাতাসটা বেশি ভারী হয়ে যায়। কেপলার ৪৫২বি গ্রহ কিন্তু আমাদের পৃথিবীর চেয়ে বেশি আলো আর বেশি তাপ গ্রহণ করতে পারে।
৪৫২বির আকার আমাদের পৃথিবীর মতো নয়। কিন্তু কেপলার-১৮-৬এফ-এর আকার ছিল পৃথিবীর আকারের মতো। কিন্তু ওটা ঠিক সাধারণ কোনও নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছিল না, যেটাকে ঘিরে আবর্তিত হতো সেটা যে কোনও নক্ষত্রের চেয়ে আকারে অনেক ছোট, তাপও যে কোনও নক্ষত্রের চেয়ে অনেক কম। কেপলার ১৮৬এফ-এ যদি প্রাণী থেকে থাকে, তবে সে প্রাণ ঠিক কেমন প্রাণ? ওখানকার বায়ুমণ্ডলই বা কেমন!জানতে ইচ্ছে হয়।
একটা সময় আমরা জানতাম না কোনও নক্ষত্রকে ঘিরে পৃথিবী ছাড়া আর কোনও গ্রহ আদৌ আবর্তিত হচ্ছে কি না। এখন আমরা জানি হাজারো গ্রহের খবর। আমাদের গ্যালাক্সিতেই তো কোটি কোটি পৃথিবীর মতো একই আকৃতির গ্রহ আছে। এও জানি ওগুলোর একটিও বাসযোগ্য নয়। ওগুলো হয় অতি ঠাণ্ডা নয়তো অতি গরম।
হয়তো কেপলার ৪৫২বি’টা ততটা পৃথিবীর মতো নয়, যতটা কেপলার ১৮৬এফ-টা। কারণ কেপলার ৪৫২বি টা পৃথিবীর চেয়ে আকারে অনেক বড়, গরমও অনেক বেশি। আমাদের কাজ পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য কোনও গ্রহ খুঁজে পাওয়া। খাপে খাপে না মিললেও হয়তো চলে, বাসযোগ্য হওয়াটাই আসল। কেপলার ১৮৬এফ এর সঙ্গে আকৃতি মিললেও উষ্ণতায় মিল নেই। কেপলার ৪৫২বির সঙ্গে উষ্ণতা মিললেও আকৃতিতে মিল নেই।
আমরা যা পেয়েছি সেই টুকুতেই খুশি হলে চলবে না। আমাদের আরও খুঁজতে হবে গ্রহ নক্ষত্র। আমরা আরও জানতে চাই, আরও বুঝতে চাই, আরও পেতে চাই। আমাদের আরও ভালো, আরও বড় টেলিস্কোপ দরকার, যে টেলিস্কোপ দিয়ে গ্রহগুলো আরও নিখুঁত করে দেখতে পাবো, কী পদার্থ দিয়ে গ্রহগুলো তৈরি, কীরকম তাপমাত্রা ওগুলোর, সব বুঝতে পারবো।
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে হয়তো আমরা একা নই। কিন্তু মহাশূন্য এত বিশাল যে আমরা একা হলেও আমরা একা পড়ে গেছি। অন্যান্য প্রাণীও হয়তো আমাদের মতোই একা পড়ে গেছে। আসলে কী, এই সৌর জগতের বাইরে অন্য কোনও সৌর জগতে একদিন না একদিন আমাদের পাড়ি জমাতেই হবে, যদি মানুষ নামক প্রজাতিকে বাঁচাতে চাই। কারণ এই পৃথিবী যে কোনও কারণেই হোক একদিন আর বাসযোগ্য থাকবে না। কোনও এসটোরয়েড পড়ে পৃথিবী অন্ধকার করে ফেলবে, তাছাড়া আমাদের সূর্য একসময় তো গ্যাস ফুরিয়ে নিভে যাবেই। সে সময় পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য কোনও গ্রহ আমাদের পেতেই হবে।
এত সহস্র কোটি গ্রহ বাসযোগ্য অবস্থানে যদি থাকে, তবে কোথাও না কোথাও প্রাণের জন্ম নিশ্চয়ই হয়েছে। সেই প্রাণীকূল আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হলে হয়তো এতদিনে আমাদের খুঁজে পেতো। অথবা, কেউ একজন বলেছিলো, বেশি বুদ্ধিমান বলেই হয়তো আমাদের মতো গবেটদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন ওরা মনে করছে না।
এই অন্তহীন মহাশূন্যে আমরা একা, এটার চেয়ে আমরা একা নই, এটাই হয়তো অনেক ভয়ের।
নাকুশা
শুনেছি মহারাষ্ট্রে অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুদের নাকুশা বলে ডাকা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু তো মেয়েরাই। অনাকাঙ্ক্ষিত বলেই গর্ভাবস্থাতেই তাদের হত্যা করা হয়। যদি তা না করা যায়, তবে জন্মের পর তাদের পুঁতে ফেলা হয়। মেয়েদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলার সংস্কৃতি বহু পুরনো।
মহারাষ্ট্র সরকার এখন মেয়ে শিশুদের পক্ষে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন, নাকুশা নামে ডাকার বদলে সত্যিকার কোনও একটি নামে যেন অনাকাঙ্খিত মেয়ে শিশুদের ডাকা হয় তার ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু জোর জবরদস্তিতে কি হাজার বছরের সংস্কৃতি বদলানো সম্ভব? আইন করে না-হয় নাকূশাদের কোনও নাম দেওয়ার বন্দোবস্ত হল, কিন্তু সমাজে মেয়ে শিশুরা যে কারণে অনাকাঞ্ছিত- সে অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে কি?
সমাজে এবং পরিবারে মেয়েরা যে ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হচ্ছে– তা গোটা নারীজাতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত করে রাখার জন্য সবচেয়ে বড় কারণ। মেয়েদের নিতান্তই যৌন সামগ্রী, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র এবং পুরুষের দাসী হিসেবে চিহ্নিত হতে হয়। মেয়েরা এখনও স্বামীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি, শুধু তাই নয়, এখনও তাদের সমাজের সম্পত্তি হিসেবে ভাবা হয়। সে কারণে একটি মেয়ে কোথায় গেল, কার সঙ্গে গেল, কার সঙ্গে শুলো, কী পোশাক পরলো, কী খেলো, কী পান করলো– তালক্ষ্য রাখে সমাজের সবাই। শুধু লক্ষ্যই রাখে না, উপদেশ বিতরণ করে, বিচার করে, শাস্তির ব্যবস্থা করে।
একটি মেয়ে পরিবারে, সমাজে, রাজনীতিতে– সব জায়গায় অনাকাঙ্খিত। একটি মেয়ে নারীবিরোধী পুরুষতান্ত্রিক সমাজে প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে বাস করে। যৌন নির্যাতনের শিকার তাদের হতে হয় জন্মের পর থেকেই। আজকাল মেয়েদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। মেয়েরা বাসে-ট্রেনে-স্কুলে-কলেজে-অফিসে আদালতে কোথাও নিরাপদ নয়। মেয়েদের বিয়েতে যৌতুক বা পণ দিতে হয়, তারপরও নিরাপদ নয় মেয়েরা। স্বামীরা আরও পণের লোভে শারীরিক-মানসিক অত্যাচার করে চলে। বধূহত্যা হামেশাই হচ্ছে। স্বামী শাশুড়িরা পুড়িয়ে মারছে বধূকে।
