২. ইজরাইল আর আমেরিকা আইসিসকে গড়েছে? ইজরাইল আর আমেরিকাকে তাদের অন্যায় আর নির্বুদ্ধিতার জন্য যত খুশি গালাগালি দাও। কিন্তু আইসিসের প্রতি সহানুভূতি দেখিও না। আইসিস নিরীহ মানুষদের খুন করছে। এই খুন ওরা নিজেদের বুদ্ধিতেই করছে। ইজরাইল আর আমেরিকা নয়, ওদের খুন করার প্রেরণা দিচ্ছে ওদের ধর্ম। আমেরিকা যদি আইসিসকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য নাও করতো, খুন করার ট্রেনিং যদি নাও দিতো, আইসিসরা খুন করতো। বাংলাদেশের ইসলামী-খুনীদের ইজরাইল আর আমেরিকা খুন করতে শেখাচ্ছে না। চাপাতির সাপ্লাই ইজরাইল বা আমেরিকা থেকে আসছে না। ইসলামী-খুনীরা পাথর ছুঁড়ে মেয়েদের হত্যা করে, ওই পাথর ইজরাইল বা আমেরিকা থেকে আসে না। সুইসাইড ভেস্টগুলোও নিশ্চয়ই আসে না।
আচ্ছা এত প্ল্যান করে ওরা নিরীহ মানুষ হত্যা করে কেন? প্ল্যান করে যে দেশের সরকারের ওপর রাগ, সে দেশের সরকারকে মারার চেষ্টা করলেই তো পারে।
৩. সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে ইউরোপের কিছু দেশ। মানুষ বড় মমতায় তাদের বরণ করেছে। সমুদ্র সৈকতে মরে পড়ে থাকা একটি শিশুর জন্য কেঁদেছে সারা বিশ্ব। কেউ তখনও কল্পনা করতে পারেনি এই শরণার্থীর স্রোতের মধ্যে লুকিয়ে আছে আইসিস সন্ত্রাসী। প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার প্রথম আত্মঘাতী বোমা ছিলো এক সিরিয়ার লোক, যে লোক শরণার্থী হিসেবে অন্য শরণার্থীর সঙ্গে ইউরোপে ঢুকেছে। সিরিয়ার শরণার্থীর সঙ্গে মোট কজন সন্ত্রাসী বা আতঙ্কবাদি লুকিয়ে আছে। তার খবর কে নেবে! তাহলে কি ধরে নিতে হবে ইউরোপে এই সবে শুরু হলো ইসলামী সন্ত্রাস!
ফ্রান্সে এই ইসলামী হামলার পর আমি অবাক হবো না যদি দেখি ইউরোপে মুসলিম বিরোধী, ইমিগ্রেন্ট বিরোধী, রেসিস্ট, কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সচেতন বিবেকবান মানুষ কতটা অসহায় হলে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকে মেনে নিতে বাধ্য হয়।
৪. পোপ বলছেন প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু। কেউ কেউ বলছেন, প্যারিসে এই হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম। হিটলারের পর আইসিস। আমার মনে হয় এসব সবই অতিকথন। তবে সন্ত্রাসের উৎস যদি নির্মূল না হয়, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে। তবে এই যুদ্ধে সন্ত্রাসীদের জিতে যাওয়ার কোনও কারণ নেই, কারণ সন্ত্রাসীদের হাতে যা মারণাস্ত্র আছে, তার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি আছে পশ্চিমা বিশ্বের হাতে। সন্ত্রাসীরা হয়তো মরবে, কিন্তু সন্ত্রাস কী করে মরবে? বর্বরতা আর নৃশংসতার আইডিওলজি কী করে দূর হবে?
৫. আমেরিকা আর ইউরোপ মিলে ইসলামী সন্ত্রাসী দলগুলোকে ধ্বংস করতে পারতো কিন্তু করেনি। যতদিন সন্ত্রাসী দল আর সন্ত্রাসের সূতিকাগারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হচ্ছে, ততদিন সন্ত্রাস চলবেই। ততদিন আমরা মরবো, পৃথিবীর সর্বত্র। কোনও দেশ আর নিরাপদ নয়। সপ্তম শতাব্দীর ইসলাম এই একবিংশ শতাব্দীতে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। হাতে তাদের একবিংশ শতাব্দীর অস্ত্র, মস্তিষ্কে সপ্তম শতাব্দীর অজ্ঞানতা।
বামপন্থীরা সব দোষ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোকে দেবে, বলবে ওদের কারণেই সন্ত্রাসী জন্ম নিয়েছে, বলবে অশিক্ষা দারিদ্র ইত্যাদিই সন্ত্রাসী জন্মের মুল কারণ। সন্ত্রাসীদের জন্য তাদের সহানুভূতি উথলে উঠবে। আর কতকাল এসব হিপোক্রেসি দেখবো!
মসজিদ মাদ্রাসা বন্ধ করার সময় এসেছে। ওয়াজ খুৎবা বন্ধ করার সময় এসেছে। শিশু কিশোরদের মগজধোলাই বন্ধ করার সময় এসেছে। ইন্টারনেটের সন্ত্রাসী সাইটগুলো বন্ধ করার সময় এসেছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম –এই মিথ্যে প্রচারটা বন্ধ করার সময় এসেছে।
নতুন পৃথিবী
পৃথিবীর মতো আরেকটা গ্রহ পেয়ে যাওয়া, এর চেয়ে চমৎকার কী আর ঘটতে পারে এই পৃথিবীতে! একটা গ্রহ যেটার ওপরে জল আছে, যেটা একটা নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে, যেটা আমাদের এই পৃথিবীর মতোই দেখতে! এরকম পৃথিবী যে আরও পাওয়া যায়নি কখনও তা নয়। পাওয়া গেছে তবে ওগুলোর নক্ষত্র আমাদের সূর্য নামের নক্ষত্রের তুলনায় ছোট আর ঠাণ্ডা।
কিছুদিন আগে কেপলার ৪৫২বি নামের যে গ্রহটা পাওয়া গেল, সেটা যে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে, সেই নক্ষত্রটা কিন্তু আমাদের সূর্যের মতোই। নক্ষত্র আর গ্রহের মধ্যে দূরত্ব ১৪০০ আলোকবর্ষ। কেপলার ৪৫২বি গ্রহ তার নক্ষত্রকে, আমাদের পৃথিবী সূর্যকে যতবার প্রদক্ষিণ করছে, তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি প্রদক্ষিণ করছে। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর লাগে ৩৬৫ দিন। আর ৪৫২বির তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে লাগে ৩৮৫ দিন।
আমাদের সূর্যের চেয়েও ৪৫২বি গ্রহটি যে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে তার বয়স বেশি। যত বেশি বয়স তত বেশি তাপ, সে কারণে কেপলার ৪৫২বি আমাদের পৃথিবী থেকেও বেশি গরম।
দুশ কোটি বছর আগে ৪৫২বির নক্ষত্রের তাপ এখনকার চেয়ে আরও কম ছিল। ঠিক আমাদের এখনকার সূর্যের মতো ছিল। দুশ কোটি বছর আগে আমাদের সূর্যের তাপ আর ৪৫২বির নক্ষত্রের তাপ ছিল একই রকম। এই গ্রহ আর ওই গ্রহ একই রকম আলো আর উষ্ণতা পেতো।
কিন্তু তারপরও কেপলার ৪৫২বিকে পৃথিবীর মতো বলা যাবে না। বলা যাবে না এই কারণে যে ৪৫২বি আমাদের পৃথিবীর চেয়ে আকারে বড়। এর ব্যাস পৃথিবীর ১.৬ গুণ বেশি। আর তাছাড়া আমরা এখনও জানিনা কী পদার্থ দিয়ে তৈরি ওই গ্রহ। পদার্থটি সম্পর্কে যতক্ষণ না জানছি, ততক্ষণ ওর ঘনত্বটাও তো জানা যাচ্ছে না। একেক পদার্থের ঘনত্ব একেকরকম। পানির একরকম, লোহার আরেকরকম, পাথরের আরেক।
