ধর্ম আর রাজনীতিকে মেশালে ধর্মও নষ্ট হয়, রাজনীতিও নষ্ট হয়। এ দুটোর আলাদা থাকাটা খুবই জরুরি। যে মানুষেরা বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে আলস্য বোধ করে, অথবা বিজ্ঞানকে জানতে গিয়ে দেখেছে রীতিমত কঠিন ব্যাপার এটি, তারা ধর্মে আশ্রয় নেয়, ধর্মে আরাম বোধ করে, যেহেতু ধর্মই সবকিছুর সহজ এবং চমৎকার সমাধান দেয়, ধর্ম সম্পর্কে জানতে কোনও বুদ্ধি খাটাতে হয় না, গভীরভাবে ভাবতে হয় না, কোনও প্রশ্ন করারও দরকার হয় না। যারা ধর্মের মতো অবিজ্ঞান আর নারীবিদ্বেষের একটা পিণ্ডের ভেতর নিজেকে পুরে সুখী হতে চায় হোক। কিন্তু দেশের রাজনীতি এই অবিজ্ঞান আর নারীবিদ্বেষের পিণ্ডের সঙ্গে ভাই পাবে কেন? এ দুটো ভাই পাতালে মানুষের মস্তিষ্ক নষ্ট হয়, পরিবার নষ্ট হয়, সমাজ নষ্ট হয়, দেশ নষ্ট হয়। সব নষ্টদের দখলে চলে যায়। রাজনীতির কাজ দেশের মানুষের দেখভাল করা। ঠিক ঠাক রাজনীতিটা হলে মানুষ সুখে স্বস্তিতে থাকে, অভাব, অনটন দূর হয়, সবার জন্য শিক্ষা স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা হয়, কাজকর্মের সুযোগ ভালো হয়, দুর্নীতি বদনীতির প্রকোপটা কমে যায়। রাজনীতির মধ্যে ধর্মের ছিটে ফোঁটা ঢুকলেই সর্বনাশ। এ দুটোকে আলাদা করতে গিয়েই দেখেছি আমাকে প্রচণ্ড আঘাত করা হচ্ছে। শুধু আমি নই, আরও অনেকেই শিকার হয়েছে এই বীভৎস ধর্মরাজনীতির। ধর্মনির্ভর রাজনীতি সব দেশেই নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। এর একটিই কারণ, ধর্মের সঙ্গে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারীর অধিকার, বাক স্বাধীনতা এসব যায় না। ধর্মের সঙ্গে চিরকালই এসবের বিরোধ।
রাষ্ট্র এবং রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা না করা হলে মানুষের দুর্ভোগের কখনও শেষ হবে না। সৎ এবং সাহসী মানুষদের খুন হয়ে যেতে হবে, পচতে হবে জেলে, নয়তো আমার মতো নির্বাসনে জীবন কাটাতে হবে।
ধর্মের সমালোচনা না করে তুমি সভ্য হতে চাও? এই বিজ্ঞানের যুগে ধর্মের মতো আজগুবি রূপকথাকে সত্য বলে মেনে, স্বঘোষিত সব ঠগবাজ পয়গম্বরকে পথ প্রদর্শক বলে মেনে তুমি কচু সভ্য হবে। তোমার সভ্য হওয়া চুলোয় যাক, ইসলামের আসল চেহারা চোখ খুলে যারা দেখতে পেয়েছে, যারা বেরিয়ে এসেছে, সেই আলোকিত তরুণ তরুণীদের গায়ে যদি আঁচড় লাগে আজ, এর দায় ওই চোখ বন্ধ করে রাখা অন্ধদের চেয়েও বেশি সব বুঝেও না বোঝার ভান করা বুদ্ধিজীবীদের, অদূরদর্শী রাজনীতিকদের আর ক্ষমতার আসনে বসা এক পাল মুই যেন কী হনুরে-দের।
মুসলিম দেশগুলোতে এখনও ইসলামি মৌলবাদি গোষ্ঠী প্রচণ্ড শক্তিশালী। ব্যক্তিগত ভাবে কেউ কেউ প্রতিবাদ করছে বটে, তবে এ প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ না রাষ্ট্রশক্তি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন, নারী-সংগঠন একযোগে মুসলিম মেয়েদের সমানাধিকারের ব্যবস্থা না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার প্রগতির কিছু ঘটবে না। সত্যিকার প্রগতি চাইলে রাষ্ট্র থেকে, সমাজ থেকে, শিক্ষা থেকে, আইন থেকে ধর্মকে দূর করতে হবে। ধর্মও থাকবে, নারী স্বাধীনতাও থাকবে, এ মুখের কল্পনা বিলাস। ধর্ম যেহেতু নারীর স্বাধীনতা এবং অধিকারের বিপক্ষে, তাই ধর্মকে, ধর্মের বৈষম্যকে, ধর্মের আইনকে মাথার ওপরে অক্ষত অবস্থায় রেখে নারীর সমানাধিকার সম্ভব নয়। আমি কিন্তু সব ধর্মের কথাই বলছি। আর সব নারী-বিদ্বেষী ধর্মের মতোই ইসলাম একটি নারী বিদ্বেষী ধর্ম। কেবল ইসলামই মন্দ, অন্য সব ধর্ম ভালো, এই উদ্ভট ভাবনা আমার নয়।
সারা পৃথিবীতেই বিজ্ঞানমনস্ক, ধর্মমুক্ত, যুক্তি বুদ্ধি সম্পন্ন, মুক্তচিন্তার মানুষ আছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই সংগঠন গড়েছেন। এই সংগঠনগুলো থেকে মাঝে মাঝেই সেমিনার আর কনভেনশনের আয়োজন করা হয়, যেখানে মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সৃষ্টিশীল চিন্তক লেখক, শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। যে ভাবনাগুলো রক্ষণশীল সমাজ মেনে নেয় না, সেই ভাবনাগুলো সকলে ওইসব সেমিনার আর কনভেনশনে নিশ্চিন্তে প্রকাশ করেন, আগ্রহী বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ বিদ্বজনের বক্তব্য শুনতে আসেন। বোদ্ধা শ্রোতা আর বক্তার মধ্যে মতের আদান প্রদান হয়। সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহী করার, বিবর্তনের জ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রচার মাধ্যম থেকে ছড়িয়ে দেওয়ার, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার এসবের প্রতিবাদ করার প্রেরণা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মানবাধিকার, নারীর অধিকার, শিশুর অধিকার সমকামী বা রূপান্তরকামীর অধিকারের পক্ষেও আমরা উচচকণ্ঠ কই। গণতন্ত্র, মানবতন্ত্র, আর বৈষম্যহীন সমাজের প্রতিষ্ঠার জন্য যা করা দরকার, সকলে মিলে তার পরিকল্পনা করি। মূলত আমাদের স্বপ্ন, একটি সুস্থ সুন্দর পৃথিবী তৈরি করা, যেখানে ধর্মের, পুরুষতন্ত্রের, শোষক শ্রেণীর অত্যাচার নেই।
ধর্মীয় সন্ত্রাস
১. দুনিয়া এখন ডিজিটাল। ডিজিটাল দুনিয়ায় তুমি দ্রুত অনেক কিছু শিখে ফেলতে পারো। রান্না শিখতে চাও, ইউটিউবে পেয়ে যাবে, জল কী করে ফুটোতে হয়, সেটিও ইউটিউবে এভেইলেবল। আমার এক বন্ধু তো কোনও কিছু কিনতেই আর দোকানে যায় না, ফ্লিপকার্টই কিনে বাড়ির দরজায় পৌঁছে দিয়ে যায়। যে পর্ন দেখতে লোকে একসময় গভীর রাতে পা টিপে টিপে অন্ধকার গলির ভেতর স্যাঁতস্যাঁতে বাড়ির চিলেকোঠায় উঠতো, সেই পর্ন এখন প্রত্যেকের আঙুলের ডগায়। বলা যায়, জাস্ট এক ক্লিক দূরত্বে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ভালো জিনিস যেমন শিখতে পারো, খারাপ জিনিসও পারো। প্রেসারকুকার-বোমা কী করে বানাতে হয়, সে শিক্ষাটা জারনায়েভ ছেলেদুটো ইন্টারনেট থেকেই পেয়েছে। ইসলামী মৌলবাদী, সন্ত্রাসী, খুনী সকলে ব্যবহার করছে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইভার, ট্যাঙ্গো, গুগল, টুইটার, ফেসবুক,স্কাইপ, ইমো। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বিজ্ঞানবিরোধী ধর্মান্ধরা। অল্প বয়সী তরুণ তরুণীর মগজধোলাই করার জন্য এখন ইন্টারনেট জিহাদই সবচেয়ে বেশ সফল। গরিব দেশগুলোতেও ইন্টারনেট জিহাদের পাশাপাশি প্রচুর মসজিদ মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিল ইত্যাদি জিহাদিদের আঁতুড়ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
