সে শান্তভাবে শুনছিল, তার চোখে কিছু দেখা গেল কি না, আমি বুঝতে পারলাম না। সে মোটেই রাগী ছিল না, যখন আমি বলা শেষ করলাম, সে আমাকে অনেক ধন্যবাদ জানাল। আমি একটা মূখের মত বারবার বলতে লাগলাম। আমি এটা দেখেছিলাম, আমি সত্যিই এটা দেখেছিলাম। তারপর সে বলল–আমি বিশ্বাস করছি তুমি যখন এত করে বলছ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।
ঠিক আছে। আমি জানি না এটা ঠিক কিংবা আমি একজন বোকা। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে সিলভিয়া চার্লস ক্রলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙ্গে দিল।
তারপরে যুদ্ধ আরম্ভ হল, এবং তখন অন্য কিছু ভাবার আর সময় ছিল না। একবার কিংবা দুবার সিলভিয়াকে ছেড়ে আমাকে যেতে হয়েছিল, তাই আমি চেষ্টা করেছিলাম যতটা সম্ভব তাকে এড়িয়ে যেতে।
আমি তাকে পাগলের মত ভালবাসতাম এবং সারা জীবনের জন্য তাকে চাইতাম। কিন্তু আমি ভাবতাম যেন এটা হচ্ছে না কি, এটা আমাকে ঋণী করেছিল যে সে ক্ৰলের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে এবং আমি নিজেকে বলতে লাগলাম যে আমি এটার বিবেচনা করেছি এবং এটা খুব একটা আগ্রহান্বিত ছিল না।
তারপর, ১৯১৬ সালে নীল মারা যায়, এবং তার শেষ মুহূর্তের কথাগুলো আমাকে বলতে হয়েছিল সিলভিয়াকে। আমি কিন্তু তারপরে বসে থাকিনি, সিলভিয়া নীলকে ভীষণ শ্রদ্ধা করত এবং সে আমার প্রিয় বন্ধু ছিল। সিলভিয়া খুব মিষ্টি এবং শ্রদ্ধার ক্ষেত্রেও খুব মিষ্টি মেয়ে ছিল, আমাকে আমার নিজের জিভকে ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল এবং প্রার্থনা করতে হয়েছিল যাতে একটা বুলেট সমস্ত দুর্দশাগ্রস্ত ব্যবসাকে শেষ করে দিতে পারে। সিলভিয়া ছাড়া জীবনে বাঁচা যাবে না সে উপলব্ধি করেছিল।
কিন্তু সেখানে আমার নামে কোন বুলেট ছিল না, একজন আমার ডানকানের কাছে ছিল, কিন্তু আমি জবুথবু না হয়ে সোজা এগিয়ে চললাম। চার্লস ক্ৰলে ১৯১৮ সালের শুরুতে যুদ্ধে মারা যায়।
যাইহোক এটা একটা পার্থক্য তৈরী করেছিল, আমি ১৯১৮ সালের বসন্তকালে বাড়িতে আসলাম, এবং আমি সোজা সিলভিয়ার কাছে চলে গেলাম এবং তাকে বললাম যে, আমি তাকে ভালোবাসি। আমার খুব বেশী বিশ্বাস ছিল না যে সে আমার দেখাশোনা করবে এবং তুমি আমাকে একটা পালক দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছিলে যখন সিলভিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে আমি তাকে এত তাড়াতাড়ি বলিনি কেন। আমি ক্ৰলের সম্বন্ধে ভাবতে লাগলাম এবং সে বলল, কিন্তু কেন, তুমি ভাব যে আমি এই সম্পর্কটা তার সঙ্গে ভেঙ্গে দিয়েছি। এবং তারপরে সে আমাকে বলল যে সে আমাকে ভালবেসেছে যেরকম আমি তাকে ভালো বেসেছিলাম–একদম প্রথম দেখা থেকে।
আমি বললাম যে আমি ভেবেছিলাম হয়তো এই গল্পের জন্য এটা ঘটেছে এবং সে বিদ্রুপাত্মকভাবে অট্টহাস্যে হাসতে লাগল এবং বলল–তুমি যদি একজন মানুষকে ভালবাস, তাহলে তোমার এতটা কাপুরুষ হওয়া উচিত নয়, এবং আমি আমার পুরনো কল্পনাগুলি ভাবতে লাগলাম এবং তারপর বুঝতে পারলাম যে এটা ছিল অদ্ভুত কিন্তু এর থেকে বেশী কিছু নয়।
ঠিক আছে, এটার পর আর কিছু বলার নেই। তারপর সিলভিয়াকে আমি বিয়ে করলাম এবং আমরা খুব খুশী ছিলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে সে সেই মুহূর্তে আমার হয়ে গেছে। তখন সে আমাকে ভালো স্বামী হওয়া থেকে রুখতে পারবে না, আমি সিলভিয়ার প্রতি ভীষণ অনুরক্ত ছিলাম, কিন্তু আমি অন্যের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলাম। কারণ তার হাসিটা আমাকে তার প্রতি আগ্রহান্বিত করে তুলেছিল। এটা তাকে আনন্দিত করেছিল, আমি মনে করি বরং সে এটা পছন্দ করত। এটা প্রমাণ করেছিল আমি তার প্রতি কতটা অনুরক্ত ছিলাম।
আমার জন্য, আমি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছিলাম, এবং নির্ভুলভাবে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি নিজে নিজেকে বোকা বানাচ্ছিলাম। এবং আমাদের জীবনে শান্তি এবং সুখ আরো বেশি বিপদাপন্ন হয়ে উঠেছিল। আমি জানতাম,আমি বললাম, কিন্তু আমি পরিবর্তন করতে পারলাম না। প্রত্যেক সময় সিলভিয়া একটি করে চিঠি পেয়েছিল। সে আমাকে দেখায়ওনি। এবং আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম এটা ভেবে যে কার কাছ থেকে এই চিঠিগুলো আসছে। যদি সে হাসত এবং অন্য কোনও লোকের কথা বলত, আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম।
প্রথমে আমি যেরকম বলেছিলাম সিলভিয়া আমাকে নিয়ে অট্টহাসি হাসত, সে ভাবত এটা একটা বড় ঠাট্টা, তারপর সে ভাবত না যে ঠাট্টাটা অনেক মজার ছিল। শেষপর্যন্ত সে ভাবল না যে এটা একটা ঠাট্টা ছিল।
ধীরে ধীরে সে আমার থেকে দূরে সরে যেতে লাগল, কোনও শারিরিক অনুভূতি নয়, সে তার গোপন মনটি আমার থেকে দূরে সরিয়ে নিল, আমি কখনোই বুঝতে পারিনি কি তার ভাবনা ছিল। সে খুব দয়ালু, কিন্তু দুঃখজনক যে এটা অনেক দূরত্ব থেকে ভাবা হয়েছিল।
আস্তে আস্তে আমি বুঝতে পারলাম যে সে আমাকে কখনই ভালবাসেনি। তার ভালাবাসা মরে গেছে এবং আমি সেটাকে মেরে ফেলেছি।
পরের ধারাটি সত্যিই অনস্বীকার্য। আমি নিজে এটার জন্য অপেক্ষা করতাম–এটি সত্যিই ভয়ঙ্কর ছিল।
তারপর ডেরেক ওয়েনরাইট আমাদের জীবনে আসল, তার সবকিছু ছিল যেটা আমার ছিল না। তার বুদ্ধি ছিল এবং গভীর জ্ঞানলব্ধ মন ছিল। সে খুব ভালো দেখতে ছিল, এবং আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল এটা স্বীকার করার জন্য–এবং সত্যিকারে সে একজন খুব ভালো ছেলে ছিল। যেই মুহূর্তে আমি তাকে দেখলাম আমি নিজে নিজেকে বললাম এটাই হচ্ছে সেই মানুষ সিলভিয়ার জন্য…..।
