ভিজে ‘কিড’ দস্তানা আস্তে-আস্তে খুলে ডাচেস বললেন–প্রিয় গ্ল্যাডিস, না না–ঠিক হচ্ছে না…
লেডি উইনডারমিয়ার বললেন–দুনিয়াটাই এমনি। এখানে কিছুই কৌতূহলোদ্দীপক নয়। কিন্তু তোমার সঙ্গে পরিচয় আমাকে করিয়ে দিতে হবে। ডাচেস, ইনি হচ্ছেন, আমার প্রিয় চিরোম্যাটিস্টি, মিঃ পডগারস; ইনি হচ্ছেন সেইসলের ডাচেস। আপনি যদি বলেন ওঁর হাতে যে চাঁদের পাহাড় রয়েছে সেটা আমর চেয়ে বড়ো তাহলে আর কোনোদিনই আমি আপনাকে বিশ্বাস করব না।
ডাচেস গম্ভীরভাবেই বললেন–আমার হাতে নিশ্চয় ওসব কোনো বস্তু নেই।
তাঁর ছোট চ্যাপ্টা চতুর্ভুজ আঙুলগুলি দিয়ে ডাচেসের মোটা ছোটো হাতের দিকে তাকিয়ে। মিঃ পডগারস বললেন–ডাচেস সত্যি কথাই বলেছেন। চাঁদের পাহাড় এখনও বেড়ে ওঠেনি; কিন্তু জীবনের রেখাঁটি সত্যিই বড়ো ভালো। দয়া করে কলিটা একটু বাঁকাল। ধন্যবাদ। তিনটি রেখা আপনার হাতে এডোএড়ি হয়ে রয়েছে। আপনি অনেক দিন বেশ সুখেই বাঁচবেন।
উচ্চাকাঙ্খা-মোটামুটি বুদ্ধির রেখাটা খুব একটা মারাত্মক রকমের নয়, হৃদয়রেখা–
লেডি উইনডারমিয়ার একটু চেঁচিয়েই বললেন–এবারে কিন্তু সাবধান।
মিঃ পডগারস মাথাটা নুইয়ে বললেন–ডাচেস যদি বিচক্ষণ হতেন সেকথা বলতে আমি খুব খুশিই হতাম, কিন্তু একথা বলতে আমি খুবই দুঃখিত যে ওঁর হাতের ওপরে যেসব চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি তা থেকে বোঝা যাচ্ছে উনি হৃদযবতী মহিলা; এবং ওঁর কর্তব্যজ্ঞান বড়ো টনটনে।
বেশ সন্তুষ্ট হয়ে ডাচেস বললেন–অনুগ্রহ করে বলে যান মিঃ পডগারস।
মিঃ পডগারস বললেন–ডাচেস, মিতব্যয়িতার কোনো লক্ষণ আপনার হাতে প্রতীয়মান হচ্ছে না।
এই কথা শুনে লেডি উইনডারমিয়ার হেসে কুটিকুটি হয়ে গেলেন।
ডাচেস সন্তুষ্ট হয়ে বললেন–মিতব্যয়িতা বড়ো ভালো জিনিস। আমি যখন পেইসলকে বিয়ে করেছিলাম তখন তার সাতটি দুর্গ ছিল; বাস করার মতো বাড়ি ছিল না একটাও।
লেডি উইনডারমিয়ার বললেন–এখন তাঁর বারোটা বাড়ি রয়েছে; একটাও দুর্গ নেই।
ডাচেস বললেন–আসল কথাটা কী ডান? আমি চাই
শেষ করলেন মিঃ পডগারস–সুখ, আর চান প্রতিটি ঘরে আধুনিক সাজসজ্জা এবং প্রতিটি যার ঘরে গরম জল। আপনি ঠিকই বলেছেন। সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্যই একমাত্র জিনিস বর্তমান সভ্যতা আমাদের যা দিতে পারো।
ডাচেসের চরিত্রের সম্বন্ধে আপনি চমৎকার বলেছেন, মিঃ পডগারস। এবার আপনি লেড ফ্লোরার হাত দেখে বলুন।
হাস্যমানা গৃহস্বামিনীর ইঙ্গিতে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালেন একটি দীর্ঘাঙ্গিনী বালিকা। তাঁর চুলগুলি স্কটল্যান্ডের বালির মতো কটা, চওড়া কাঁধ। জড-ভরতের মতো সামনের দিকে। এগিয়ে এসে তিনি তাঁর ছুঁচোল আঙুলগুলি বাড়িয়ে দিলেন।
মিঃ পডগারস বললেন–আপনি তো দেখছি পিয়ানো বাজিয়ে, চমৎকার পিয়ানো বাজান আপনি। কিন্তু গায়িকা আপনি নন। খুব সংযত, অতিরিক্ত ন্যায়বাদিনী; আর জীবদের ওপরে আপনার স্নেহ অগাধা।
লেডি উইনডারমিয়ারের দিকে তাকিয়ে ডাচেস বললেন–খাঁটি কথা; একেবারে খাঁটি কথা! ম্যাক্রোসকিতে ফ্লোরার দু’ডজন নেড়ি কুত্তা রয়েছে; ওর বাবা রাজি হলেও ওদের বাড়িটাকে একটি পশ্বাগারে পরিণত করে ফেলতা।
লেডি উইনডারমিয়ার হেসে বললেন–প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমার বাড়িটা যা হয়। তবে নেড়ি কুত্তার চেয়ে আমি বেশি পছন্দ করি সিংহকে।
খুব আড়ম্বরের সঙ্গে মিঃ পডগার মাথাটা নুইয়ে বললেন–লেডি উইনডারমিয়ার, আপনার একটি ভুল হচ্ছে
লেডি উইলডারমিযার বললেন–যদি কোনো মহিলা তার ভুলগুলিকে মনোরম করে তুলতে পারে তা হলে সে নিছক নারী ছাড়া আর কিছু নয়। আরও কয়েকজনের হাত আপনাকে আজ দেখতে হবে। স্যার টমাস, আপনি হাত দেখান।
সাদা ওয়েস্ট কোটপরা একটি শান্ত চেহারার বৃদ্ধ ভদ্রলোক এগিয়ে এস তাঁর পুরুষ্ট লম্বা তৃতীয় আঙুলটি বাড়িয়ে দিলেন।
আপনার চরিত্রটি দুঃসাহসিক। অতীত আপনি চারবার দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা করেছেন। আর একবার করবেন। আপনার জাহাজ তিনবার দুর্ঘটনায় পড়েছিল। না, দু’বার। কিন্তু ভবিষ্যতে আর একবার দুর্ঘটনায় পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। আপনি খুব শক্ত কারভেটিভ, সময়ের জ্ঞান আপনার টনটনে; আর অদ্ভুত-অদ্ভুত জিনিস সংগ্রহ করার দিকে ঝোঁক রয়েছে আপনার। ষোল থেকে আঠারো বছর বয়সের মধ্যে আপনার একবার কঠিন অসুখ করেছিল। তিরিশ বছর বয়সে আপনি অনেক সম্পত্তি পেয়েছিলেন। বিড়াল আর র্যাডিকেলদের ওপরে আপনার বিতৃষ্ণা অগাধা
স্যার টমাস বললেন–অদ্ভুত, অদ্ভুত! আপনি আমার স্ত্রীর হাতটাও দেখুন।
স্যার টমাসের হাতটা নিজের হাতের ওপরে রেখে তিনি বললেন–আপনার দ্বিতীয়া স্ত্রীর। খুশি হয়েই দেখব।
লেডি মার্ভেলের চেহারাটি বিষণ্ণ, কটা চুল, চোখ দুটো ভাবপ্রবণ। তাঁর অতীত আর ভবিষ্যৎ প্রকাশ হয়ে পড়ুক তা তিনি ঠিক চাচ্ছিলেন না। লেডি উইনডারমিয়ার যাই চান, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতও তাঁর দস্তানা খুলতে রাজি হলেন না। সত্যি কথা বলতে কি অনেকেই এই অদ্ভুত। হাসির খুদে লোকটির মুখোমুখি পড়তে রাজি হচ্ছিলেন না। তারপরে তিনি যখন লেডি ফারমারকে মুখের ওপরে বলে দিলেন যে সঙ্গীতের ওপর তাঁর বিন্দুমাত্র আকর্ষণ নেই তখনই সবাই বুঝতে পারলেন এক খোশ গল্প ছাড়া হাত দেখা ব্যাপারটাকে বেশি প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
