পর্নো কুটিরের বিকল্পই-বা কী? একজন ফরেন ডিপ্লোম্যাট বা সেক্রেটারিয়েটে বসেন যিনি বা মধুমতী প্লাজার মালিক তিনি কি ভাসমানে যাবেন? এর উত্তর না। যেতে পারেন কোনও পতিতালয়ে? এমনকি গেস্ট হাউজ? পর্নো কুটিরের নিরাপদ পরিবেশে না হলে এতগুলো ফরেন ডিপ্লোম্যাটদেরই-বা গতি কী? আর হাইফাই মুখ চেনা সাহেব? তার স্ত্রী? কিংবা সাহেবের ছেলেমেয়ে? বা তাদের সম্মানীয় অতিথি! লিস্টে কে নেই? পলিটিশিয়ান-হাইফাই সরকারি কর্মচারী, বেসরকারি এবং নেইম ব্র্যান্ড ঝানু ব্যবসায়ীরা কিংবা বিদেশি মেহমান!
অপরাধের স্বর্গরাজ্যে কত অপরাধের নেটওয়ার্কে জড়িত কিছু মানুষ। তাদের খানাপিনা আনন্দ-ফুর্তি, লেনদেন, ব্লু-ফিল্ম, বিকৃত কাম, নারী, মদ, গাঁজা, মারিজুয়ানা, ট্ৰিব, এর উত্তর পর্নো কুটির।
সাময়িক আনন্দের নেশাসক্ত কিছু দিশেহারা আধুনিক তরুণী বুঝে না বুঝে আজকাল নিজেরা বিপদ ডেকে আনছে। হঠাৎ তারা ব্লু-ফিল্মের নায়িকা হয়ে যায়। সেই ছবি প্রচার হয়ে যায়। বিভ্রান্ত তরুণীগুলো জানেই না সেই পয়সাআলা তরুণের বিছানায় সঙ্গমরত অবস্থায় কখন তার ছবি তোলা হলো। কে করলো? কখন? ততক্ষণে, ট্যু-লেইট। ততক্ষণে সেই ছবি প্রচার হয়ে গ্যাছে। ভিকটিম নিখোঁজ হয়ে যায়।
রিনা, পপি, দিলরুবার মৃত্যু সংবাদ ছাপা হয়। হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ব্লু-ফিল্মের প্রডিউসর কিছু ছদ্মবেশী তরুণ যাদের অধিকাংশই এই পর্নো কুটিরের সঙ্গে জড়িত, সাময়িক বিপদ কাটিয়ে উঠতে জানে। এই ছবির বাজার ভালো। এই ব্যবসাও এখন তুঙ্গে। কম খরচে বেশি মুনাফা।
এসব বড়লোকের সন্তানদের বন্ধুর অভাব হয় না। বিশেষ করে যারা ঠিক ওদের মতো বড়লোক নয়। দশজন না হলে পার্টি জমে না। আপার মধ্য বা লোয়ার অনুগত বন্ধুরা ডাকলেই চলে আসে। আর শিক্ষিত সুন্দরী মেয়েরা যারা অফিস নয়, বেছে নিয়েছে বড়লোকদের পার্টিতে ললিতাবৃত্তি, সহজ ও দ্রুত অর্থ পেয়ে পর্নো কুটিরগুলো, সাময়িক আনন্দের জন্যে ওদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। উইকেন্ড বা সান্ধ্যকালীন পার্টি বা উৎসবের সময়ে এরকম মদের আড্ডায় এইসব শিক্ষিত বড় ঘরের মেয়ে কলগার্ল পাওয়া আজ আর অভাব হয় না। এই মেয়েগুলো ভিড়ের মধ্যে এমন মুখ লুকিয়ে থাকে যে দেখে বোঝার উপায় নেই। এদের কেউ মা, কেউ অবিবাহিতা বঙ্গললনা। অনেকেই ভার্সিটি বা কলেজের ছাত্রী। স্বাভাবিক ও সাবলীল সংসার থেকেই এরা আসে। কিন্তু আধুনিকায়ন ও বিশ্বায়নের সাথে সাথে সমাজজীবনের চিত্রপটে দ্রুত যে বদল ঘটে যাচ্ছে তাতে করে, গুলশান বনানী ও বারিধারায় পর্নো কুটিরগুলোতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনবরত সৃষ্টি করে চলেছে নতুন নতুন হাইফাই গণিকা, রিতু, পাপিয়া, নীলা, সন্ধ্যা, মৃত্তিকা…। এবং ঢালিউড টালিউড ও বলিউডের উঠতি ও পড়তি নায়িকারা তো এই লিস্টের হট-প্রোডাক্ট।
এবং একদিন আমরা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে জানতে পারি যে, আমাদের প্রতিবেশীর মেয়ে রিয়া যে ভার্সিটিতে পড়তো সেও এরকম হাই-সোসাইটির গণিকা। সঙ্গমরত অবস্থায় তার ব্লু-ফিল্ম নিয়ে বাজারে এখন তোলপাড় চলছে। মিডিয়ায় খবর ছাপা হচ্ছে। দু’জন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেকে এ্যারেস্ট করা হলেও গডফাদার নিখোঁজ। সর্বশেষ খবর: মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।
আসলে সবকিছুর পেছনে রয়েছে অবাধ কামের জোয়ার। আর ঐ যে আরক্ষরোহিনী তারও তো অর্থেরই বশ। রাত একটায় দেখা গেল মধ্যপ্রাচ্যের এক দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
স্যার, জায়গাটা ভালো নয়। বসের গললগ্ন বাঙালি ললনাটির ঝাঁঝাল জবাব। আপনারা আছেন কি করতে। কোথাও যে একটু প্রাইভেসি থাকবে তারও জো নেই। বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাধ্য হবো যথা জায়গায় ফোন করতে। ঠ্যালা কিন্তু আপনাকেই সামলাতে হবে!
২৩. বয়স পঁয়ত্রিশ
বিভিন্ন যাচিত আয়োজনে বোঝার আগেই হৈ-চৈ করে ফুরিয়ে যায়, শৈশব-কৈশোর যৌবন। সর্বত্রই বসন্তের বিচিত্র রঙ। মালার মতো অফুরন্ত আনন্দ কত স্বপ্ন, কত আশা-আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে ওঠে কৈশোর থেকে। নেই, কোন দুঃখ বলে এখানে কিছু নেই। থাকলেও তার অনুভূতি নেই। নতুন রুপোর টাকার মতো চকচকে মন। দুপুরের খাঁ-খাঁ রোদ্দুরের আলো সেই মন জুড়ে। উঠতি বয়সের স্বাভাবিক সাবলীল আনন্দ, প্রেরণা, উৎসাহ আর মনোবল, বর্তমানের যে-কোনও হতাশা আর দুঃখের তিমিরে জ্বেলে দিতে পারে আলো।
কাম্য অতিথি বা পছন্দের ইষ্টিকুটুমের মতো জীবনের অর্ধেক সময় অর্থাৎ প্রথম পঁয়ত্রিশ বছর এসে চলে যায় সই-সাই যথেষ্ট দর্শন বাক্যালাপ বা ভোজনরস না তৃপ্তি বা হাস্যরসে পরিতৃপ্ত হওয়ার আগেই চলে যায়। দেখতে না দেখতে না জানতেই বুঝতে পারার আগেই এসে চলে যায় জীবনের প্রথম পঁয়ত্রিশ বসন্ত উন্মত্ততায়, রঙে রসে এতই পরিপূর্ণ যে শূন্যতা, একাকিত্ব হতাশা বলে জীবনের এই অর্ধেক অভিধানে কোনও শব্দ খুঁজে পাবার নয়। মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় এই সময়গুলোতে কেউ একা নয়। অন্যেরা তাকে ঘিরে, সে অন্যকে ঘিরে ব্যস্ত। মুহূর্ত সময় নেই জীবনের কতত অকারণ, অহেতুক, অস্থায়ী, অপ্রয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলে বাস্তবে রূপ দিতে জেনেও এর সবকিছুই ক্ষুদ্র! সব মিছে! একদিন সব শেষ হয়ে বিলীন হয়ে যাবে। নিশ্চিহ্ন। সুখী হতে মানুষ মিছিমিছি কত ব্যস্ত থাকে। সুখকে ঘিরে মানুষ কত ব্যস্ত।
