–আমি যাবো না। বেশ চড়া গলায় মারিয়া বলল। আল জাহিরি বলল চাঁচাতে মানা করেছি। দু’জন সৈন্যকে বলল–যা ধরে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তোল।
দু’জন সৈন্য মারিয়ার দু’হাত ধরে দাঁড় করাল। আল জাহিরি তলোয়ার বের করল। তরোয়ালের ডগা মারিয়ার পিঠে ঠেকিয়ে বলল–আর একটা কথা বলেছেন কি তলোয়ার বিঁধিয়ে দেব। মারিয়া বুঝল এখন ওকে বাঁচাবার কেউ নেই। অ্যান্তিকো বা তার স্ত্রী কিছুই করতে পারবেন না। মারিয়া চুপ করে রইল। আল জাহিরি পিঠে তলোয়ারের চাপ বাড়াল। বলল–চলুন।
মারিয়া দুর্বল পায়ে হেঁটে চলল বাইরের দরজার দিকে। অ্যান্তিকো আর তার স্ত্রী দু’জন ছুটে এলেন। অ্যান্তিকো বললেন–আপনারা কারা? আল জাহিরি বলল– আমরা ভাইকিং। আমাদের রাজকুমারীকে জাহাজে নিয়ে যাচ্ছি। মারিয়া বলে উঠল– ও মিথ্যে কথা। অ্যান্তিকো বললেন–এই তো রাজকুমারী বলছেন আপনি মিথ্যে কথা বলছেন। আল জাহিরি রাগতস্বরে বলে উঠল–সত্য মিথ্যে জানি না। আমরা রাজকুমারীকে নিয়ে যাবোই। বাধা দিতে এলে আপনারা দুজনেই খতম হয়ে যাবেন।
–কিন্তু রাজকুমারীর অসুখ এখনও সম্পূর্ণ সারেনি। অ্যান্তিকো বললেন।
–আমাদের জাহাজের বৈদ্য চিকিৎসা করবে। তাতেই ভালো হয়ে যাবে। আল জাহিরি বলল।
মারিয়াকে নিয়ে আল জাহিরি বাড়ির বাইরে এলো। মারিয়াকে গাড়িতে তুলে নিয়ে বসিয়ে দিল। সঙ্গের সৈন্যরাও গাড়িতে উঠল। আল জাহিরি গাড়িতে উঠে হুকুম দিল– জেলেপাড়ায় চল–জ্লদি।
গাড়ি চলল। দুপুর নাগাদ গাড়ি সমুদ্রতীরে জেলেপাড়ায় পৌঁছল। আল জাহিরি নিশ্চিন্ত হল যে পাহারাদার ভাইকিং দু’জন ফেরার আগেই রাজকুমারীকে নিয়ে পালিয়ে আসতে পেরেছে।
মারিয়াকে ধরে ধরে নৌকোয় তোলা হল। সবাই নৌকোয় উঠলে নৌকো বেয়ে চলল একজন সৈন্য। মারিয়া একবার ভাবল যে চাঁচামেচি করে লোকজন জড়ো করে। কিন্তু তাতে লাভ কিছু হবে না। কেউ ওকে ছাড়িয়ে নিতে পারবে না। বরং তাতে আল জাহিরি ক্রুদ্ধ হবে। এরা যা নৃশংস। হয়তো তাকে মেরেও ফেলতে পারে। মারিয়া চুপ করে নৌকোয় বসে রইল।
নৌকো গিয়ে জাহাজে লাগল। হালের দিকে ঝোলা দড়ি ধরে দড়ির মই বেয়ে সবাই জাহাজে উঠে গেল। একজন সৈন্য নৌকোয় রইল। জাহাজ থেকে দড়ির জাল ফেলা হল। সেই সৈন্যটি মারিয়াকে দড়ির জালে ধরে ধরে বসিয়ে দিল। জাহাজ থেকে দড়ির জাল টেনে তোলা হল। মারিয়া ডেক-এ নামতেই আল জাহিরি বলল–রাজকুমারীকে আমার পাশের কেবিনঘরে নিয়ে যা আর বৈদ্যকে বল রাজকুমারীর চিকিৎসা করতে।
মারিয়াকে দু’জন সৈন্য ধরে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামাল। নির্দিষ্ট কেবিনঘরে ঢুকিয়ে দিল। দুর্বল শরীর নিয়ে মারিয়া দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। এলোমেলো বিছানাটায় শুয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ পরে গোঁফ দাড়িওয়ালা জাহাজের বৈদ্য এলো। মারিয়াকে পরীক্ষা করল। হেসে বলল কিছু চিন্তা নেই ভালো হয়ে যাবেন। কথাটা গ্রীক ভাষায় বলল। মারিয়া কিছুই বুঝল না। বৈদ্যকে হাসতে দেখে বুঝল ও অনেকটা সুস্থ হয়েছে।
যখন মারিয়াকে গাড়ি থেকে নৌকোয় তোলা হচ্ছিল তখন জেলেরা ভিড় করে দেখছিল। ওরা বুঝতে পারছিল না এই একেবারে অন্যরকম পোশাক পরা মেয়েটি কোন্ দেশের? মারিয়াকে নিয়ে নৌকোটা চলল জাহাজের দিকে। তখনও জেলেরা জটলা করে নিজেদের মধ্যে এই নিয়ে কথা বলছিল। তারপর ভিড় ভেঙে গেল। যে যার কাজে চলে গেল।
ওদিকে হ্যারি আর বিস্কো জাহাজে খাওয়াদাওয়া সেরে অ্যান্তিকের বাড়িতে এলো। দরজার কড়াঠুকে শব্দ করতে অ্যান্তিকোর স্ত্রী দরজা খুরলেন।হ্যারিদের দেখে বললেন– কী ব্যাপার বলো তো। একটা লোক কয়েকজন সৈন্য নিয়ে এসেছিল। বলল যে ওরা ভাইকিং। ওরা জোর করে রাজকুমারীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে গেছে।
হ্যারি আর বিস্কো পরস্পরের মুখের দিকে তাকাল। হ্যারি বলল, ডাহা মিথ্যে কথা বলেছে ওরা।
ততক্ষণে অ্যান্তিকোও এলো। স্ত্রী যা বলেছেন উনিও তাই বললেন। হ্যারি তখনও ভাবছে এভাবে রাজকুমারীকে নিয়ে গেল কারা?
হ্যারি বলল–আচ্ছা দলনেতা লোকটা দেখতে কেমন? অ্যান্তিকো বললেন লোকটার গায়ের রং ফর্সা। মুখের চিবুকে অল্প দাড়ি। গোঁফ আছে। মাথায় কালো বিড়ের মতো পাগড়ি। হ্যারি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল–এ আল জাহিরি।
–কিন্তু আল জাহিরিকে তো শাঙ্কো ওর জাহাজের কয়েদখানায় বন্দি করে রেখে এসেছিল। বিস্কো বলল।
–ওর পাহারাদার কিছু সৈন্য আমাদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় পালিয়েছিল। তারাই একত্র হয়ে আল জাহিরিকে তাদের জাহাজের কয়েদঘর থেকে মুক্ত করেছে। হ্যারি বলল।
–তাহলে তো আবার ওরা ওদের জাহাজে গিয়ে জড়ো হয়েছে। বিস্কো বলল।
–ঠিক তাই হ্যারি বলল–এবার ঐ জাহাজটা খুঁজে বের করতে হবে।
–একটা কথা মনে হচ্ছে–বিস্কো বলল–রাজকুমারীকে যখন বন্দি করে নিয়ে গেছে তখন জাহাজটা ঘাটের কাছেই কোথাও আছে। বিস্কো বলল।
–আল জাহিরি রাজকুমারীকে বন্দি করেছে এইজন্যে যে ক্রীতদাস বিক্রির হাটে রাজকুমারীকে অনেক স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করতে পারবে। হ্যারি বলল।
–তাহলে তো এক্ষুণি সেই জাহাজটা কোথায় আছে তা খুঁজে বের করতে হয়। বিস্কো বলল।
-হা এক্ষুণি। নইলে আল জাহিরি রাজকুমারীকে নিয়ে. জাহাজ চালিয়ে চলে যাবে। হ্যারি বলল।
