ন বেদ যজ্ঞ অধ্যয়নৈঃ ন দানৈঃ
ন চ ক্রিয়াভিঃ ন তপোভিঃ উগ্রৈঃ ।
এবম্ রূপঃ শক্যঃ অহম্ নৃলোকে
দ্রষ্টুম্ ত্বত্ অন্যেন কুরুপ্রবীর ।।৪৮
অর্থ-হে কুরুশ্রেষ্ঠ, বেদ অধ্যায়ন, যজ্ঞ, দান, পুন্যকর্ম ও কঠোর তপস্যার দ্বারা আমার এই রুপ দর্শন করতে পারে না। একমাত্র তুমিই তাই দর্শন করলে।
মা তে ব্যথা মা চ বিমূঢ়ভাব
দৃষ্টা রূপম্ ঘোরম্ ঈদৃক মম্ ইদম্ ।
ব্যপেতভীঃ প্রীতমনাঃ পুনঃ ত্বম্
তত্ এব মে রূপম্ ইদম্ প্রপশ্য ।।৪৯
অর্থ-আমার ভয়ঙ্কর বিশ্বরুপ দেখে তুমি ব্যাথিত হইও না। ভয় ত্যাগকরে প্রসন্ন চিত্তে আমার চতুর্ভূজ রুপ দর্শন কর।
সঞ্জয় উবাচ
ইতি অর্জুনম্ বাসুদেবঃ তথা উক্তা
স্বকম্ রুপম্ দর্শয়ামাস ভূয় ।
আশ্বাসয়ামাস চ ভীতম্ এনম্
ভূত্বা পুনঃ সৌম্য বপু মহাত্মা ।।৫০
অর্থ-সঞ্জয় ধৃতরাষ্টকে বললেন-মহাত্মা বাসুদেব অর্জুনকে এই ভাবে বলে তার চতুর্ভুজ রুপ দেখালেন এবং পুনরায় সৌম্য মুর্তি ধারন করে ভীত অর্জুনকে আশ্বস্ত করলেন।
দৃষ্টা ইদম্ মানুষম্ রূপম্ তব সৌম্যম্ জনার্দন ।
ইদানীম্ অস্মি সংবৃত্তঃ সচেতাঃ প্রকৃতিম্ গতাঃ ।।৫১
অর্থ-শ্রীকৃষ্ণের পরম মাধুর্যময় দ্বিভূজ মুর্তি দর্শন করে অর্জুন বললেন হে জনার্দন তোমার এই সৌম্য মানুষ মুর্তি দর্শন করে আমার চিত্ত স্থির হল এবং আমি প্রকৃতিস্ত হলাম।
ভগবান উবাচ
সুদুর্দশম্ ইদম্ রূপম্ দৃষ্টবানসী যত্ মম্ ।
দেবাঃ অপি অস্য রূপস্য নিত্যম্ দর্শনকাঙ্ক্ষিন ।।৫২
অর্থ-ভগবান বললেন-আমার যে রুপ দেখেছ তা অত্যন্ত দুর্লভ দর্শন। দেবতারাও এই নিত্য রুপের দর্শনাকাঙ্ক্ষি।
ন অহম্ বেদৈঃ ন তপসা ন দানেন ন চ ইজ্যয়া ।
শক্যঃ এবম্-বিধঃ দ্রষ্টুম দৃষ্টবান অসি মাম্ যথা ।।৫৩
অর্থ-তুমি তেমার দিব্য চক্ষু দ্বারা আমার যে রুপ দর্শন করেছ তা বেদ পাঠ,তপস্যা
দান, পুজা প্রভৃতি উপায় দ্বারা কেউই দর্শন করতে সমর্থ হয় না।
ভক্তা তু অনন্যয়া শক্যঃ অহম্ এবম-বিধঃ অর্জুন ।
জ্ঞাতুম্ দ্রষ্টুম্ চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুম্ চ পরন্তপ ।।৫৪
অর্থ-হে অর্জুন- অনন্যা ভক্তিদ্বারাই কেবল আমাকে জানতে ও স্বরুপত প্রত্যক্ষ করতে এবং আমার চিন্ময় ধামে প্রবেশ করতে সমর্থ হয়।
মত্কর্মকৃত্ মত্পরম্ মদ্ভক্তঃ সঙ্গবর্জিতঃ ।
নির্বৈরঃ সর্ব ভূতেষু যঃ সঃ মাম্ এতি পান্ডবা ।।৫৫
অর্থ-হে অর্জুন- যিনি আমার অকৈতব সেবা করেন, আমার প্রতি নিষ্ঠাপরায়ন, আমার ভক্ত,জড় বিষয়ে সম্পুর্ণ আসক্তি রহিত এবং সম প্রাণীর প্রতি শত্রুভাব রহিত তিনি অবশ্যই আমার কাছে ফিরে আসবে।
ওং তত্সদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষত্সু ব্রহ্মবিদ্যাযাং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে
বিশ্বরূপদর্শনযোগো নামৈকাদশোঽধ্যাযঃ ॥১১॥
১২.ভক্তিযোগ
অর্জুন উবাচ
এবম্ সতত যুক্তাঃ যে ভক্তাঃ ত্বাম্ পর্যুপাসতে ।
যে চ অপি অক্ষরম্ অব্যক্তম্ তেষাম্ কে যোগ-বিত্তমাঃ ।।১
অর্থ-অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন-হে ভগবান এই ভাবে নিরন-র ভক্তিযুক্ত হয়ে যারা সমাহিত চিত্তে তোমার আরাধনা করে এবং যারা ইন্দ্রিয়াতিত অব্যক্ত ব্রহ্মের উপাসনা কওে, তাদের মধ্যে কারা শ্রেষ্ঠযোগী।
ভগবান উবাচ
ময়ি আবেশ্য মনঃ যে মাম্ নিত্য যুক্তা উপাসতে ।
শ্রদ্ধায়া পরয়া উপেতাঃ তে মে যুক্ততমাঃ মতাঃ ।।২
অর্থ-ভগবান বললেন-যিনি আমার সবিশেষ রূপে তার মনকে নিবিষ্ট করেন, অপ্রাকৃত ভক্তি সহকারে নিরন-র উপাসনা করেন আমার মতে তারাই শ্রেষ্ঠ যোগী।
যে তু অক্ষরম্ অনির্দেশ্যম্ অব্যক্তম্ পর্যুপাসতে ।
সর্বত্রগম্ অচিন্তম্ চ কুটস্তম্ অচলম্ ধ্রূবম্ ।৩
সংনিয়ম্য ইন্দ্রিয়-গ্রামম্ সর্বত্র সমবুদ্ধয়ঃ ।
তে পাপ্নুবন্তি মাম্ এব সর্বভূতহিতে রতাঃ ।।৪
অর্থ-যারা সমস্ত ইন্দ্রিয় সংযত কওে, সকলের প্রতি সমভাবপন্না হয়ে সর্বভূতের কল্যাণে রত হয়ে আমার অক্ষর,অনির্দেশ্য,অব্যক্ত সর্বত্রগ,অচিন্ত্য,কুটস্থ, অচল,ধ্রুব ও নির্বিশেষ স্বরুপকে উপসনা করেন,তারা অবশেষে আমাকেই লাভ করে।
ক্লেশ অধিকতরঃ তেষাম্ অব্যক্ত আসক্ত চেতসাম্ ।
অব্যক্তা হি গতিঃ দুঃখম্ দেহবদ্ভীঃ অবাপ্যতে ।।৫
অর্থ-যাদের ভগবানের অব্যক্ত নির্বেশেষ রুপের প্রতি আসক্ত তাদের পক্ষে পারমার্থিক লাভ করা অত্যন্ত কষ্টকর। কারন অবক্তের উপাসনার ফলে দুঃখই লাভ হয়।
যে তু সর্বানি কর্মানি ময়ি সংন্যস্য মত্পরাঃ ।
অনন্যেন এব যোগেন মাম্ ধায়ন্ত উপাসতে ।।৬
তেষাম্ অহম্ সমুদ্ধর্তা মৃত্যু সংসার সাগরাত্ ।
ভমামি ন চিরাত্ পার্থ ময়ি আবেশিত চেতসাম্ ।।৭
অর্থ-হে পার্থ, যারা সমস্ত কর্ম আমাতে সমর্পন করে মত্পরায়ন হয়ে অনন্য ভক্তিযোগের দ্বারা আমার উপসনা ও ধ্যান করেন, সেই সমস্ত ভক্তদের আমি অচিরেই সংসার থেকে উদ্ধার করি।
ময়ি এব মনঃ অধত্স্ব ময়ি বুদ্ধিম্ নিবেশয় ।
নিবসিষসি ময়ি এব অতঃ উর্ধ্যম্ ন সংশয়ঃ ।।৮
অর্থ-অতএব আমাতেই তুমি মন সমাহিত কর, আমাতেই বুদ্ধি নিবিষ্ট কর। তার কারন তুমি নিশ্চই আমাকে প্রাপ্ত হবে। সে সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই।
অথ চিন্তম্ সমাধাতুম্ ন শক্লোসি ময়ি স্থিরম্ ।
অভ্যাস যোগেন ততঃ মাম্ ইচ্ছা আপ্তুম্ ধনঞ্জয় ।।৯
অর্থ-হে ধনঞ্জয়, যদি তুমি আমাতে চিত্ত সমাহিত করতে না পার, তাহলে অভ্যাস যোগ দ্বারা আমাকে লাভ করতে চেষ্টাকর।
