সদ্যকারামুক্ত অপরাধী পূর্ব জার্মানিতে চলে যান। সেখানে তার অতিবৃদ্ধ ঈশ্বরবিশ্বাসী। পিতৃদেব তখনও জীবিত ছিলেন। পিতাপুত্রের মিলন হয়েছিল। ওঁর পিতৃদেব সাংবাদিকদের বলেন :
Neither he nor I have ever blamed the British people for his sentence. He endured his fate bravely, with determination and a clear conscience. He said to himself, “If I don’t take this step, the imminent danger to hu manity will never cease.” I can only have greatest respect for the deci sion he took.
13.1.74
পুনশ্চ (1988) : পূর্ব-জার্মানির ড্রেসডেনে ফুকস নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারের কর্ণধার হন। 1979-এ অবসর গ্রহণ করে, 1988-এ তিনি মারা যান। 1960 সালে একজন মার্কিন সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি বলেন : আমি যা করেছি তা বিবেকের নির্দেশেই করেছি। অনুরূপ অবস্থায় পড়লে আবার আমি তাই করব!
.
পরিশিষ্ট খ
কৈফিয়তের কৈফিয়ৎ
13.1.74 যে ‘কৈফিয়ৎ’ লিখেছিলাম তা সংশোধনের জন্য পুনরায় কৈফিয়ৎ লিখতে হচ্ছে বলে আমি আনন্দিত। সেদিন যে প্রশ্ন তুলেছিলাম তার জবাব দিয়েছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এ-গ্রন্থ ছাপাখানা থেকে বের হয়ে আসার পূর্বেই।
গত আঠারই মে 1974 সকালে রাজস্থান মরুভূমির ভূগর্ভে, একশ মিটার গভীরে, ভারত পরীক্ষামূলকভাবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ না হ’ক, আপাতত ষষ্ঠ আসন অধিকার করেছে। বিস্ফোরণের ক্ষমতা দশ থেকে পনের হাজার টন টি.এন.টি.-র সমান। এই বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য হল–এতে ইমপ্লোশন-ডিভাইজ বা সাদা বাঙলায় ‘অন্তর্বিস্ফোরণ পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছে। এই সাফল্যের প্রত্যক্ষ নায়ক হচ্ছেন ড. সেথনা, ড. রামান্না এবং ড. অনিলকুমার গঙ্গোপাধ্যায়। বলাবাহুল্য, অসংখ্য বিজ্ঞানীর দীর্ঘদিনের অতন্দ্ৰসাধনার ফলশ্রুতি হিসাবেই ঐ শেষ তিনজন এ কাজে নায়কের ভূমিকায় নেমেছিলেন। সেই তালিকায় সবার আগে যে নামটি স্মর্তব্য তিনি হচ্ছেন ভারতীয় পরমাণু কর্মপ্রচেষ্টার জনক স্বৰ্গত ডক্টর হোমি জাহাঙ্গির ভাবা। স্যার দোরাবজী টাটা ট্রাস্টের কাছে তিনি বারোই মার্চ 1944তারিখে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন : “খুব বেশি হলেও আজ থেকে দুই দশক পরে ভারতকে আর পরমাণু-বিশারদ খোঁজার জন্য বাইরে তাকাতেও হবে না–এদেশের ছেলেরাই তা পারবে।”
আজ শুনে মনে হচ্ছে কথাটা কোনো বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞানীর নয়-ব্যয় কোনো জ্যোতিষ-সম্রাটের। একমাত্র দুঃখ-তিনি এ সাফল্য দেখে যেতে পারলেন না। চব্বিশে জানুয়ারি 1966-তে তিনি অমরলোকে চলে গেছেন। বিমান দুর্ঘটনায়!
ড. বিক্রম সারাভাইও দুর্ঘটনায় মারা গেলেন তার পাঁচবছর পরে।
কিন্তু কাজ এগিয়ে চলল এসব দুর্ঘটনা সত্ত্বেও। যার চূড়ান্ত ফলশ্রুতি–আপা… যা দেখতে পাচ্ছি, ঐ আঠারই মে 1974 তারিখের ঘটনাটা।
এই সঙ্গে স্মরণ করবো অধ্যাপক ডি. এম. বসু-কেও। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে-পরমাণু বোমার জন্মের এক দশক আগে তিনি ঐ শক্তির ব্যবহার নিয়ে মাথা ঘামান। অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা তার সঙ্গে কথা বলে এর প্রয়োজনীয়তাটা বোঝেন এবং এ দেশে পারমাণবিক গবেষণার আধুনিকীকরণ সম্বন্ধে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সূচনা করেন।
এটা প্রমাণ হয়েছে যে, ভারতীয় বিজ্ঞানীরা ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। নিঃসন্দেহে এটা বড় রকমের উত্তরণ। এখন আশা করতে ভরসা পাচ্ছি, আমার ‘প্রনাতি’ নিশ্চয় মোমবাতির আলোয় এ গ্রন্থ পড়বে না।
13.6.74
.
পরিশিষ্ট গ
কালানুক্রমিক ঘটনাপঞ্জী ও নির্দেশিকা
কাহিনির আকর্ষণে আমাকে কখনো আগের কথা পরে ও পরের কথা আগে বলতে হয়েছে। পাঠক-পাঠিকার যাতে কালভ্রান্তি না হয় তাই এই তালিকাটি সাজিয়ে দিলাম।
না. সা.
1896 — রণজেন কর্তৃক ‘এক্স-রে আবিষ্কার
1897 — বেকারেল কর্তৃক ইউরেনিয়ামে রেডিয়েশান আবিষ্কার
1898 — টমসন কর্তৃক ইলেকট্রন আবিষ্কার
1901 — মাক্স প্লাঙ্ক কর্তৃক ‘কোয়ান্টাম থিয়োরি’র প্রথম উল্লেখ
1905 — আইনস্টাইনের ‘স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি’
1910 — প্লাঙ্ক ও বোহর কর্তৃক ঐ থিয়োরির ব্যাখ্যা
1918 — রাদারফোর্ড কর্তৃক ‘প্রোটন’ আবিষ্কার
1932 — চ্যাডউইক ‘নিউট্রনের’ অস্তিত্ব প্রমাণ করেন
1933 — রুজভেল্ট আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হলেন
1933 — হিটলার জার্মানির সর্বময় কর্তা
1933 — মাদাম জোলিও কুরি ও মাইটনারের মতানৈক্য
1934 — এনরিকো ফের্মি কর্তৃক ইউরেনিয়াম-পরমাণু বিদীর্ণ
1934 — নোডাক-দম্পতি ঐ পরীক্ষার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন
1934 — পীতর কাপিজা রাশিয়ায় এসে গৃহবন্দী।
1935 — ৎজিলাৰ্ড বিশ্বের বৈজ্ঞানিকদের বিধ্বংসী বোমার বিরুদ্ধে সাবধান করার চেষ্টা করেন।
1935 — হান্স বেথে আমেরিকায় চলে আসেন।
1938 — বার্লিনে পরমাণু-শক্তির সন্ধানে সম্মেলন
1938 — ফের্মি নোবেল পুরস্কার নিয়ে সোজা আমেরিকায়
22.12.1938 — অটো হান পরমাণু-বিভাজনের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন।
2.8.1939 — আইনস্টাইন রুজভেল্টকে ঐতিহাসিক পত্র লেখেন
2.9.1939 — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু
11.9.1939 — বার্লিনে ‘ইউরেনিয়াম-প্রকল্প’ জন্মলাভ করে
27.9.1939 — রুজভেল্টের ঐতিহাসিক আদেশ : ‘পা, দি রিকোয়ার্স অ্যাকশন’
