১৯৬৫-র পাক-ভারত যুদ্ধের কারণে পাকিস্তান সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে পাকিস্তান শাসনতন্ত্র ১৯৬২-এর পরিচ্ছদ নং ১ ও ২-এর জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করে ৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ তারিখে Defence of Pakistan Ordinance mo, XXIII মত Defence of Pakistan Rules Sasa set (stry Defence of Pakistan Rules 1965-এর ১৮২ ধারায় বলা হয় ‘with a view to preventing the payment of money to an enemy firm, and to provide for the administration and disposal by way of transfer or otherwise of enemy property and matters connected there with or incidential thereto, the Central Government may appoint a Custodian of enemy property for Pakistan and one or more Deputy Custodian and Asstt. Custodians of enemy property for such local areas as may be prescribed and may, by order-vest or provide for and regulate the vesting in the prescribed custodian such enemy property as may be prescribed-এর ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিরক্ষণ আইন ও বিধির আওতায় অন্তর্ভুক্ত সব সম্পত্তি সরকারে ন্যস্ত হল। সে সব শক্ৰ সম্পত্তির প্রকৃত মালিকদের যুদ্ধকালীন অবস্থায় আটক বা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং তাদের সম্পত্তির যথাযথ পরিচালনা নিরাপদ না মনে হওয়ায় সে সব সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য শক্ৰ সম্পত্তির মালিকদের অধিকার বা স্বার্থের পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা দেবে বলে সে সব সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারে অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার Enemy Property (Custody and Registration) Order১৯৬৫ জারি করেন এবং পরে Enemy Property (Land and Building) Administration & Disposal order, ১৯৬৬-এর আওতায় ওই সম্পত্তিসমূহের অর্থ ও ক্ষতিপূরণ আদায়, দেওয়া নেওয়ার জন্য আলাদা আলাদা ভাবে হিসাব সংরক্ষণ সহ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পাকিস্তান সরকারের একজন কর্মকর্তার ওপর অৰ্পিত হয়।
পাক-ভারত যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবার পরও আগের আইন বহাল রাখার উদ্দেশ্যে Enemy Property (Continuance of Emergency Provision) Ordinance No 1 of 1969 জারি করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত মিত্ৰ শক্তি হওয়া এবং দু দেশের মধ্যে কোনও যুদ্ধাবস্থা না থাকার পরও রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৯/১৯৭২ অর্থাৎ Bangladesh vesting of property and assets Order স্থায়ী বলে কথিত শত্রু সম্পত্তি যা পাকিস্তান সরকারের কাস্টেডিয়ানের ওপর ন্যস্ত ছিল, তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে ন্যস্ত হয়। আসলে ১৯৬৯-এর পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর Enemy Property (Continuance of Emergency Provision) ordinance বহাল রেখে জনগণের মানবিক মর্যাদা, সামাজিক অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করা হয়। পাকিস্তান আমলের মতই স্বাধীন বাংলাদেশেও শত্রু সম্পত্তির তদারকি অত্যন্ত অন্যায় ভাবে অব্যাহত রাখা হয়। জনগণের দাবি উপেক্ষা করেও শত্রু সম্পত্তি আইন (Continuance of Emergency Provision) Repeal Act XLV of 1974 জারি করে বাতিলেরনাম করে Vested & Non-Resident Property (Administration) Act XLVI of 1974-এর আবরণে পাকিস্তান আমলে সরকারের হাতে ন্যস্ত সম্পত্তি সহ বাংলাদেশের স্থায়ী অধিবাসী নয় has ceased to be permanent resident বা বৈদেশিক নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন এমন লোকের সম্পত্তি সরকারে ন্যস্ত করবার মধ্য দিয়ে সব সম্পত্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিকে নিজ উদ্যোগে বা অনাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বা সরকারের নির্দেশে ঘোষিত সম্পত্তির দায়িত্ব অৰ্পণ করা হয়। এই আইনের আওতায় কেবল পাকিস্তানি আমলের শক্ৰ সম্পত্তি হিসেবে যেসব সম্পত্তি তালিকাভুক্ত হয় সেগুলোই নয়, পাকিস্তানি সরকার বা শত্ৰু সম্পত্তি তত্ত্বাবধায়কেরা যেসব সম্পত্তি তাদের তদারকিতে আনেননি, সেগুলোও আনবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আইন কার্যকর হবার আগেই ১৯৭৬ সালের Ordinance no. XCIII জারি করা হয়। এই আইনে বলা হয়-Those properties which have had wested under the Act shall be administered, controlled, managed and disposed of by transfer or otherwise, by the Government on such officer or authority as Government may direct এরপর এক বছর যেতে না যেতেই ১৯৭৭ সালের মে মাসের ২৩ তারিখে এক সার্কুলারে বলা হয়-10 kathas of vacant non-agricultural land shall be given long term lease to a person deserving to get it, realising full market value as premium and proper rent, that non-agricultural lands situated in business centre shall be settled in open auction with the highest bidder. অর্থাৎ বাংলাদেশের দেড়-দু কোটি জনগণের যে অকৃষিজাত জমিতে অংশ বা দখল রয়েছে তা নিলামে দীর্ঘমেয়াদী ইজারা দেবার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। নির্দেশের ৩৭ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, তহশীল অফিসের যে সব তহশীলদার বা কর্মচারী নিজ নিজ এলাকার গোপন ন্যস্ত সম্পত্তি খুঁজে বের করে দিতে পারকেন, বা ওই সংক্রান্ত খবরাখবর দিতে পারবেন তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে।. ৩৮ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, এ কাজে নিয়োজিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সকল মহকুমা প্রশাসক, সার্কেল অফিসার (রাজস্ব), এবং ভূমি প্রশাসক ও ভূমি সংস্কার বিভাগের কর্মচারীদের সম্মানী দেওয়া হবে। পুরস্কার পাবার লোভে এরা ন্যস্ত সম্পত্তি খুঁজে বের করবার নামে হিন্দুদের ভিটে বাড়ি থেকে বা তাদের দখলকৃত অংশ থেকে জোর করে উচ্ছেদও করেছে।
