“Met DP at 5 pm. He showed anxiety at the decline of FF activity… I explained the difficulty of repoliticising the occupied areas and its consequence on FF activity. He emphasised the need for better co-ordination in selecting the targets for FF ops and wanted to know if there was any insurmountable difficulty in inducting base workers in a few pre-selected areas for ops. He sounded so ad hoc….
“On Mujib Bahini, he felt that his PM’s intervention would be required as it seemed to be a tricky matter…”
আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন রিক্রুটমেন্ট যথাসম্ভব গোপনে চালিয়ে যাওয়া স্থির হয়। এই সিদ্ধান্তের আর একটি দিক ছিল সবিশেষ লক্ষণীয়। মাত্র সতের দিন আগে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের যুগ্ম সিদ্ধান্তের পদ্ধতি ডি. পি. ধর নিজেই যেখানে প্রবর্তন করেছিলেন, সেখানে বামপন্থীদের মুক্তিবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার মত
অত্যন্ত বিতর্কমূলক প্রশ্নে কেবল তাজউদ্দিনের একক সিদ্ধান্তকেই তিনি যথেষ্ট মনে করেন। এই ঘটনা থেকে তাজউদ্দিনের উপর তাঁদের ক্রমবর্ধমান আস্থা সঞ্চার ছাড়াও আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ জটিলতা সম্পর্কে তাদের সচেতনতার প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও ডি. পি. ধর পরবর্তীকালে এই সিদ্ধান্তকে ‘মুজিব বাহিনী’র’ প্রভাব খর্ব করার প্রচেষ্টা হিসাবে বর্ণনা করেন, তবু তাঁদের আসন্ন মস্কো সফরের আগে মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার কোন সুবিবেচনা প্রয়োজন থেকেই তাজউদ্দিনের একক সিদ্ধান্তকে তারা হয়ত নিরাপদ মনে করে থাকতে পারেন।
মুক্তিবাহিনীতে বামপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কেবল আওয়ামী লীগের একাংশের নয়, ভারতের দক্ষিণপন্থী মহলের তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা কোন অংশে কম ছিল না। জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তাঁদের অভিমত থেকেও প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা আঁচ করা চলে। তাজউদ্দিন ও ডি. পি. ধরের সম্মতির ফলে যেদিন বামপন্থীদের রিক্রুট করার সিদ্ধান্ত হয় ঠিক সেদিনই অর্থাৎ ১৭ই সেপ্টেম্বরে দিল্লীর এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় পার্লামেন্ট সদস্য এবং ‘বাংলাদেশের জন্য জাতীয় সমন্বয় কমিটির’ আহ্বায়ক অধ্যাপক সমর গুহ ‘জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি’ গঠনের জন্য ডি. পি. ধর এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব টি. এন. কলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন যে, সোভিয়েট সাহায্য ও সমর্থন লাভের নামে জোর করে এই দুই ভারতীয় কর্মকর্তা বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বহুদলীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন এবং তৃতীয় সপ্তাহে ন্যাপ সিপিবি কর্মীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রামের নেতৃত্বে কোন মৌল পরিবর্তন না ঘটলেও পরিবর্তনের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, তা সমভাবেই আওয়ামী লীগের দক্ষিণপন্থী এবং ভারতের দক্ষিণপন্থীদের কাছে আপত্তিকর ছিল। কিন্তু ২৩শে সেপ্টেম্বরে ডি. পি. ধরের মস্কো যাত্রাকালে কূটনৈতিক পাথেয় হিসাবে এর মূল্য সম্ভবত কম ছিল না। এর চারদিন বাদে ইন্দিরা গান্ধী সোভিয়েট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার জন্য মস্কো যান।
ইন্দিরা গান্ধীর মস্কো যাত্রার আয়োজন চলাকালে তাজউদ্দিন বাদে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশ নেতৃত্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল প্রেরণের বিষয়কে কেন্দ্র করে। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত খোন্দকার মোশতাকের ধারণা ছিল
তিনিই এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব করতে চলেছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের জন আরউইন ভারতের রাষ্ট্রদূতকে প্রবাসী সরকারের একাংশের সঙ্গে গোপন মার্কিন যোগাযোগের বিষয় জানানোর পর, খোন্দকার মোশতাকের আমেরিকা সফরের বিষয়ে যখন নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়, তখন ৮-সদস্যবিশিষ্ট এক প্রতিনিধিদল ২১শে সেপ্টম্বরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আরও তিনজন প্রতিনিধি এদের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এঁদের নেতৃত্ব দান করেন। ইতিমধ্যে পাকিস্তান ও আমেরিকার প্রচেষ্টার ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতা বন্ধের জন্য জাতিসংঘকে পুনরায় যে ভূমিকায় দাঁড়া করানোর চেষ্টা করা হয়, তা নেপথ্য সোভিয়েট প্রচেষ্টায় ব্যাহত হয়। সাধারণ পরিষদের নব-নির্বাচিত সভাপতি আদম মালিক পাকিস্তান ও ভারতকে দ্বিপাক্ষীয় আলোচনা শুরু করায় সম্মত করানোর প্রয়োজন উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ পরিষদে এই বিতর্ক ফলপ্রসূ না হওয়াই সম্ভব। পাকিস্তানের পক্ষে মাহমুদ আলীর অভিযোগ এবং ভারতের সমর সেনের জবাব ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ বিষয়ক বিতর্ক শেষ হয়।
এই সময়ে বাংলাদেশ প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয় মস্কোতে এবং তার ফলে পরিস্থিতির মৌলিক উন্নতি ঘটে। ২৮ ২৯শে সেপ্টেম্বরে ইন্দিরা গান্ধীর মস্কো সফরকালে উভয় দেশের নেতৃবৃন্দের আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা এবং শীর্ষ বৈঠকের শেষে প্রকাশিত যুক্তইশতেহার থেকে বাংলাদেশ প্রশ্নে সোভিয়েট ভূমিকার স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যুক্তইশতেহারে মূল অংশে বলা হয়, উপমহাদেশে শান্তি সংরক্ষণের স্বার্থে উদ্ভূত সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে পূর্ব বাংলার মানুষের বাসনা, অবিচ্ছেদ্য অধিকার ও আইনানুগ স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এবং শরণার্থীদের দ্রুতগতিতে ও নিরাপদে, সম্মান ও মর্যাদার পরিবেশে স্বদেশে ফেরৎ পাঠানোর উদ্দেশ্যে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যুক্তইশতেহারে আরও বলা হয় যে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠায় ভারত ও সোভিয়েট উভয় পক্ষ এ ব্যাপারে যোগাযোগ ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখবে। এই শেষোক্ত ঘোষণা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভারত-সোভিয়েট মৈত্রীচুক্তিতে বর্ণিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় সংক্রান্ত ধারা কার্যকর হবার মত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে বলে উভয় পক্ষ মনে করে।
