হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৩ | 4253 | ٤۲۵۳
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৫. আল্লাহর বাণীঃ এবং যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে (৫ঃ ৬)
৪২৫৩। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, মদিনায় প্রবেশের পথে বায়দা নামক স্থানে আমার গলার হারটি পড়ে গেল। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উট বসিয়ে অবস্থান করলেন। তিনি আমার কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) এসে আমাকে কঠোরভাবে থাপ্পর লাগালেন এবং বললেন একটি হার হারিয়ে তুমি সকল লোককে আটকে রেখেছ। এদিকে তিনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন, অপর দিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় আছেন, এতে আমি মৃত্যু যাতনা ভোগ করছিলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন, ফজর সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হল এবং পানি খোজ করে পাওয়া গেল না, তখন নাযিল হলঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ الآيَةَ হে মু’মিনগণ, যখন তোমরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত কণুই পর্যন্ত ধৌত করবে। (৫ঃ ৬)
এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, হে আবূ বকরের বংশধর! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কারণে মানুষের জন্য বরকত নাযিল করেছেন। তোমাদের আপাদ মস্তক তাদের জন্য বরকতই বরকত।
হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৪ | 4254 | ٤۲۵٤
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৬. আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং তুমি ও তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব (৫ঃ ২৪)
৪২৫৪। আবূ নু‘আঈম (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন মিকদাদ (রাঃ) বলেীছলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসরাঈলীরা মূসা (আলাইহিস সালাম) কে যে রকম বলেছিল, ‘‘যাও তুমি ও তোমার প্রতিপালক যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব’’ আমরা আপনাকে সে রকম বলব না বরং আপনি অগ্রসর হোন, আমরা সবাই আপনার সাথেই আছি, তখন যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল।
এই হাদীসটি ওয়াকা-সুফিয়ান থেকে, তিনি মুখারিক থেকে এবং তিনি (মুখারিক) তারিক থেকে বর্ণণা করেছেন যে, মিকদাদ এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৫ | 4255 | ٤۲۵۵
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৭. আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কার্য করে বেড়ায় তাদের শাস্তি এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক হতে তাদের হাত পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে (দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্চনা ও আখিরাতে তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে) (৫ঃ ৩৩) [ الْمُحَارَبَتُ لِلَّهِ الْكُفْرُبِهِ ]-আল্লাহর সাথে কুফরী করা।
৪২৫৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ কিলাবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁরা কিসামাত দন্ড সম্পর্কিত হাদীসটি আলোচনা করলেন এবং এর অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করলেন, তারা মৃত্যুদন্ডের পক্ষে বললেন এবং এও বললেন যে, খুলাফায়ে রাশেদীন এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছেন। এরপর তিনি আবূ কিলাবার প্রতি তাকালেন, আবূ কিলাবা তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ নামে কিংবা আবূ কিলাবা নামে ডেকে বললেন, এই ব্যাপারে তোমার মতামত কি? আমি বললাম বিয়ের পর ব্যভিচার, কিসাসবিহীন খুন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার কোন একটি ব্যতীত অন্য কোন কারণে কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া ইসলামে বৈধ বলে আমার জানা নেই।
আনবাসা বললেন, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ হাদীসে আরনিন।) আমি (আবূ কিলাবা) বললাম, আমাকেও আনাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণণা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এসে তাঁর সাথে আলাপ করল, তারা বলল, (প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে) আমরা এদেশের সাথে মিলতে পারছি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো আমার উট, ঘাস খাওয়ানোর জন্য বের হচ্ছে, তোমরা এগুলোর সাথে যাও এবং এদের দুধ ও পস্রাব পান কর। তারা ওগুলোর সাথে বেরিয়ে গেল এবং দুধ ও প্রসাব পান করে সুস্থ হয়ে উঠল, এরপর রাখালের উপর আক্রমন করে তাকে হত্যা করে পশুগুলো লুট করে নিয়ে গেল।
মৃত্যুদন্ড ভোগ করার অপরাধসমূহ তাদের থেকে কতটুকু দূরে ছিল? তারা নর হত্যা করেছে,আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভয় দেখিয়েছে। আনবাসা আশ্চর্য হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, আমার এ হাদীস সম্পর্কে তুমি কি আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেবে? আনবাসা বলল, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ কিলাবা বললেন, তখন ‘আনবাসা বলল, হে দেশবাসী (অর্থাৎ সিরিয়াবাসী) এ রকম ব্যাক্তিবর্গ যতদিন তোমাদের মধ্যে থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৬ | 4256 | ٤۲۵٦
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৮. আল্লাহর বাণীঃ এবং যখমের বদল অনুরূপ যখম (৫ঃ ৪৫)
৪২৫৬। মুহাম্মদ ইবনু সাল্লাম (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রুবাই যিনি আনাস (রাঃ) এর ফুফু, এক আনসার মহিলার সামনের একটি বড় দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। এরপর আহত মহিলার গোত্র এর কিসাস দাবি করে। তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন, আনাস ইবনু মালিক এর চাচা আনাস ইবনু নযর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ রুবাই এর দাত ভাঙ্গা হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাব তো ‘বদলা’র বিধান দেয়। পরবর্তীতে বিরোধী পক্ষ রাযী হয়ে মুক্তিপণ বা দিয়ত গ্রহণ করল। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছে যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের শপথ সত্যে পরিণত করেন।
