হাদিস নম্বরঃ ৪২০৫ | 4205 | ٤۲۰۵
পরিচ্ছদঃ ২৩১৭. আল্লাহর বাণীঃ রসূল (সাঃ) তোমাদের পেছনের দিক থেকে আহবান করছিলেন। آخركم এর স্ত্রীলিঙ্গ أخراكم ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, দু’কল্যাণের একটি এর অর্থ হল বিজয় অথবা শহীদ হওয়া
৪২০৫। আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদাতিক বাহিনীর উপর আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) কে সেনাপতি নির্ধারণ করেন। এরপর তাদের কতক পরাজিত হলে পালাতে লাগল, এটাই হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তোমাদের পেছন দিক থেকে ডাকছিলেন। মাত্র বারজন ছাড়া আর কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন না।
হাদিস নম্বরঃ ৪২০৬ | 4206 | ٤۲۰٦
পরিচ্ছদঃ ২৩১৮. আল্লাহর বাণীঃ প্রশান্তি তন্দ্রারূপে
৪২০৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ তালহা (রাঃ) বলেন, আমরা উহুদ যুদ্ধের দিন আপন আপন সারিতে ছিলাম। তন্দ্রা আমাদের আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল। তিনি বলেছিলেন, আমার তরবারী আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল, আর আমি তা উঠাচ্ছিলাম, আবার পড়ে যাচ্ছিল, আবার আমি উঠাচ্ছিলাম।
হাদিস নম্বরঃ ৪২০৭ | 4207 | ٤۲۰۷
পরিচ্ছদঃ ২৩২০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে (৩ঃ ১৭৩)
باب قوله الذين استجابوا لله والرسول من بعد ما أصابهم القرح للذين أحسنوا منهم واتقوا أجر عظيم القرح الجراح استجابوا أجابوا يستجيب يجيب
২৩১৯. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ যখম হওয়ার পরও যারা আল্লাহ ও রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে তাদের মধ্যে যারা সৎকার্য করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে চলে, তাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে (৩ঃ ১৭২) القرح যখম। استجابوا ডাকে সাড়া দিন। يستجيب সাড়া দেয়।
৪২০৭। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ বাক্যটি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন, যখন তিনি অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। আর মুহাম্মদ বলেছিলেন যখন লোকেরা বলল, ‘‘তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় কর কিন্তু এটি তাদের ঈমান দৃঢ়তর করেছিল এবং তারা বলেছিল ‘‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক’’ (৩: ১৭৩)
হাদিস নম্বরঃ ৪২০৮ | 4208 | ٤۲۰۸
পরিচ্ছদঃ ২৩২০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে (৩ঃ ১৭৩)
৪২০৮। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখন অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন তাঁর শেষ বক্তব্য ছিল حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ‘‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’’ তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক।
হাদিস নম্বরঃ ৪২০৯ | 4209 | ٤۲۰۹
পরিচ্ছদঃ ২৩২১. আল্লাহর বাণীঃ এবং আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। سَؤُطَوَّقُوْنَ এটা আরবী বাক্য طوقته بطوق (তাকে বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছি) এর ন্যায়।
৪২০৯। আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যাকে আল্লাহ তাআলা ধন-সম্পদ দেন, তারপর সে তার যাকাত পরিশোধ করে না- কিয়ামত দিবসে তার ধন-সম্পদকে তার জন্য লোমবিহীন কালো-চিহৃ বিশিষ্ট সর্পে রূপান্তরিত করা হবে এবং তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। মুখের দু’ধার দিয়ে সে তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়।’ এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন وَلاَ يَحْسِبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
অর্থ আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। (৩ঃ ১৮০)
হাদিস নম্বরঃ ৪২১০ | 4210 | ٤۲۱۰
পরিচ্ছদঃ ২৩২২. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরীকদের কাছ থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে (৩ঃ ১৮৬)
৪২১০। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহন করেছিলেন, একটি ফদকী চাঁদর তাঁর পরনে ছিল। উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) কে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। তিনি বনী হারিস ইবনু খাযরায গোত্রে অসুস্থ সা’দ ইবনু উবায়দা (রাঃ) কে দেখতে যাচ্ছিলেন। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। বর্ণনাকারী বলেন যে, যেতে যেতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি মজলিশের সামনে গিয়ে পৌছলেন, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনু উবায় বিন সালুলও ছিল, সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। সে মজলিসে মুসলিম, মুশরিক, প্রতিমা পূজারী এবং ইহুদী সকল প্রকারের লোক ছিল এবং তথায় আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। জন্তুর পদধূলি যখন মজলিস ছেয়ে ফেলল, তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবায় আপন চাঁদরে নাক ঢেকে ফেলল। তারপর বলল, আমাদের এখানে ধুলো উড়িয়ো না।
