قَاتِلُو الاية (এ আয়াতগুলো শ্রবণ করার পর) ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা এ কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে করেছি এবং তখন ইসলামের অনুসারীর দল স্বল্পসংখ্যক ছিল। যদি কোন লোক দ্বীন সম্পর্কে ফিতনায় নিপতিত হতো তখন হয় তাকে হত্যা করা হত অথবা শাস্তি প্রদান করা হত। এভাবে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আর কোন ফিতনা রইল না। সে ব্যাক্তি বলল, আলী ও উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, উসমান (রাঃ)-কে তো আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করেছেন অথচ তোমরা তাঁকে ক্ষমা করা পছন্দ করো না। আর আলী (রাঃ)-তিনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং তাঁর জামাতা। তিনি নিজ হাত দ্বারা ইশারা করে বলেন, এই তো তাঁর ঘর [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের কাছে] যেমন তোমরা দেখতে পাচ্ছ।
হাদিস নম্বরঃ ৪১৬২ | 4162 | ٤۱٦۲
পরিচ্ছদঃ ২২৮৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং নিজেদের হাতে নিজদেরকে তোমরা ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। আর তোমরা সৎকাজ কর। নিশ্চয় আল্লাহ সতকর্মশীলদের ভালবাসেন” – (সূরা আল-বাক্বারা ২/১৯৫)। আয়াতে উল্লাখিত التَّهْلُكَةِ ও الْهَلأَك একই অর্থে ব্যবহৃত।
৪১৬২। ইসহাক (রহঃ) … হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এ আয়াত আল্লাহর পথে ব্যয় করা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৩ | 4163 | ٤۱٦۳
পরিচ্ছদঃ ২২৮৫. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে তবে সওম কিংবা সদাকাহ অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদয়া দিবে (বাক্বারা ২ঃ ১৯৬)
৪১৬৩। আদম … আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রাঃ) থেকে বর্ণত। তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু উজরা-এর নিকট এই কূফার মসজিদে বসা থাকাকালে রিাযার ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমার চেহারায় উকুন ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় আমাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আনা হয়। তিনি তখন বললেন, আমি মনে করি যে, এতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী যোগাড় করতে পার? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন রোযা পালন কর অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান কর। প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা‘ খাদ্য প্রদান করতে হবে এবং তোমার মাথার চুল কামিয়ে ফেল। তখন আমার সম্পর্কে বিশেষভাবে আয়াত নাযিল হয়। তবে তা তোমাদের সকলের জন্য প্রযোজ্য।
হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৪ | 4164 | ٤۱٦٤
পরিচ্ছদঃ ২২৮৬. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জের প্রাক্কালে উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায়, সে সহজলভ্য কুরবানী করবে (২ঃ ১৯৬)
৪১৬৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামাত্তুর আয়াত আল্লাহর কিতাবে নাযিল হয়েছে। এরপর আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তা আদায় করেছি। এবং একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াত নাযিল হয়নি। এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল পর্যন্ত তা থেকে নিষেধও করেনি। এখন যে তা নিষেধ করতে চায় তা হচ্ছে তার নিজস্ব অভিমত।
হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৫ | 4165 | ٤۱٦۵
পরিচ্ছদঃ ২২৮৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। (সূরা আল-বাক্বারা ২ঃ ১৯৮)
৪১৬৫। মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উকায, মাজান্না এবং যুল-মাজায নামক তিনটি স্থানে জাহেলী যুগে বাজার ছিল। কুরাইশগণ তথায় হাজ্জের মওসুমে ব্যবসা করতে যেত। তাই মুসলিমগণ সেখানে যাওয়া দোষ মনে করত। তাই এ আয়াত নাযিল হয়।
হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৬ | 4166 | ٤۱٦٦
পরিচ্ছদঃ ২২৮৮. আল্লাহর বাণীঃ এরপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সে স্থান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে (২ঃ ১৯৯)
৪১৬৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশ এবং যারা তাদের দ্বীনের অনুসারী ছিল তারা (হাজ্জের সময়) মুযদালিফায় অবস্থান করত। আর কুরাইশগণ নিজেদের সাহসী ধর্মে অটল বলে অভিহিত করত এবং অপরাপর আরবগণ আরাফাতে অবস্থান করত। এরপর যখন ইসলামের আগমন হল, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরাফাতে ওকুফের এবং এরপর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিলেন। ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ আয়াতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৭ | 4167 | ٤۱٦۷
পরিচ্ছদঃ ২২৮৮. আল্লাহর বাণীঃ এরপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সে স্থান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে (২ঃ ১৯৯)
৪১৬৭। মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু আদায়কারী ব্যাক্তি উমরা আদায়ের পরে যতদিন হালাল অবস্থায় থাকবে ততদিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে। তারপর হাজ্জের (হজ্জ) জন্য ইহরাম বাঁধবে। এরপর যখন আরাফাতে যাবে তখন উট, গরু, ছাগল প্রভৃতি যা মুহারিমের জন্য সহজলভ্য হয় তা মীনাতে কুরবানী করবে। আর যে কুরবানীর সঙ্গতি রাখে না সে হাজ্জের (হজ্জ) দিনসমূহের মধ্যে তিনটি রোযা পালন করবে। আর তা আরাফার দিবসের পূর্বে হতে হবে। আর তিন দিনের শেষ দিন যদি আরাফার দিন হয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। তারপর আরাফাত ময়দানে যাবে এবং সেখানে সালাতে আসর হতে সূর্যাস্তের অন্ধকার পর্যন্ত ওকুফ (অবস্থান) করবে। এরপর আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালিফায় পৌঁছে সেখানে নেকী হাসিলের কাজ করতে থাকবে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকর করবে। সেখানে ফজর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করবে। এরপর (মদিনার) দিকে প্রত্যাবর্তন করবে যেভাবে অন্যান্য লোক প্রর্ত্যাবর্তন করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “এরপর প্রত্যাবর্তন কর সেখান হতে, যেখান হতে লোকজন প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল, দয়াময়।” তারপর জমরাতুল উকাযার প্রস্তর নিক্ষেপ করবে।
