হাদিস নম্বরঃ ৪১৩২ | 4132 | ٤۱۳۲
পরিচ্ছদঃ ২২৬৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ স্মরন করুন যখন ইব্রাহীম ও ইসমাইল কা‘বা ঘরের প্রাচীর তুলছিলেন তখন তারা বলছিলেনঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এই কাজ গ্রহন করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা ।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১২৭)। القواعد অর্থ ভিত্তি, একবচনে قاعدة আল-কাওয়ায়িদ মহিলাদের সম্পর্কে বলা হলে এর অর্থ বৃদ্ধা নারী, তখন এর একবচন (قاعد) হবে।
৪১৩২। ইসমাঈল (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার কি জানা নেই যে তোমার সম্প্রদায় কুরাইশ কা’বা তৈরী করেছে এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির থেকে ছোট নির্মাণ করেছে?’ [আয়িশা (রাঃ) বলেন] আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির উপর কা’বাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার গ্রোত্রের কুফরীর যামানা অতীতে না হত। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, যদি আয়িশা (রাঃ) এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তবে আমার মনে হয় যে এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিমের দিকের দুই রোকনে (রোকনে ইরাকী ও রোকন শামী) চুম্বন বর্জন করেছেন, যেহেতু বায়তুল্লাহ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির উপর সম্পূর্ণভাবে নির্মিত নয়।
হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৩ | 4133 | ٤۱۳۳
পরিচ্ছদঃ ২২৬৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা বল, আমরা আল্লাহতে ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তার প্রতিও। (২ঃ১৩৬)
৪১৩৩। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইহুদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের জন্য তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বস করো না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহর বাণী) ‘তোমরা বল আমরা আল্লাহতে ঈমান এনেছি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তা।’
হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৪ | 4134 | ٤۱۳٤
পরিচ্ছদঃ ২২৬৫. মহান আল্লাহর বাণীঃ নির্বোধ লোকেরা অচিরেই বলবে যে, তারা এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করে আসছিল তা থেকে তাদেরকে কিসে ফিরিয়ে দিল! বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করেন।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৪২)
৪১৩৪। আবূ নু‘আইম (রহঃ) … বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে ষোল অথবা সতের মাস যাবত বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। অথচ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর দিকে তাঁর কিবলা হওয়াকে পছন্দ করতেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) (কাবার দিকে মুখ করে) আদায় করেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কারী একজন বের হন এবং তিনি একটি মসজিদের লোকদের কাছ দিয়ে গেলেন তখন তারা রুকু অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষি রেখে বলছি যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কার দিকে মুখ করে নামায আদায় করেছি। একথা শোনার পর তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সে অবস্থায় বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে গেলেন। আর যারা কিবলা বায়তুল্লাহর দিকে পরিবর্তের পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় অবস্থায় মারা গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের সম্পর্কে আমরা কি বলব তা আমাদের জানা ছিল না। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন “আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমানকে তিনি ব্যর্থ করে দিবেন, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরমদয়ালু।” (২:১৪৩)
হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৫ | 4135 | ٤۱۳۵
পরিচ্ছদঃ ২২৬৬. আল্লাহর বাণীঃ “আর এইভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধমপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবে এবং রাসুল (সাঃ) তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবেন (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ৪৩)
৪১৩৫। ইউসুফ ইবনু রাশিদ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন নূহ (আলাইহিস সালাম) কে ডাকা হবে। তখন তিনি উত্তর দিবেন এ বলেঃ হে আমাদের রব! আমি আপনার পবিত্র নিকটে উপস্থিত (তখন আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) তুমি কি (আল্লাহর পায়গাম লোকদের) পৌঁছে দিয়েছিলেন? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। এরূপ তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, [নূহ্ (আলাইহিস সালাম) কি] তোমাদের নিকট (আল্লাহর পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছে? তারা তখন বলবে, আমাদের কাছে কোন সতর্কবাণী আগমন করেনি। তখন আল্লাহ তা‘আলা [নূহ (আলাইহিস সালাম) কে] বলবেন, তোমা দাবির প্রতি সাক্ষী কে? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মাতগণ। তখন তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর উম্মাতের নিকট আল্লাহর পয়গাম প্রচার করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের প্রতি সাক্ষ্য হবেন। এটাই মহান আল্লাহর বাণী وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ওয়াসাত শব্দের অর্থ ন্যায়নিষ্ঠ।
