হাদীস নং ৪০৬৫
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (মদীনা মুনাওয়ারা থেকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে রওয়ানা হলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন আর কেউ কেউ হজ্জের ইহরাম, আবার কেউ কেউ হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। যারা শুধু হজ্জের ইহরাম বাঁধেন অথবা হজ্জ ও উমরার ইহরাম একসঙ্গে বাঁধেন, তারা কুরবানীর দিন দশই যিলহজ্জ-এর পূর্বে হালাল হতে পারবে না।
হাদীস নং ৪০৬৬
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..মালিক রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উপরোক্ত ঘটনা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জকালীন সময়ের। ইসমাঈল রহ. সূত্রেও মালিক রহ. থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
হাদীস নং ৪০৬৭
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..সাদ (ইবনে আবু ওয়াক্কাস) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় আমি বেদনাজনিত মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার রোগে যে কঠিন আকার ধারণ করেছে তা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন। আমি একজন বিত্তশালী লোক অথচ আমার একমাত্র কন্যা ব্যতীত অন্য কোন উত্তরাধিকারী নেই। এমতাবস্থায় আমি কি আমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ সাদকা করে দেব? তিনি বললেন, না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তবে কি আমি এর অর্ধেক সাদকা করে দেব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, এক-তৃতীয়াংশ, তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ অনেক। তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় ছেড়ে যাওয়া তাদেরকে অভাবগ্রস্থ অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম—যারা পরে মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়াবে। আর তুমি যা-ই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্ত খরচ কর, তার বিনিময়ে তোমাকে প্রতিদান প্রদান করা হবে। এমনকি যে লোকমা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে ধর তারও। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি আমার সাথীদের পিছনে পড়ে থাকব? তিনি বললেন, তুমি পিছনে পড়ে থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমল করবে তা দ্বারা তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে ও সমুন্নত হবে। সম্ভবত তুমি পিছনে থেকে যাবে। ফলে তোমার দ্বারা এক সম্প্রদায় উপকৃত হবে। অন্য সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ইয়া আল্লাহ ! আমার সাহাবীদের হিজরত আপনি জারী করে রাখুন। এবং তাদের পিছনের দিকে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু আফসোস সাদ ইবনে খাওলা রা.-এর জন্য, (রাবী বলেন) মক্কায় তার মৃত্যু হওয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
হাদীস নং ৪০৬৮
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর রা. তাদেরকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে তাঁর মাথা মুণ্ডন করেছিলেন।
হাদীস নং ৪০৬৯
উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ রহ………….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. তাকে অবহিত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে মাথা মুণ্ডন করেন এবং তাঁর সাহাবীদের অনেকেই আর তাদের কেউ কেউ মাথার চুল ছেটে ফেলেন।
হাদীস নং ৪০৭০
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ ও লায়িস রহ…………..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি গাধায় আরোহণ করে রওয়ানা হন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জকালে মিনায় দাঁড়িয়ে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করছিলেন। তখন গাধাটি নামাযের একটি কাতারের সামনে এসে পড়ে। এরপর তিনি গাধার পিঠ থেকে অবতরণ করেন এবং তিনি লোকদের সঙ্গে নামাযের কাতারে সামিল হন।
হাদীস নং ৪০৭১
মুসাদ্দাদ রহ……………হিশামের পিতা (উরওয়া রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার উপস্থিতিতে উসামা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদায় হজ্জের সফর সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বললেন, মধ্যম গতিতে চলেছেন আবার যখন প্রশস্ত পথ পেয়েছেন তখন দ্রুতগতিতে চলেছেন।
হাদীস নং ৪০৭২
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…………আবু আইয়ূব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জে (মুযদালিফায়) মাগরিব ও ইশার নামায এক সাথে আদায় করেছেন।
হাদীস নং ৪০৭৩
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সাথীরা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠালেন তাদের জন্য যানবাহন চাওয়ার জন্য। কারণ তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কঠিনতর যুদ্ধ অর্থাৎ তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছু ছিলেন। অনন্তর আমি এসে বললাম, হে আল্লাহর নবী ! আমার সাথীরা আমাকে আপনার সমীপে এ জন্য পাঠিয়েছেন যে, আপনি যেন তাদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের জন্য কোন যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারব না। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি রাগান্বিত। অথচ আমি তা অবগত নই। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যানবাহন না দেয়ার কারণে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ফিরে আসি। আবার এ ভয়ও ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হৃদয়ে আমার প্রতি না আবার অসন্তোষ আসে। তাই আমি সাথীদের কাছে ফিরে যাই এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা আমি তাদের অবহিত করে। পরক্ষণেই শুনতে পেলাম যে বিলাল রা. ডাকছেন এ বলে যে, আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস কোথায়? তখন আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে ডাকছেন, আপনি উপস্থিত হন। আমি যখন তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম তখন তিনি বললেন, এই জোড়া এবং ঐ জোড়া এমনি ছয়টি উটনী যা সাদ থেকে ক্রয় করা হয়েছে, তা গ্রহণ কর। এবং সেগুলো তোমার সাথীদের কাছে নিয়ে যাও। এবং বল যে, আল্লাহ তায়ালা (রাবীর সন্দেহ) অথবা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো তোমাদের যাহবাহনের জন্য ব্যবস্থা করেছেন, তোমরা এগুলোর উপর আরোহণ কর। এরপর আমি সেগুলোসহ তাদের কাছে গেলাম এবং বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোকে তোমাদের বাহন হিসেবে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা যারা শুনেছিল আমার সাথে তোমাদের কেউ এমন কারুর কাছে না যাওয়া পর্যন্ত আমি তোমাদের চলে যেতে দিতে পারি না। যাতে তোমরা এমন ধারণা না কর যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি আমি তা তোমাদের বর্ণনা করেছি। তখন তারা আমাকে এমন ধারণা না করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি আমি তা তোমাদের বর্ণনা করেছি। তখন তারা আমাকে বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি আমাদের কাছে সত্যবাদী বলে খ্যাত। তবুও আপনি পছন্দ করেন আমরা অবশ্য করব। অনন্তর আবু মূসা রা. তাদের মধ্যকার একদল লোককে সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক অপারগতা প্রকাশ এবং পরে তাদেরকে দেয়ার কথা শুনেছিলেন, তাদের কাছে আসেন। এরপর তাদের কাছে সেরূপ ঘটনা বর্ণনা করলেন যেমন আবু মূসা আশআরী রা. বর্ণনা করেছিলেন।
