হাদীস নং ৪০৫৪
আমর ইবনে আলী রহ……………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, মুহরিম ব্যক্তি যখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করল তখন সে তাঁরইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইবনে আব্বাস রা. এ কথা কি করে বলতে পারেন? রাবী আতা রহ. উত্তরে বলেন, আল্লাহ তায়ালার এই কালামের দলীল থেকে যে, এরপর তার হালাল হওয়ার স্থল হচ্ছে বায়তুল্লাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের হুজ্জাতুল বিদায় হালাল হয়ে যাওয়ার হুকুম দেওয়ার ঘটনা থেকে। আমি বললাম, এ হুকুম তো আরাফা-এ উকূফ করার পর প্রযোজ্য। তখন আতা রহ. বললেন, ইবনে আব্বাস রা.-এর মতে উকূফে আরাফার পূর্বে ও পরে উভয় অবস্থায়ই এ হুকুম প্রযোজ্য।
হাদীস নং ৪০৫৫
বায়ান রহ…………..আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (বিদায় হজ্জে) মক্কার বাতহা নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি হজ্জের ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন প্রকার হজ্জের ইহরামের নিয়ত করেছ? আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরামের মত ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়া পড়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ কর এবং সাফা ও মারওয়া সায়ী কর। এরপর হালার হয়ে যাও। তখন আমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলাম ও সাফা এবং মারওয়া সায়ী করলাম। এরপর আমি কায়েস গোত্রের এক মহিলার কাচে গেলাম, সে আমার চুল আঁচড়ে (দিয়ে ইহরাম থেকে মুক্ত করে) দিল।
হাদীস নং ৪০৫৬
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাফলা রা. ইবনে উমর রা.-কে জানিয়েছেন যে, বিদায় হজ্জের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দেন। তখন হাফসা রা. জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি কারণে হালাল হচ্ছেন না? তদুত্তরে তিনি বললেন, আমি আঠা (গাম) জাতীয় বস্তু দ্বারা আমার মাথার চুল জমাট করে ফেলেছি এবং কুরবানীর পশুর (নিদর্শনস্বরূপ) গলায় চর্ম বেঁধে দিয়েছি। কাজেই, আমি তদুত্তরে তিনি বললেন, আমি আঠা (গাম) জাতীয় বস্তু দ্বারা আমার মাথার চুল জমাট করে ফেলেছি এবং কুরবানীর পশুর (নিদর্শনস্বরূপ) গলায় চর্ম বেঁধে (গলতানী বা গলকণ্ঠ) দিয়েছি। কাজেই, আমি আমার (হজ্জ সমাধা করার পর) কুরবানীর পশু যবেহ করার পূর্বে হালাল হতে পারব না।
হাদীস নং ৪০৫৭
আবুল ইয়ামান রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আশআম গোত্রের এ মহিলা বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করে। এ সময় ফযল ইবনে আব্বাস রা. )একই যানবাহনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। মহিলাটি আবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি হজ্জ ফরয করেছেন। আমার পিতার উপর তা এমন অবস্থায় ফরয হল যে তিনি অতীব বয়োবৃদ্ধ, যে কারণে যানবাহনের উপর সোজা হয়ে বসতেও সমর্থ নন। এমতাবস্থায় আমি তাঁর পক্ষ থেকে (নায়েবী) হজ্জ আদায় করলে তা আদায় হবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ।
হাদীস নং ৪০৫৮
মুহাম্মদ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতহে মক্কার বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে চললেন। তিনি (তাঁর) কসওয়া নামক উটনীর উপর উসামা রা.-কে পিছনে বসালেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল ও উসমান ইবনে তালহা রা। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর বাহনকে) বায়তুল্লাহর নিকট বসালেন। তারপর উসমান (ইবনে তালহা) রা কে বললেন, আমার কাছে চাবি নিয়ে এসো। তিনি তাকে চাবি এনে দিলেন। এরপর কাবা শরীফের দরজা তাঁর জন্য খোলা হল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, উসামা, বিলাল এবং উসমান রা. কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন। তারপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল। এরপর তিনি দিবা ভাগের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন এবং পরে বের হয়ে আসেন। তখন লোকেরা কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করার জন্য তাড়াহুড়া করতে থাকে। আর আমি তাদের অগ্রগামী হই এবং বিলাল রা.-কে কাবার দরজার পিছনে দাঁড়ানোবস্থায় পাই। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন স্থানে নামায আদায় করেছেন? তিনি বললেন, ঐ সামনের দু’স্তম্ভের মাঝখানে। এ সময় বায়তুল্লাহর দুই সারিতে ছয়টি স্তম্ভ চিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের দুই খামের মাঝখানে নামায আদায় করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর দরজা তার পিছনে রেখেছিলেন এবং তাঁর চেহারা ছিল আপনার বায়তুল্লাহয় প্রবেশকালে সামনে য দেয়ালে পড়ে সেদিকে। ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাকাত নামায আদায় করেছেন তা জিজ্ঞাসা করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। আর যে স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করেছিলেন সেখানে লাল বর্ণের মর্মর পাথর ছিল।
