হাদীস নং ৩৯৬৬
কুতাইবা রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় অবস্থানকালে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল মদের বেচাকেনা হারাম ঘোষণা করেছেন।
হাদীস নং ৩৯৬৭
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের সময়ে) সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ঊনিশ দিন (মক্কায়) অবস্থান করেছিলাম। এ সময়ে আমরা নামাযে কসর করেছিলাম। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, আমরা সফরে ঊনিশ দিন পর্যন্ত কসর করতাম। এর চাইতে অধিক দিন অবস্থান করলে আমরা পূর্ণ নামায আদায় করতাম। (অর্থাৎ চার রাকআত আদায় করতাম)।
হাদীস নং ৩৯৬৮ – মক্কা বিজয়ের সময়ে নবী (সা.)-এর মক্কা নগরীতে অবস্থান।
আবু নুআইম ও কাবীসা রহ…………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (মক্কায়) দশ দিন অবস্থান করেছিলাম। এ সময়ে আমরা নামাযের কসম করতাম।
হাদীস নং ৩৯৬৯
আবদান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের সময়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় ঊনিশ দিন অবস্থান করেছিলেন, এ সময়ে তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।
হাদীস নং ৩৯৭০ – লায়স রহ. বলেছেন, ইউনুস আমার কাছে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালাবা ইবনে সুআইর রা. আমাকে বর্ণনা করেছেন, আর মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সা.) তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করে দিয়েছিলেন।
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………….যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুনাইন আবু জামিলা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যুহরী রহ. বলেন, আমরা (সাঈদ) ইবনে মুসায়্যাব রহ.-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় আবু জামিলা রা. দাবি করেন য, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাত পেয়েছেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মক্কা বিজয়ের বছর (যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য) বের হয়েছিলেন।
হাদীস নং ৩৯৭১
সুলামইমান ইবনে হারব রহ………….আমর ইবনে সালিমা রা. থেকে বর্ণিত, আইয়্যূব রহ. বলেছেন, আবু কিলাবা আমাকে বললেন, তুমি আমরা ইবনে সালিমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর না কেন? আবু কিলাবা রহ. বলেন, এরপর আমি আমর ইবনে সালিমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, আমরা (আমাদের গোত্র) পথিকদের যাতায়াত পথের পাশে একটি ঝরনার নিকট বাস করতাম। আমাদের পাশ ঘেষে অতিক্রম করে যেতো অনেক কাফেলা। তখন আমরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতাম, (মক্কার) লোকজনের কি অবস্থা? মক্কার লোকজনের কি অবস্থা? আর ঐ লোকটিরই কি অবস্থা? তারা বলত, সে ব্যক্তি তো দাবি করেন যে, আল্লাহ তাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন। তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ করেছেন। (কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করে বললেন,) তাঁর কাছে আল্লাহ এ রকম ওহী নাযিল করেছেন। (আমর ইবনে সালিমা বলেন) তখন (পথিকদের মুখ থেকে শুনে) আমি সে বাণীগুলো মুখস্থ করে ফেলতাম যেন তা আজ আমার হৃদয়ে গেথে রয়েছে। সমগ্র আরবাসী ইসলাম গ্রহণের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয়ের অপেক্ষা করছিল। তারা বলত, তাকে তাঁর স্বগোত্রীয় লোকদের সঙ্গে (প্রথমে) বোঝাপড়া করতে দাও। কেননা তিনি যদি তাদের উপর বিজয় লাভ করেন তাহলে তিনি সত্য সত্যই নবী । এরপর মক্কা বিজয়ের ঘটনা সংঘটিত হল। এবার সব গোত্রই তাড়াহুড়া করে ইসলামে দীক্ষিত হতে শুরু করল। আমাদের কাওমের ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে আমার পিতা বেশ তাড়াহুড়া করলেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ী ফিরলেন তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ আমি সত্য নবীর দরবার থেকে তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি বলে দিয়েছেন যে, অমুক সময়ে তোমরা অমুক নামায এবং অমুক সময় অমুক নামায আদায় করবে। এভাবে নামাযের ওয়াক্ত হলে তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে কুরআন বেশি মুখস্থ করেছে সে নামাযের ইমামতি করবে। (এরপর নামায আদায় করার সময় হল) সবাই এ রকম একজন লোককে খুঁজতে লাগল। কিন্তু আমার চেয়ে অধিক কুরআন মুখস্থকারী অন্য কাউকে পাওয়া গেল না। কেননা আমি কাফেলার লোকদের থেকে শুনে (কুরআন) মুখস্থ করতাম। কাজেই সকলে আমাকেই (নামায আদায়ের জন্য) তাদের সামনে এগিয়ে দিল। অথচ তখনো আমি ছয় কিংবা সাত বছরের বালক। আমার একটি চাদর ছিল, যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন চাদরটি আমার গায়ের সঙ্গে জড়িয়ে উপরের দিকে উঠে যেত। (ফলে পেছনের অংশ অনাবৃত হয়ে পড়ত) তখন গোত্রের জনৈক মহিলা বলল, তোমরা তোমাদের ইমামের পেছনের অংশ আবৃত করে দাও না কেন? তাই সবাই মিলে কাপড় খরিদ করে আমাকে একটি জামা তৈরী করে দিল। এ জামা পেয়ে আমি এত আনন্দিত হয়েছিলাম যে, কখনো অন্য কিছুতে এত আনন্দিত হইনি।
হাদীস নং ৩৯৭২
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………….আয়েশা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, অন্য সনদে লায়েস রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. তার ভাই সাদ (ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.)কে ওয়াসিয়াত করে গিয়েছিল যে, সে যেন যামআর বাঁদীর সন্তানটি তাঁর নিজের কাছে নিয়ে নেয়। উতবা বলেছিল, পুত্রটি আমার ঔরসজাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয়কালে সেখানে আগমন করলেন (সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাসও তাঁর সাথে মক্কায় আসেন। সুযোগ পেয়ে) তখন তিনি যামআর বাঁদীর সন্তানটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত করলেন। তাঁর সাথে আবদ ইবনে যামআ (যামআর পুত্র) ও আসলেন। সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস দাবি উত্থাপন করে বললেন, সন্তানটি তো আমার ভাতিজা। আমার ভাই আমাকে বলে গিয়েছেন যে, এ সন্তান তার ঔরসজাত কিন্তু আবদ ইবনে যামআ তার দাবি পেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ আমার ভাই, এ যামআর সন্তান, তাঁর বিছানায় এর জন্ম হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন যামআর ক্রীতদাসীর সন্তানের প্রতি নযর দিয়ে দেখলেন যে, সন্তানটি দৈহিক আকৃতিগত দিক থেকে উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাসের সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদ ইবনে যামআ ! সন্তানটি তুমি নিয়ে নাও। সে তোমার ভাই। কেননা সে তার (তোমার পিতা যামআর) বিছানায় জন্মগ্রহণ করেছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সন্তানটির দৈহিক আকৃতি উতবা ইবনে আবী ওয়াক্কাসের আকৃতির সাদৃশ্য দেখার কারণে (তাঁর স্ত্রী) সাওদা বিনতে যামআর রা.-কে বললেন, হে সাওদা ! তুমি তার (বিতর্কিত সন্তানটির) থেকে পর্দা করবে। ইবনে শিহাব যুহরী রহ. বলেন, আয়েশা রা. বলেছেন যে, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সন্তানের (আইনগত) পিতৃত্ব স্বামীর। আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। ইবনে শিহাব যুহরী বলেছেন, আবু হুরায়রা রা.-এর নিয়ম ছিল যে তিনি এ কথাটি উচ্চস্বরে বলতেন।
