হাদীস নং ৩৯৫৩
আবুল ওয়ালীদ রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উটনীর উপর দেখেছি, তিনি তারজী করে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করছেন। রাবী মুআবিয়া ইবনে কুররা রহ. বলেন, যদি আমার চতুষ্পার্শ্বে লোকজন জমায়েত হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তাহলে আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত বর্ণনা করতে যেভাবে তারজী করেছিলেন আমিও ঠিক সে রকমে তারজী করে তিলাওয়াত করতাম।
হাদীস নং ৩৯৫৪
সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান রহ………..উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মক্কা বিজয়ের কালে (বিজয়ের একদিন পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগামীকাল আপনি কোথায় অবস্থান করবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আকীল কী আমাদের জন্য কোন বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গিয়েছে? এরপর তিনি বললেন, মুমিন ব্যক্তি কাফেরের ওয়ারিশ হয় না, আর কাফেরও মুমিন ব্যক্তির ওয়ারিশ হয় না। (পরবর্তীকালে) যুহরী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আবু তালিবের ওয়ারিশ কে হয়েছিল? তিনি বলেছেন, আকীল এবং তালিব তার ওয়ারিশ হয়েছিল। মামার রহ. যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আপনি আগামীকাল কোথায় অবস্থান করবেন কথাটি (উসামা ইবনে যায়েদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার হজ্জের সফরে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। কিন্তু ইউনুস রহ. তাঁর হাদীসে মক্কা বিজয়ের সময় বা হজ্জের সফর কোনটিই উল্লেখ করেননি।
হাদীস নং ৩৯৫৫
আবুল ইয়ামান রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের পূর্বে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করলে ইনশাআল্লাহ খাইফ হবে আমাদের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফেররা কুফরীর উপর পরস্পরে শপথ গ্রহণ করেছিল।
হাদীস নং ৩৯৫৬
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বললেন, বনী কিনানার খাইফ নামক স্থানেই হবে আমাদের আগামী কালের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফেররা কুফরের উপর পরস্পর শপথ গ্রহণ করেছিল।
হাদীস নং ৩৯৫৭
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় লোহার টুপি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছেন। তিনি সবেমাত্র টুপি খুলেছেন এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনে খাতাল কাবার গিলাফ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হত্যা কর। ইমাম মালিক রহ. বলেছেন, আমাদের ধারণামতে সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না। তবে আল্লাহ আমাদের চেয়ে ভাল জানেন।
হাদীস নং ৩৯৫৮
সাদাকা ইবনে ফাযল রহ…………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন, তখন বায়তুল্লাহর চারপাশে ঘিরে তিনশত ষাটটি প্রতিমা স্থাপিত ছিল। তিনি হাতে একটি লাঠি নিয়ে (বায়তুল্লাহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন এবং ) প্রতিমাগুলেকে আঘাত করতে থাকলেন আর (মুখে) বলতে থাকলেন, হক এসেছে, বাতিল অপসৃত হয়েছে। হক এসেছে বাতিলের আর উদ্ভব ও পুনরুদ্ভব ঘটবে না।
হাদীস নং ৩৯৫৯
ইসহাক রহ…………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করার পর তৎক্ষণাৎ বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রইলেন, কারণ সে সময় বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে অনেক প্রতিমা স্থাপিত ছিল। তিনি এগুলোকে বের করে ফেলার জন্য আদেশ দিলেন। প্রতিমাগুলো বের করা হল। তখন (ঐগুলোর সাথে) ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ.-এর মূর্তিও বেরিয়ে আসল। তাদের উভয়ের হাতে ছিল মুশরিকদের ভাগ্য নির্ণয়ের কয়েকটি তীর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুক। তারা অবশ্যই জানত যে, ইবরাহীম আ. ও ইসমাঈল আ. কখনো তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয়ের কাজ করেননি। এরপর তিনি বায়তুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর প্রত্যেক কোণায় কোণায় গিয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলেন এবং বেরিয়ে আসলেন। আর সেখানে নামায আদায় করেননি। মামার রহ. আইয়্যূব রহ. সূত্রে এবং ওহায়ব রহ. আইয়্যূব রহ.-এর মাধ্যমে ইকরামা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৯৬০
হায়সাম ইবনে খারিজা রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উচু এলাকা ‘কাদা’-এর দিক দিয়ে প্রবেশ করেছেন। আবু উসামা এবং ওহায়ব রহ. ‘কাদা’-এর দিক দিয়ে প্রবেশ করার বর্ণনায় হাবস ইবনে মায়সারা রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ৩৯৬১
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……………..হিশামের পিতা থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উচু এলাকা অর্থাৎ ‘কাদা’ নামক স্থান দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন।
