হাদীস নং ৩৮২৩
হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………..আদী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বারা রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান রা.-কে বলেছেন, কবিতার মাধ্যমে তাদের (কাফেরদে) দোষত্রুটি বর্ণনা কর অথবা (রাবীর সন্দেহ) তাদের দোষত্রুটি বর্ণনা করার জবাব দাও। (তোমার সাহায্যার্থে) জিবরাঈল আ. তোমার সাথে থাকবেন। (অন্য এক সনদে) ইবরাহীম ইবনে তাহমান রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী কুরায়যার সাথে যুদ্ধ করার দিন হাসসান ইবনে সাবিত রা.-কে বলেছিলেন (কবিতার মাধ্যমে) মুশরিকদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা কর। এ ব্যাপারে জিবরাঈল আ. তোমার সাথে থাকবেন।
হাদীস নং ৩৮২৪
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা করলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। আমাদের একটি মাত্র উট ছিল। পালাক্রমে আমরা এর পিঠে আরোহণ করতাম। (হেটে হেটে) আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, খসে পড়ল নখগুলে। এ কারণে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া জড়িয়ে বাঁধলাম। এ জন্য এ যুদ্ধকে যাতুর রিকা যুদ্ধ বলা হয়। কেননা এ যুদ্ধে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দ্বারা পট্রি বেঁধেছিলাম। আবু মূসা রা. উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনা বর্ণনা করাকে অপছন্দ করেন। তিনি বলেন, আমি এভাবে বর্ণনা করাকে ভাল মনে করি না। সম্ভবত তিনি তার কোন আমল প্রকাশ করাকে অপছন্দ করতেন।
হাদীস নং ৩৮২৫
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………সালিহ ইবনে খাওয়াত রা. এমন একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যিনি যাতুর রিকার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক (নামায আদায়ের জন্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কাতারে দাঁড়ালেন এবং অপর দলটি রইলেন শত্রুর সম্মুখীন। এরপর তিনি তার সাথে দাঁড়ানো দলটি নিয়ে এক রাকাত নামায আদায় করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। মুকতাদিগণ তাদের নামায পুরা করে ফিরে গেলেন এবং শত্রুর সম্মুখে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন। এরপর দ্বিতীয় দলটি এলে তিনি তাদেরকে নিয়ে অবশিষ্ট রাকাত আদায় করে স্থির হয়ে বসে রইলেন। এবার মুকতাদিগণ তাদের নিজেদের নামায সম্পূর্ণ করলে তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাম ফিরালেন। মুআয রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, আমরা নাখল নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এরপর জাবির রা. সালাতুল খাওফের কথা উল্লেখ করেন। এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম মালিক রহ. বলেছেন, সালতুল খাওফ সম্পর্কে আমি যত হাদীস শুনেছি এর মধ্যে এ হাদীসটিই সবচেয়ে উত্তম। লাইস রহ………….কাসেম ইবনে মুহাম্মদ রা. থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাযওয়ায়ে বনূ আনমারে সালতুল খাওফ আদায় করেছেন। এই বর্ণনায় মুয়ায রা.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ৩৮২৬
মুসাদ্দাদ রহ………..সাহল ইবনে আবু হাসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (সালাতুল খাওফে) ইমাম কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন। মুকতাদীদের একদল থাকবেন তাঁর সাথে। এবং অন্যদল শত্রুদের মুখোমুখি হয়ে তাদের মুকাবিলায় দাঁড়িয়ে থাকবেন। তখন ইমাম তাঁর পেছনে ইকতেদাকারী লোকদের নিয়ে এক রাকতা নামায আদায় করবেন। এরপর ইকতেদাকারীগণ নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে রুকু ও দুসিজদাসহ আরো এক রাকাত নামায আদায় করে ঐ দলের স্থানে গিয়ে দাঁড়াবেন। এরপর তারা এসে ইকতেদা করার পর ইমাম তাদের নিয়ে আরো এক রাকাত নামায আদায় করবেন। এভাবে ইমামের দু’রাকআত নামায পূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর মুকাতাদিগণ রুকু সিজদাসহ আরো এক রাকারাত নামায আদায় করবেন।
হাদীস নং ৩৮২৭
মুসাদ্দাদ রহ…………সাহল ইবনে আবু হাসমা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৮২৮
মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ রহ…………সাহল রা. থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (পূর্ব বর্ণিত) হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৮২৯
আবুল ইয়ামান রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নাজদ এলাকায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। এ যুদ্ধে আমরা শত্রু দের মুকাবিলা করেছিলাম এবং তাদের সামনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।
হাদীস নং ৩৮৩০
মুসাদ্দাদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সৈন্যদেরকে দু’দলে বিভক্ত করে) একদল সাথে নিয়ে নামায আদায় করেছেন। অন্যদলকে নিয়োজিত রেখেছেন শত্রুর মুকাবিলায়। তারপর (যে দল তাঁর সাথে এক রাকাত নামায আদায় করেছেন) তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় নিজ সাথীদের স্থানে চলে গেলেন। অন্যদল (যারা শত্রুর মুকাবিলায় দাঁড়িয়েছিলেন) চলে আসেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে এক রাকাত নামায আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর তাঁরা তাদের বাকী আরেক রাকাত আদায় করলেন এবং শত্রুর মুকাবিলায় গিয়ে দাঁড়ালেন। এবার পূর্বের দলটি এসে নিজেদের অবশিষ্ট রাকতটি পূর্ণ করলেন।
