আহমাদ ইবন শু’আয়ব ইবন সা’ঈদ (রহঃ) … খালিদ ইবনু আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে বের হলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের। এরপর যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হলে আল্লাহ তা সম্পদের পরিশুদ্ধকারী রূপে নির্ধারণ করেন।
৪৩০৫ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহাব (রহঃ) আবূ বকর (রাঃ) কর্তৃক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আল্লাহর যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করে সেদিন যেভাবে কাল (যামানা) ছিল তা আজও অনুরূপভাবে বিদ্যমান। বারমাসে এক বছর, তন্মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক যথা যিলকাদ, যিলহাজ্জ ও মুহাররম আর মুযার গোত্রের রজব যা জামিদিউসসানী ও সাবান মাসদ্বয়ের মধ্যবর্তী।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩০৬ | 4306 | ٤۳۰٦
পরিচ্ছদঃ ২৩৯৯. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দু’জনের একজন (৯ঃ ৪০) معنا অর্থ আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী, فعيلة السكينة এর সম ওযনে سكون থেকে, অর্থ প্রশান্তি
৪৩০৬। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমার কাছে বলেছেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (সওর) গুহায় ছিলাম। তখন আমি মুশরিকদের পদচারণা দেখতে পেয়ে [নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে] বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি তাদের (মুশরিকদের) কেউ পা উঠায় তাহলে আমাদের দেখে ফেলবে। তখন তিনি বললেন, এমন দু’জন সম্পর্কে তোমার কি ধারণা, যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩০৭ | 4307 | ٤۳۰۷
পরিচ্ছদঃ ২৩৯৯. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দু’জনের একজন (৯ঃ ৪০) معنا অর্থ আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী, فعيلة السكينة এর সম ওযনে سكون থেকে, অর্থ প্রশান্তি
৪৩০৭। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন তাঁর ও ইবনু যুবায়র (রাঃ) এর মধ্যে (বায়আতের প্রেক্ষিতে) মতভেদ ঘটল, তখন আমি বললাম, তার পিতা যুবায়ের, তার মাতা আসমা (রাঃ) ও তার খালা আয়েশা (রাঃ), তার নানা আবূ বকর (রাঃ) ও তার নানী সুফিয়া (রাঃ)। আমি সুফিয়ানকে বললাম, এর সনদ বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, حَدَّثَنَا এবং ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলার আগেই অন্য এক ব্যাক্তি তাকে অন্যদিকে আকৃষ্ট করল।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩০৮ | 4308 | ٤۳۰۸
পরিচ্ছদঃ ২৩৯৯. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দু’জনের একজন (৯ঃ ৪০) معنا অর্থ আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী, فعيلة السكينة এর সম ওযনে سكون থেকে, অর্থ প্রশান্তি
৪৩০৮। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আবূ মূলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও ইবনু যুবায়র (রাঃ) এর মধ্যে বায়আত নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হল, তখন আমি ইবনু আব্বাসের কাছে গিয়ে বললাম, আপনি কি আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা হালাল করে ইবনু যুবায়রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান? তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি, এ কাজ তো ইবনু যুবায়র ও বনী উমাইয়ার জন্যই আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহর কসম! কখনো আমি তা হালাল মনে করব না, (আবূ মূলায়কা বলেন) তখন লোকজন ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলল, আপনি ইবনু যুবায়রের পক্ষে বায়আত গ্রহণ করুন। তখন ইবনু আব্বাস বললেন, তাতে ক্ষতির কি আছে? তিনি এটার জন্য যোগ্যতম ব্যাক্তি। তাঁর পিতা যুবায়র তো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহায্যকারী ছিলেন, তার নানা আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওর গুহার সহচর ছিলেন। তার মা আসমা, যার উপাধি ছিল খাতুন নেতাক। তার খালা আয়িশা (রাঃ) উম্মূল মু’মিনীন ছিলেন, তার ফুফু খাদিজা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ছিলেন, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু সফিয়া ছিলেন তার দাদী। এ ছাড়া তিনি (ইবনু যুবায়রের) তো ইসলামী জগতে নিষ্কলুষ ব্যাক্তি ও কুরআনের ক্বারী। আল্লাহর কসম! যদি তারা (বনী উমাইয়া) আমার সাথে সম্পর্ক রাখে তবে তারা আমার নিকটত্মীায়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রাখল। আর যদি তারা আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করে তবে তারা সমকক্ষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যাক্তিরই রক্ষণাবেক্ষণ করল। ইবনু যুবায়র, বনী আসা’দ, বনী তুআইত, বনী উসামা-এসব গোত্রকে আমার চেয়ে নিকটতম করে নিয়েছেন। নিশ্চই আবিল আস-এর পুত্র অর্থাৎ আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান অহংকারী চালচলন আরম্ভ করেছে। নিশ্চই তিনি অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তার লেজ গুটিয়ে নিয়েছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩০৯ | 4309 | ٤۳۰۹
পরিচ্ছদঃ ২৩৯৯. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দু’জনের একজন (৯ঃ ৪০) معنا অর্থ আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী, فعيلة السكينة এর সম ওযনে سكون থেকে, অর্থ প্রশান্তি
৪৩০৯। মুহাম্মদ ইবনু ‘উবায়দ ইবনু মায়মূনা (রহঃ) … ইবনু আবূ মূলায়কা (রহঃ) বলেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি ইবনু যুবায়রের বিষয়ে বিষ্মিত হবে না? তিনি তো আর এ কাজে (খিলাফতের বিষয়) স্থিতিশীল। আমি বললাম, আমি অবশ্য মনে মনে তার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করি, কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) কিংবা উমর (রাঃ) এর ব্যাপারে তটুকু চিন্তা-ভাবনা করিনি। সব দিক থেকে তার চেয়ে তারা উভয়ে উত্তম ছিলেন। আমি বললাম, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু সফিয়া (রাঃ) এর সন্তান, যুবায়রের ছেলে, আবূ বকর (রাঃ) এর নাতি। খাদিজা (রাঃ) এর ভাতিজা, আয়িশা (রাঃ) এর বোন আসমার ছেলে। কিন্তু তিনি (নিজেকে বড় মনে করে) আমার থেকে দূরে সরে থাকেন এবং তিনি আমার সহযোগিতা কামনা করেন না। আমি বললাম, আমি নিজে থেকে এজন্য তা প্রকাশ করি না যে, হয়ত তিনি তা প্রত্যাখান করবেন। এবং আমি মনে করি না যে, তিনি এটা ভাল করেছেন। অগত্যা বণী উমাইয়ার নেতৃত্ব ও শাসন আমার কাছে অন্যদের থেকে উত্তম।
