হাদীস নং ৩৬৩১
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………..উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি প্রাথমিক পর্যায়ের মুহাজিরদের জন্য চার কিস্তিতে বাৎসরিক চার হাজার দেরহাম ধার্য করলেন, এবং (তাঁর ছেলে) ইবনে উমরের জন্য ধার্য করলেন তিন হাজার পাঁচশ। তাকে বলা হল, তিনিও তো মুহাজিরদের অন্তর্ভূক্ত। তাঁর জন্য চার হাজার থেকে কম কেন করলেন? তিনি বললেন, সে তো তার পিতা-মাতার সাথে হিজরত করেছে। কাজেই সে ঐ ব্যক্তির সমকক্ষ হতে পারে না যে ব্যক্তি একাকী হিজরত করেছে।
হাদীস নং ৩৬৩২
মুহাম্মদ ইবন কাসীর ও মুসাদ্দাদ রহ……….খাব্বাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হিজরত করেছি একমাত্র আল্লাহর তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য। আমাদের ইহজগতে ভোগ না করে আখিরাতে চলে গিয়েছেন; তন্মধ্যে মুসআব ইবনে উমাইর রা. অন্যতম। তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তাকে কাফন দেয়ার জন্য তার একটি চাদর ব্যতীত আর অন্য কিছুই আমরা পাচ্ছিলাম না। আমরা এ চাদরটি দিয়ে যখন তাঁর মাথা আবৃত করলাম তাঁর পা বের হয়ে গেল আর যখন চাদরটি দিয়ে তাঁর পা ঢাকতে গেলাম তখন মাথা বের হয়ে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ করলেন, চাদরটি দিয়ে তাঁর মাথা ঢেকে দাও এবং পা দুটির উপর ইযখির ঘাস রেখে দাও। আর আমাদের মধ্যে এমন রয়েছেন যাদের ফল পেকে গেছে এবং এখন তারা তা আহরণ করছেন।
হাদীস নং ৩৬৩৩
ইয়াহইয়া ইবনে বিশর রহ………..আবু বুরদা ইবনে আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আমাক বললেন, তুমি তুমি কি জান আমার পিতা তোমার পিতাকে কি বলেছিলেন? আমি বললাম, না । তিনি বললেন, আমার পিতা তোমার পিতাকে বলেছিলেন, হে আবু মূসা তুমি কি ইহাতে সন্তুষ্ট আছ যে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছি, তাঁর সঙ্গে হিজরত করেছি, তাঁর সঙ্গে জিহাদ করেছি এবং তাঁর জীবদ্দশায় কৃত আমাদের প্রতিটি আমল যা করেছি তা আমাদের জন্য সঞ্চিত থাকুক। তাঁর ওফাতের পর, আমরা যে সব আমল করেছি, তা (জবাবদিহি) আমাদের জন্য সমান সমান, হউক। অর্থাৎ সাওয়াবও না হউক আযাবও না হউক। তখন তোমার পিতা আবু মূসা রা. বললেন, না (আমি এতে সন্তুষ্ট নেই) কেননা আল্লাহর কসম, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর জিহাদ করেছি, সালাত আদায় করেছি, সাওম পালন করেছি এবং বহু নেক আমল করেছি। আমাদের হাতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। আমরা এসব কাজের সাওয়াব-এর আশা রাখি। তখন আমার পিতা (উমরা রা.) বললেন, কিন্তু আমি ঐ সত্তার কসম, যার হাতে উমরের প্রাণ রয়েছে, এতেই সন্তুষ্টি যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় তাঁর সাথে কৃত আমল) আমাদের জন্য সঞ্চিত থাকুক আর তাঁর ওফাতের পর আমরা যে সব আমল করেছি তা থেকে যেন আমরা অব্যাহতি পাই সমান সমান ভাবে। তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তোমার পিতা আমার পিতা থেকে উত্তম।
হাদীস নং ৩৬৩৪
মুহাম্মদ ইবনে সাববাহ রহ……….আবু উসমান রহ. বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে বলতে শুনেছি যে, তাকে এ কথা বলা হলে, “আপনি আপনার পিতার আগে হিজরত করেছেন” তিনি রাগ করতেন। ইবনে উমর রা. বলেন, (প্রকৃত ঘটনা এই যে,) আমি এবং উমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হলাম। তখন তাকে কায়লুলা অবস্থায় (দুপুরের বিশ্রাম) পেলাম। কাজেই আমরা আমাদের আবাস্থলে ফিরে এলাম। কিছুক্ষণ পর উমর রা. আমাকে পাঠালেন এবং বললেন, যাও গিয়ে দেখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগেছেন কিনা? আমি এসে তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম এবং তাঁর কাছে বায়আত করলাম। তারপর উমর রা. এর কাছে এসে তাকে খবর দিলাম যে, তিনি জেগে গেছেন। তখন আমরা তাঁর নিকট গেলাম দ্রুতবেগে। তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করে বায়আত করলেন। তারপর আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাতে (দ্বিতীয়বার উমর রা.) বায়আত করলাম।
হাদীস নং ৩৬৩৫
আহমদ ইবনে উসমান রহ………..আবু ইসহাক রহ. বলেন আমি বারা রা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু বকর রা. আমার পিতা আযিব রা.-এর নিকট হাওদা খরীদ করলেন। আমি আবু বকরের সাথে খরীদ হাওদাটি বহন করে নিয়ে চললাম। তখন আমার পিতা আযিব রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহিত তাঁর হিজরতের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আবু বকর রা. বললেন, আমাদের অনুসন্ধান করার জন্য মুশরিকরা লোক নিয়োগ করেছিল। অবশেষে আমরা রাত্রিকালে বেরিয়ে পড়লাম এবং একরাত ও একদিন অবিরাম চলতে থাকলাম। যখন দুপুর হয়ে গেল, তখন একটি বিরাট পাথর নযরে পড়ল। আমরা সেটির কাছে এলাম, পাথরটির কিছু ছায়া পড়ছিল। আমি সেখানে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আমার সঙ্গের চামড়াখানি বিছিয়ে দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর শুয়ে পড়লেন। আমি এদিক-ওদিক পর্যবেক্ষণ করার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ এক বকরী রাখালকে দেখতে পেলাম। সে তার বকরীগুলো নিয়ে আসছে। সেও আমাদের মত পাথরের (ছায়ায়) আশ্রয় নিতে চায়। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কার গোলাম? সে বলল, আমি অমুকের। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার বকরীর পালে দুধ আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তুমি কি (আমাদের জন্য) কিছু দোহন করে দিবে? সে বলল, হ্যাঁ। সে তার পাল থকে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল।আমি বললাম, বকরীর স্তন দুটি ঝেড়ে মুছে সাফ করে নাও। সে এক পাত্র ভর্তি দুধ দোহন করল। আমার সাথে একটি পানির পাত্র ছিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কাপড় দিয়ে তার মুখ বেঁধে ছিলাম। আমি তা থেকে দুধের মধ্যে কিছু পানি ঢেলে দিলাম। ফলে পাত্রের তলা পর্যন্ত শীতল হয়ে গেল। আম তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললাম, পান করুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতখানি পান করলেন যে, আমি সন্তুষ্ট হলাম। এরপর আমরা রওয়ানা হলাম এবং অনুসন্ধানকারী আমাদের পিছনে ছিল। রাবা রা. বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর সঙ্গে তাঁর ঘর প্রবেশ করলাম। তখন দেখলাম তাঁর মেয়ে আয়েশা রা. বিছানায় শুয়ে আছেন। তাঁর জ্বর হয়েছে। তাঁর পিতা আবু বকর রা.-কে দেখলাম তিনি মেয়ের গালে চুমু খেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, মা তুমি কেমন আছ?
