হাদীস নং ৩৫৮৩
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..কায়েস রহ. বলেন, আমি সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল রা.-কে কুফার মসজিদে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, উমরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমার ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁর হাতে আমাকে বন্দী অবস্থায় দেখেছি। তোমরা উসমান রা.-এর সাথে যে ব্যবহার করলে এ কারণে যদি উহুদ পাহাড় দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে যায় তবে তা হওয়া সঙ্গতই হবে।
হাদীস নং ৩৫৮৪
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. যেদিন ইসলাম গ্রহণ করলেন ঐ দিন থেকে আমরা সর্বদা প্রভাব প্রতিপত্তির আসনে সমাসীন রয়েছি।
হাদীস নং ৩৫৮৫
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর পিতা উমর রা. (ইসলাম গ্রহণের পর,) একদিন নিজ গ্রহে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। যখন আবু আমর আস ইবনে ওয়াইল সাহমী তাঁর কাছে আসলেন তার গায়ে ছিল ধারিদার চাদর ও রেশমী জরির জামা। তিনি বানু সাহম গোত্রের লোক ছিলেন। জাহেলী যুগে তারা আমাদের হালীফ (বিপদ কালে সাহায্যের চুক্তি যাদের সাথে করা হয়) ছিল। আস উমর রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন আনার অবস্থা কেমন? উমর রা. উত্তর দিলেন। তোমার গোত্রের লোকজন ইসলাম গ্রহণ করার কারণে অচিরেই আমাকে হত্যা করবে। ইহা শুনে আস রা. বললেন, তোমাকে কোন কিছু করার শক্তি ও ক্ষমতা তাদের নেই। তার কথা শুনে উমর রা. বললেন, তোমার কথা শুনে আমি শঙ্কাহীন হলাম। আস বেরিয়ে পড়লেন এবং দেখতে পেলেন, মক্কা ভূমি লোকে লোকারণ্য। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা বলল, আমরা উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট যাচ্ছি, যে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে বিধর্মী হয়ে গেছে। আস বললেন, তার নিকট যাওয়া, তাকে কোন কিছু করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। এতে লোকজন ফিরে গেল।
হাদীস নং ৩৫৮৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, যখন উমর রা. ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন লোকেরা তাঁর গ্রহের পাশে সমবেত হল এবং বলতে লাগল, উমর স্বধর্ম ত্যাগ করেছে। আমি তখন ছোট বালক। আমাদের ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখতে ছিলাম। তখন একজন লোক এসে বলল, তার গায়ে রেশমী জুব্বা ছিল, উমর স্বধর্ম ত্যাগ করেছে, (তাতে কার কিছু হল?) তবে এ সমাবেশ কিসের আমি তাকে আশ্রয় দিচ্ছি। ইবনে উমর রা. বলেন, তখন আমি দেখলাম, লোকজন চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে গেল। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কে? লোকেরা বলল, ইনি আস ইবনে ওয়াইল।
হাদীস নং ৩৫৮৭
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখনই উমর রা. কে কোন ব্যপারে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমার ধারণা হয় ব্যাপারটি হবে, তাকে তার ধারণা মত ব্যাপারটি সংঘটিত হয়েছে। একবার উমর রা. বসা ছিলেন, এমন সময় একজন সুদর্শন ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। উমর রা. বললেন, আমার ধারণা ভুলও হতে পারে তবে আমার মনে হয় লোকটি জাহিলী ধর্মাবলম্বী অথবা ভবিষ্যৎ গণনাকারীও হতে পারে। লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এস। তাকে তাঁর কাছে ডেকে আনা হল। উমর রা. তার ধারণার কথা তাকে শোনালেন। তখন সে বলল, একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে বলা হল যা আজকার মত আর কোন দিন দেখেনি। উমর রা. বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি আমাকে তোমার ব্যাপারটা খুলে বল। সে বলল, জাহিলী যুগে আমি তাদের ভবিষ্যৎ গণনাকারী ছিলাম। উমর রা. বললেন, জ্বিনেরা তোমাকে যে সব কথাবার্তা বলেছে, তন্মধ্যে কোন কথাটি তোমার নিকট সর্বাধিক বিস্ময়কর ছিল। সে বলল, আমি একদিন বাজারে অবস্থান করছিলাম। তখন একটি মহিলা জ্বিন আমার নিকট আসল। আমি তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখতে পেলাম। তখন সে বলল, তুমি কি জ্বিন জাতির অবস্থা দেখছনা, তারা কেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে? তাদের মধ্যে হতাশা ও বিমুখ হওয়ার চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা ক্রমশ: উট ওয়ালাদের এবং চাদর জুব্বা পরিধানকারীদের (আরববাসী) অনুগত হয়ে পড়ছে। উমর রা. বললেন, সে সত্য কথা বলেছে। আমি একদিন তাদের দেবতাদের কাছে ঘুমন্ত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি একটি গরুর বাছুর নিয়ে হাযির হল এবং সেটা যবাই করে দিল। ঐ সময় এক ব্যক্তি এমন বিকট চীৎকার করে উঠল, যা আমি আর কখনও শুনিনি। সে চীৎকার করে বলছিল, হে জলীহ! একটি স্বাভাবিক কল্যাণময় ব্যাপারে অচিরেই প্রকাশ লাভ করবে। তা হল- একজন বিশুদ্ধভাষী লোক বলবেনা; لآ إله إلا أنت (এ ঘোষণা শুনে উপস্থিত) লোকজন ছুটাছুটি করে পলায়ন করল। আমি বললাম, এ ঘোষণার রহস্য উদঘটন অবশ্যই করব। তারপর আবার ঘোষণা দেওয়া হল। হে জলীহ ! একটি স্বাভাবিক ও কল্যাণময় ব্যাপার অতি সত্বর প্রকাশ পাবে। তাহল একজন বাগ্মী ব্যক্তি لآ إله الله এর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিবে। তারপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। এর কিছুদিন পরেই বলা হল যে, তিনিই নবী।
হাদীস নং ৩৫৮৮
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ…………কায়েস রহ. বলেন, আমি সাঈদ ইবন যায়েদ রা.-কে তাঁর কওমকে লক্ষ্য করে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমি দেখেছি উমর রা. আমাকে এবং তার বোন ফাতিমাকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে বেঁধে রেখেছেন। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। তোমরা উসমান রা.-এর সাথে যে অসদাচরণ করেছ তার কারণে যদি উহুদ ভেঙ্গে পড়ে তবে যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
