হাদীস নং ৩৩৪২
আবু নুআইম রহ……….উসামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মদীনায় একটি উচু টিলায় আরোহণ করলেন, তারপর (সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে) বললেন, আমি যা দেখছি, তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? আমি দেখছি বারি ধারার ন্যায় ফাসাদ ঢুকে পড়ছে তোমাদের ঘরে ঘরে।
হাদীস নং ৩৩৪৩
আবুল ইয়ামান রহ……….যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে পড়তে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন, এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গিয়েছে, এ কথা বলে দুটি আঙ্গুল গোলাকৃতি করে দেখালেন। যায়নাব রা. বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব, অথচ আমাদের মাঝে অনেক নেক লোক রয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হ্যাঁ, যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে। অন্য একটি বর্ণনায় উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন এবং বলতে লাগলেন, সুবহানাল্লাহ, আজ কি অফুরন্ত ধনভাণ্ডার অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তারই সাথে অগণিত ফিতনা-ফাসাদ নাযিল করা হয়েছে।
হাদীস নং ৩৩৪৪
আবু নুআইম রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সাসাআতকে বললেন, তোমাকে দেখছি তুমি বকরীকে অত্যন্ত পছন্দ করে এদেরকে সর্বদা লালান-পালন কর, তাই তোমাকে বলছি, তুমি এদের যত্ন কর এবং রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা কর। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এমন এক যামানা আসবে, যখন বকরীই হবে মুসলমানদের সর্বোত্তম সম্পদ ইহাকে নিয়ে পর্বত শিখরে বারি বর্ষণের স্থানে চলে যাবে এবং রক্ষা করবে তাদের দীনকে ফিতনা ফাসাদ থেকে।
হাদীস নং ৩৩৪৫
আবদুল আযীয ওয়াইসী রহ…………আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই অসংখ্য সর্বগ্রাসী ফিতনা ফাসাদ আসতে থাকবে। ঐ সময় বসা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ) দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি হতে অধিক রক্ষিত আর চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোন ব্যক্তি তার দীন রক্ষার জন্য কোন ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তবে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত হবে। ইবনে শিহাব যুহরী রহ………নাওফাল ইবনে মুআবিয়া রা. হতে আবু হুরায়রা রা.-এর হাদীসের অনুরূপই বর্ণনা করেছেন। তবে অতিরিক্ত আর একটি কথাও বর্ণনা করেছেন যে, এমন একটি সালাত রয়েছে (আসর) যে ব্যক্তির ঐ সালাত কাযা হয়ে গেল, তার পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল।
হাদীস নং ৩৩৪৬
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..ইবনে মাসউদ রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অচিরেই স্বজনপ্রীতি প্রকাশ পাবে এবং এমন সব কর্মকাণ্ড ঘটবে যা তোমরা পছন্দ করতে পারবে না। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! এমতাবস্থায় আমাদের কী করতে বলেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন কর তোমাদের প্রাপ্যের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ কর।
হাদীস নং ৩৩৪৭
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরাইশ গোতের এ লোকগুলো জনগণকে ধ্বংস করে দিবে। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, তখন আমাদেরকে আপনি কী করতে বলেন ? তিনি বললেন, জনগণ যদি এদের সংশ্রব ত্যাগ করে দিত তবে ভাল্ই হত।
হাদীস নং ৩৩৪৮
ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ………….হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন আর আমি তাকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম; এ আশংকায় যেন আমি ঐ সবের মধ্যে নিপতিত না হই। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা জহেলিয়্যাতে অকল্যাণকর পরিস্থিতিতে জীবন যাপন করতাম এরপর আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ দান করেছেন। এ কল্যাণকর অবস্থার পর কোন প্রকার অমঙ্গলের আশংকা আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। আমি আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ঐ অমঙ্গলের পর কোন কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। তবে তা মন্দ মিশ্রিত। আমি বললাম, যে মন্দ মিশ্রিত কি? তিনি বললেন, এমন একদল লোক যারা আমার আদর্শ ত্যাগ করে অন্যপথে পরিচালিত হবে। তাদের কাজে ভাল-মন্দ সবই থাকবে। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এরপর কি আরো অমঙ্গল আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ তখন জাহান্নামের দিকে আহবানকারীদের আগমন ঘটবে। যারা তাদের ডাকে সারা দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ভূক্ত এবং কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়। আমি বললাম, আমি যদি এ অবস্থায় পতিত হই তবে আপনি আমাকে কি করতে আদেশ দেন? তিনি বললেন, মুসলমানদের (বৃহৎ) দল ও তাদের ইমামকে আকড়িয়ে ধরবে। আমি বললাম, যাদ মুসলমানদের এহেন দল ও ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, তখন তুমি তাদের সকল দল উপদলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং মৃত্যু না আসা পর্যন্ত বৃক্ষ মূল দাঁতে আকড়িয়ে ধরে থাকবে এবং তোমার দীনকে রক্ষা করবে।
