হাদীস নং ৩৩৩০
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) খেজুরের একটি কাণ্ডের সাথে (হেলান দিয়ে) খুতবা প্রদান করতেন। যখন মিম্বর তৈরী করে দেয়া হল। তখন তিনি মিম্বরে উঠে খুতবা দিতে লাগলেন। কাণ্ডটি তখন (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরহে) কাঁদাতে শুরু করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাণ্ডটির নিকটে গিয়ে হাত বুলাতে লাগলেন। (তখন স্তম্ভটি শান্ত হল) উপরোক্ত হাদীসটি আবদুল হামীদ ও আবু আসিম রহ……ইবনে উমর রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৩৩১
আবু নুআইম রহ……….জারিব ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বৃক্ষের উপর কিংবা একটি খেজুর বৃক্ষের কাণ্ডের উপর (হেলান দিয়ে) শুক্রবারে খুতবা প্রদানের জন্য দাঁড়াতেন। এমতাবস্থায় একজন আনসারী মহিলা অথবা একজন পুরুষ বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার জন্য একটি মিম্বর তৈরী করে দেব কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের ইচ্ছে হলে দিতে পার। অতঃপর তারা একটি কাঠের মিম্বর তৈরী করে দিলেন। যখন শুক্রবার এল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আসন গ্রহণ করলেন, তখন কাণ্ডটি শিশুর ন্যায় চীৎকার করে কাঁদতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর হতে নেমে এসে উহাকে জড়িয়ে ধরলেন। কিন্তু কাণ্ডটি (আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে) শিশুর মত আরো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। রাবী বলেন, কাণ্ডটি এজন্য কাঁদছিল যেহেতু সে খুতবা কালে অনেক যিকর শুনতে পেত।
হাদীস নং ৩৩৩২
ইসমাঈল রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, প্রথম দিকে খেজুরের কয়েকটি কাণ্ডের উপর মসজিদে নববীর ছাদ করা হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই খুতবা প্রদানের ইচ্ছা করতেন, তখন একটি কাণ্ডে হেলান দিয়ে দাঁড়াতেন। অতঃপর তাঁর জন্য মিম্বর তৈরী করে দেওয়া হলে তিনি সেই মিম্বরে উঠে দাঁড়াতেন। ঐ সময় আমরা কাণ্ডটির ভিতর থেকে দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীর স্বরের ন্যায় কান্নার আওয়াজ শুনলাম। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকটে এসে তাকে হাত বুলিয়ে সোহাগ করলেন। তারপর কাণ্ডটি শান্ত হল।
হাদীস নং ৩৩৩৩
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ. ও বিশর ইবনে খালিদ রহ………..উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফিতনা সম্পর্কীয় হাদীস স্মরণ রেখেছ? যেমনভাবে তিনি বর্ণনা করেছেন। হুযায়ফা রা. বললেন, আমিই সর্বাধিক স্মরণ রেখেছি। উমর রা. বললেন, বর্ণনা কর, তুমি তো, অত্যন্ত সাহসী ব্যক্তি। হুযায়ফা রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ এবং প্রতিবেশী দ্বারা সৃষ্ট ফিতনা-ফাসাদের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে সালাত, সাদকা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রদানের দ্বারা। উমর রা. বললেন, আমি এ জাতীয় ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি বরং উদ্বেলিত সাগর তরঙ্গের ন্যায় ভীষণ আঘাত হানে ঐ জাতীয় ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। হুযায়ফা রা. বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন ! এ জাতীয় ফিতনা সম্পর্কে আপনার শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। আপনার এবং এ জাতীয় ফিতনার মধ্যে একটি সুদৃঢ় কপাট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেন, এ কপাটটি কি (সাধারণ নিয়মে) খোলা হবে, না ভেঙ্গে ফেলা হবে। হুযায়ফা রা. বলেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর রা. বললেন, তাহলে এ কপাটটি আর সহজে বন্ধ করা যাবে না। আমরা (সাহাবীগণ) হুযায়ফাকে জিজ্ঞাসা করলাম, উমর রা. কি জানতেন ঐ কপাট দ্বারা কাকে বুঝানো হয়েছে ? তিনি বললেন, অবশ্যই যেমন নিশ্চিতভাবে জানতেন আগামী দিনের পূর্বে অদ্য রাতের আগমন অনিবার্য। আমি তাতে এমন একটি হাদীস শুনিয়েছি, যাতে ভুল-ভ্রান্তির অবকাশ নেই। আমরা হুযায়ফাকে ভয়ে জিজ্ঞাসা করতে সাহস পাইনি, তাই মাসরূককে বললাম, (তুমি জিজ্ঞাসা কর) মাসরূক রহ. জিজ্ঞাসা করলেন ঐ বন্ধ কপাট দ্বার উদ্দেশ্য কে ? হুযায়ফা রা. বললেন, উমর রা. স্বয়ং।
হাদীস নং ৩৩৩৪
আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না ততক্ষণ, যতক্ষণ না তোমাদের যুদ্ধ হবে এক জাতির সঙ্গে যাদের পায়ের জুতা হবে পশমের এবং যতক্ষণ না তোমাদের যুদ্ধ হবে তুর্কিদের সহিত যাদের চক্ষু ক্ষুদ্রাকৃতি, নাক চেপ্টা, চেহারা লাল বর্ণ যেন তাদের চেহারা পেটানো ঢাল। তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম মানুষ খনির ন্যায় (এতে ভাল মন্দ সবই আছে) যারা জাহিলিয়্যাতের যুগে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম ইসলাম গ্রহণের পরও তারা শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। তোমাদের নিকট এমন যুগ আসবে যখন তোমাদের পরিবার-পরিজনরা, ধন-সম্পদের অধিকারী হওয়ার চাইতেও আমার সাক্ষাত লাভ তার কাছে অত্যন্ত প্রিয় মনে হবে।
হাদীস নং ৩৩৩৫
