YUSUFALI: And be steadfast in prayer and regular in charity: And whatever good ye send forth for your souls before you, ye shall find it with Allah: for Allah sees Well all that ye do.
PICKTHAL: Establish worship, and pay the poor-due; and whatever of good ye send before (you) for your souls, ye will find it with Allah. Lo! Allah is Seer of what ye do.
SHAKIR: And keep up prayer and pay the poor-rate and whatever good you send before for yourselves, you shall find it with Allah; surely Allah sees what you do.
KHALIFA: You shall observe the Contact Prayers (Salat) and give the obligatory charity (Zakat). Any good you send forth on behalf of your souls, you will find it at GOD. GOD is seer of everything you do.
১১০। তোমরা সালাতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক এবং যাকাত দাও। [তোমাদের মৃত্যুর] পূর্বে যা কিছু তোমরা তোমাদের আত্মার [কল্যাণের] জন্য প্রেরণ করবে, আল্লাহ্র নিকট তা [ফেরৎ] পাবে। তোমরা যা কর আল্লাহ্ সব ভালভাবে জানেন ১১৩।
১১৩। [২:৯৫] আয়াতে এবং টিকা ১০০ তে দ্রষ্টব্য।
আয়াতঃ 002.111
ওরা বলে, ইহুদী অথবা খ্রীস্টান ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না। এটা ওদের মনের বাসনা। বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে, প্রমাণ উপস্থিত কর।
And they say, ”None shall enter Paradise unless he be a Jew or a Christian.” These are their own desires. Say (O Muhammad Peace be upon him ), ”Produce your proof if you are truthful.”
وَقَالُواْ لَن يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلاَّ مَن كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُواْ بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
Waqaloo lan yadkhula aljannata illa man kana hoodan aw nasara tilka amaniyyuhum qul hatoo burhanakum in kuntum sadiqeena
YUSUFALI: And they say: “None shall enter Paradise unless he be a Jew or a Christian.” Those are their (vain) desires. Say: “Produce your proof if ye are truthful.”
PICKTHAL: And they say: None entereth paradise unless he be a Jew or a Christian. These are their own desires. Say: Bring your proof (of what ye state) if ye are truthful.
SHAKIR: And they say: None shall enter the garden (or paradise) except he who is a Jew or a Christian. These are their vain desires. Say: Bring your proof if you are truthful.
KHALIFA: Some have said, “No one will enter Paradise except Jews or Christians!” Such is their wishful thinking. Say, “Show us your proof, if you are right.”
১১১। এবং তারা বলে, ‘ইহুদী অথবা খৃষ্টান ব্যতীত আর কেউ বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না”। এটা তাদের [মিথ্যা] আশা। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে প্রমাণ দাও।’
১১২। পক্ষান্তরে, যে কেউ পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পন করে ১১৪, এবং ভালো কাজ করে, সে এর পুরষ্কার তার প্রভুর নিকট পাবে; তাদের কোন ভয় নাই, তারা দুঃখিতও হবে না; ১১৫।
১১৪। এখানে ‘ওয়াজহা’ আরবী শব্দটির অর্থ হচ্চে মুখমণ্ডল। কিন্তু তর্জমা করা হয়েছে ‘আত্ম’ কথাটির দ্বারা। এখানে আল্লাহ্ বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বীয় মাথা আল্লাহ্র দিকে নত করে দেয় অর্থাৎ আত্মসমর্পন করে বা বিশ্বাস ও কাজকর্মে আনুগত্য অবলম্বন করে এবং তৎসঙ্গে [শুধু বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠানই নয়, আন্তরিকভাবে] সৎ কর্ম করে, সে তার আনুগত্যের প্রতিদান প্রতিপালকের কাছে পাবে।
আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তায়ালা ইহুদী ও খৃষ্টানদের পারস্পরিক মত বিরোধ উল্লেখ করে তাদের নিবুর্দ্ধিতা ও মত বিরোধের কুফল বর্ণনা করেছেন। অতঃপর সত্য উদঘাটন করেছেন। এ ঘটনায় মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েত (পথ নির্দেশ) নিহিত আছে।
খৃষ্টান ও ইহুদী উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মের প্রকৃত সত্যকে উপক্ষো করে ধর্মের নাম ভিত্তিক জাতীয়তা গড়ে তুলেছিল। তারা প্রত্যেকেই স্ব-জাতিকে জান্নাত ও আল্লাহ্র প্রিয় পাত্র বলে দাবী করতো এবং তারা ব্যতীত জগতের সমস্ত জাতিকে জাহান্নামী ও পথভ্রষ্ট বলে বিশ্বাস করতো। আল্লাহ্ তায়ালা উভয় সম্প্রদায়কে তাদের মূর্খতা সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন যে, এরা উভয় সম্প্রদায়ই জান্নাতে যাওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে উদাসীন। তারা শুধু ধর্মের নামভিত্তিক জাতীয়তার অনুসরণ করে। বস্তুতঃ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম যে কোনও ধর্মেরই প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে দুটি বিষয়।
ক) বান্দা মনে প্রাণে নিজেকে আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে সমর্পন করবে। তাঁর আনুগত্যকেই স্বীয় মত ও পথ বলে মনে করবে। এ উদ্দেশ্যটি যে ধর্মে অর্জিত হয় তাই প্রকৃত ধর্ম। ধর্মের প্রকৃত স্বরূপকে পেছনে ফেলে ইহুদী অথবা খৃষ্টান অথবা ইসলাম জাতীয়তাবাদের ধ্বজা উত্তোলন করা ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচায়ক।
খ) দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে সৎকর্ম। পারলৌকিক মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের জন্য শুধু আনুগত্যের সংকল্পই যথেষ্ট নয় বরং সৎকর্মেরও প্রয়োজন। আল্লাহ্র কাছে ইহুদী, খৃষ্টান ও মুসলমানের কোনও মূল্য নাই। গ্রহণীয় বিষয় হচ্ছে ঈমান ও সৎকর্ম। সৎকর্ম কি? যে কাজ আল্লাহ্র সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয় তাই-ই সৎকর্ম। কুরআনের বহু স্থানে সমাজ ও জাতির মঙ্গলের জন্য কাজ করার নির্দেশ দান করা হয়েছে। এই জাতীয় কাজই হচ্ছে সৎকাজ।
যে কেউ উপরোক্ত মৌলিক বিষয়াদির মধ্য থেকে যে কোনও একটি ছেড়ে দেয়, অতঃপর শুধুমাত্র নাম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে নিজেকে জান্নাতের ইজারাদার মনে করে নেয়; সে আত্মপ্রবঞ্চনা বৈ আর কিছুই করে না। আসল সত্যের সাথে এর কোনও সম্পর্ক নাই। এসব নামের উপর ভরসা করে কেউ আল্লাহ্র নিকটবর্তী ও মকবুল হতে পারবে না। যে পর্যন্ত না তার মধ্যে ঈমান ও সৎ কর্ম থাকে। সুতরাং এ দাবী যেনো কেউ না করে যে আমরা পুরুষানুক্রমে মুসলমান। প্রত্যেক অফিস ও রেজিস্টারে আমাদের নাম মুসলমানদের কোটায় লিপিবদ্ধ এবং আমরা মুখেও নিজেদের মুসলমান বলি, সুতরাং সকল পুরস্কারের যোগ্য হকদার আমরাই। তাহলে ইহুদী ও আমাদের মধ্যে পার্থক্য খুব কমই থাকবে। দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের অবনতি ও অস্থিরতার মূল কারণ আমাদের এখানেই খুঁজে দেখতে হবে। আমাদের ঈমান মৌখিক। এর সাথে আন্তরিকতার সম্পর্ক কম। অর্থাৎ আমরা আন্তরিকভাবে আল্লাহ্র হুকুম মান্য করি না। যেমন-আমরা মিথ্যার বেসাতি করি, মানুষকে ঠকাতে দ্বিধাবোধ করি না, অন্যায়-অবিচার, অসত্য আজ আমাদের জীবনের সামাজিক ব্যাধি। অন্যায় আইন আজ আমরা সমাজ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বীকার করে চলছি। এগুলি হচ্ছে আল্লাহ্র আইন অমান্য করা। আল্লাহ্র আইনকে অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে, মৌখিকভাবে নিজেকে মুসলমান দাবী করলেও অন্তরে আল্লাহ্কে অস্বীকার করা। সে নিজের প্রতি নিজে বিশ্বস্ত নয় এটা মুনাফিকীরই নামান্তর।
