৮২। কিন্তু যাদের আছে ঈমান এবং যারা সৎকাজ করে, তারা হবে [বেহেশতের] বাগানের অধিবাসী। সেখানে তারা [চিরদিন] থাকবে।
রুকু – ১০
৮৩। এবং স্মরণ কর, আমি বনী ইসরাঈলীদের নিকট থেকে [এই মর্মে] অঙ্গীকার নিয়েছিলাম ৮৭ যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করবে না; পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং এতিম ও অভাবগ্রস্থের সাথে সদয় ব্যবহার করবে। মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবে। সালাতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যাকাত দেয়ার অভ্যাস গঠন করবে। অতঃপর তোমাদের মাঝে স্বল্প সংখ্যক ব্যতীত তোমরা [তা থেকে] মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এবং [এখন পর্যন্ত] তোমরা পতিত হয়ে আছ।
৮৭। উপরের আয়াতে বলা হচ্ছে যে সেই সব নির্দেশের কথা যা তাওরাতে আল্লাহ্ হযরত মুসাকে দিয়েছিলেন। আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, একত্ববাদে ঈমান, পিতা-মাতা, এতিম বালক-বালিকা ও দীন-দরিদ্রের সেবা যত্ন করা, সব মানুষের ভালর জন্য কথা বলা এবং যাকাত দেওয়া ইসলামী শরীয়তসহ পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহেও বিদ্যমান ছিল। অর্থাৎ এইসব নৈতিক অনুশাসন সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বজাতির জন্য প্রযোজ্য [Universal]। যদি কেউ আল্লাহ্র এই আইন অমান্য বা লঙ্ঘন করে, তবে আল্লাহ্র শাস্তি সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। কারও জন্য তা লাঘব করা হবে না। [২ : ৮৬]।
‘মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবে’ বা ‘Speak fair to the people’ কথাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। এর আবেদন অনেক গভীর। শুধুমাত্র বাহ্যিক ভালো ব্যবহার চরিত্রের নম্রতা প্রকাশ করে না। এর অর্থ অনেক গভীর, অনেক ব্যাপক। নিপীড়িত, বঞ্চিত ও শোষিত এদের সাথে শুধু ভাল ব্যবহারই যথেষ্ট নয়, এদের অধিকারের জন্য কথা বলা, দুঃখীর সান্তনার জন্য কথা বলা, দুঃখ মোচনের জন্য কাজ করা, সত্য গোপন না করে সত্যর জন্য কথা বলা, এ সবই এই আয়াতটির দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ যেখানেই মানুষের প্রতি অন্যায় অবিচার হতে দেখা যাবে সেখানেই আল্লাহ্ নির্দেশ অনুযায়ী তার পাশে দাঁড়াতে হবে, তার হয়ে কথা বলতে হবে।
আয়াতঃ 002.084
যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।
And (remember) when We took your covenant (saying): Shed not the blood of your people, nor turn out your own people from their dwellings. Then, (this) you ratified and (to this) you bear witness.
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لاَ تَسْفِكُونَ دِمَاءكُمْ وَلاَ تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ
Wa-ith akhathna meethaqakum la tasfikoona dimaakum wala tukhrijoona anfusakum min diyarikum thumma aqrartum waantum tashhadoona
YUSUFALI: And remember We took your covenant (to this effect): Shed no blood amongst you, nor turn out your own people from your homes: and this ye solemnly ratified, and to this ye can bear witness.
PICKTHAL: And when We made with you a covenant (saying): Shed not the blood of your people nor turn (a party of) your people out of your dwellings. Then ye ratified (Our covenant) and ye were witnesses (thereto).
SHAKIR: And when We made a covenant with you: You shall not shed your blood and you shall not turn your people out of your cities; then you gave a promise while you witnessed.
KHALIFA: We made a covenant with you, that you shall not shed your blood, nor shall you evict each other from your homes. You agreed and bore witness.
৮৪। এবং স্মরণ কর, আমি [এই মর্মে] তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, ৮৮ নিজেদের মধ্যে রক্তপাত ঘটাবে না, নিজ সম্প্রদায়কে দেশ ছাড়া করবে না। তোমরা তা শ্রদ্ধার সাথে অনুমোদন করেছিলে এবং এ বিষয়ে তোমরাই ছিলে সাক্ষী।
৮৮। [২ : ৮৩] আয়াতটি হচ্ছে সার্বজনীন। পূর্বের আয়াতে যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল [২:৮৪], আয়াতে তারই পরিশিষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। এই পরিশিষ্টে বলা হচ্ছে যে, মদিনায় হযরত মুহম্মদের (দঃ) নেতৃত্বে যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে, তাদের সাথে মদিনার ইহুদীরা চুক্তিতে আসে যার শর্তগুলি আয়াতে [২:৮৪] বর্ণিত হয়েছে। চুক্তিটি ইব্নে হিশামের সিরাত-উর-রসূল এবং আমীর আলীর স্পিরিট অফ ইসলাম গ্রন্থে [পৃষ্ঠা ৫৭-৬১ লন্ডন ১৯২২] বর্ণিত আছে। হিযরতের দ্বিতীয় বর্ষে মদিনায় ইহুদীরা বিশ্বাস ঘাতকতা করে এবং ঐ চুক্তি লঙ্ঘন করে। সে সম্পর্কে এখানে বলা হয়েছে।
আয়াতঃ 002.085
অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
After this, it is you who kill one another and drive out a party of you from their homes, assist (their enemies) against them, in sin and transgression. And if they come to you as captives, you ransom them, although their expulsion was forbidden to you. Then do you believe in a part of the Scripture and reject the rest? Then what is the recompense of those who do so among you, except disgrace in the life of this world, and on the Day of Resurrection they shall be consigned to the most grievous torment. And Allâh is not unaware of what you do.
