৬৯। ওল্ড টেস্টামেন্টের ভাষ্য অনুযায়, ‘Go in and out from gate to gate throughout the camp, and slay every man his brother, and every man his companion, and every man his neighbor………. and there fell of the people that day 3,000 men.’ আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে হয় হত্যা ছিল তাদের জন্য মহা পরীক্ষা। কিন্তু আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করে দিলেন। ‘আন্ফুসাকুম’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘আত্মা’, ‘ব্যক্তি’ নয়। সেদিক থেকে অর্থ করলে হযরত মুসার নির্দেশের অর্থ দাঁড়ায়, ‘গো-বৎস পূজার’ দ্বারা তোমরা তোমাদের আত্মাকে কলুষিত করেছ সুতরাং তোমাদের অপবিত্র আত্মাকে বিনাশ কর। আল্লাহ্র চোখে তা-ই হবে তোমাদের জন্য প্রযোজ্য।
আয়াতঃ 002.055
আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব। বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।
And (remember) when you said: ”O Mûsa (Moses)! We shall never believe in you till we see Allâh plainly.” But you were seized with a thunderbolt (lightning) while you were looking.
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ
Wa-ith qultum ya moosa lan nu/mina laka hatta nara Allaha jahratan faakhathatkumu alssaAAiqatu waantum tanthuroona
YUSUFALI: And remember ye said: “O Moses! We shall never believe in thee until we see Allah manifestly,” but ye were dazed with thunder and lighting even as ye looked on.
PICKTHAL: And when ye said: O Moses! We will not believe in thee till we see Allah plainly; and even while ye gazed the lightning seized you.
SHAKIR: And when you said: O Musa! we will not believe in you until we see Allah manifestly, so the punishment overtook you while you looked on.
KHALIFA: Recall that you said, “O Moses, we will not believe unless we see GOD, physically.” Consequently, the lightning struck you, as you looked.
৫৫। এবং স্মরণ কর, তোমরা বলেছিলে; ৭০ ‘হে মুসা! আমরা আল্লাহ্কে সুস্পষ্টরূপে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করবো না।’ কিন্তু তখন তোমরা বজ্রাহত হলে, যদিও তোমরা তাকিয়ে ছিলে।
৭০। হযরত মুসা (আঃ) তূর পর্বত থেকে তাওরাত নিয়ে এসে বনী ইসরাঈলের সামনে পেশ করে বললেন যে, এটা আল্লাহ্ প্রদত্ত কিতাব। তখন কিছু সংখ্যক উদ্ধত লোক বলল, যদি আল্লাহ্ স্বয়ং বলে দেন যে, এ কিতাব তাঁর প্রদত্ত তবে অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস এসে যাবে। মুসা (আঃ) আল্লাহ্র আদেশক্রমে তাদেরকে তূর পর্বতে যেতে বললেন। বনী ইসরাঈলীরা সত্তর জন লোককে মনোনীত করে হযরত মুসা (আঃ) এর সঙ্গে তূর পর্বতে পাঠাল। সেখানে পৌঁছে তারা আল্লাহ্র বাণী স্বয়ং শুনতে পেলো। তখন তারা নতুন ভান করে বলল, শুধু কথা শুনে তো তৃপ্তি হচ্ছেনা; আল্লাহ্ই জানেন এ কথা কে বলছে। যদি আল্লাহকে দেখতে পাই, তবে অবশ্যই মেনে নেবো। কিন্তু যেহেতু এ মরজগতে আল্লাহ্কে দেখার ক্ষমতা কারও নাই কাজেই এ ধৃষ্টতার জন্য তাদের উপর বজ্রপাত হল এবং সবাই ধ্বংস হয়ে গেলো।
আয়াতঃ 002.056
তারপর, মরে যাবার পর তোমাদিগকে আমি তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।
Then We raised you up after your death, so that you might be grateful.
ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
Thumma baAAathnakum min baAAdi mawtikum laAAallakum tashkuroona
YUSUFALI: Then We raised you up after your death: Ye had the chance to be grateful.
PICKTHAL: Then We revived you after your extinction, that ye might give thanks.
SHAKIR: Then We raised you up after your death that you may give thanks.
KHALIFA: We then revived you, after you had died, that you may be appreciative.
৫৬। তোমাদের মৃত্যুর পরে আমি তোমাদের পুনর্জীবিত করলাম; [ফলে] তোমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ ছিলো।
৫৭। আমি তোমাদের মেঘের ছায়া দিয়েছিলাম, এবং তোমাদের নিকট মান্না ৭১ ও কোয়েল প্রেরণ করেছিলাম এই বলে: ‘তোমাদের ভাল যা দান করেছি তা থেকে আহার কর।’ [কিন্তু তারা বিদ্রোহ করে]; তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারে নাই, বরং তারা তাদের নিজের আত্মার প্রতি ক্ষতি করেছে।
৭১। ইহুদীরা যে প্রান্তরে থাকতো তা ছিল উন্মুক্ত মরুভূমি প্রান্তর। এখানে কোনও লোকালয় বা গাছ ছিল না যার নীচে শীত-গরম বা সূর্যতাপ থেকে আশ্রয় নেয়া চলে। তেমনিভাবে এখানে পানাহারের উপকরণ বা পরিধানের বস্ত্রসামগ্রীও ছিল না। কিন্তু আল্লাহ্ হযরত মুসার দোয়ার বদৌলতে যাবতীয় প্রয়োজন মেটাবার বন্দোবস্ত করেন। মেঘ দ্বারা ছায়া দানের এবং ক্ষুধা পেলে ‘মান্না ও সালওয়া’ এর বন্দোবস্ত করেন। ‘মান্না’ কি? মান্নাকে বলা হয়েছে বরফের মত স্বচ্ছ, শ্রভ্র এক ধরণের মিষ্ট খাবার যা মাটিতে জমে থাকতো। এগুলিকে পরদিন পর্যন্ত রেখে দিলে পচে যেতো এবং সূর্যতাপে রাখলে গেল যেতো। প্রত্যেক লোকের জন্য প্রয়োজন ছিল এক ওমের (হিব্রু মাপ) যা ২ কোয়ার্টের সমান বর্তমানে সময়ে ‘মান্না’ বলতে যা বোঝায় তা হচ্চে ঝাউ জাতীয় একরকম চিরহরিৎ বৃক্ষের রস। এই রস মিষ্টি এবং আঠালো। এক রকমের পোকা যখন বৃক্ষকে ছিদ্র করে তখন এই রস নির্গত করে। ভারতে যেমন-লাক্ষা পোকা দ্বারা এক রকম বৃক্ষ থেকে লাক্ষা উৎপন্ন হয়।
