৩০২। আয়াত [২ : ২৫৮ – ২৬০] এই আয়াত তিনটি সম্পর্কে নানা রকম মতবাদ আছে। বিশেষ করে কে সেই ব্যক্তি যে হযরত ইব্রাহীমের সাথে তর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিলো ? কুরআন শরীফে যেহেতু তার নাম উল্লেখ করা হয় নাই, এবং আমাদের প্রিয় নবীও এ সম্বন্ধে কোনও বক্তব্য রাখেন নাই, সুতরাং এই ব্যক্তির নামের অনুসন্ধান করা বৃথা এবং এ সম্বন্ধে নিজস্ব কোনও অনুমান করাও উচিত নয়। গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক সময়ে অনুমান অত্যন্ত ফলপ্রসু হয়। কিন্তু কুরআন শরীফ এমন এক গ্রন্থ যার বক্তব্য, যার শিক্ষা, সার্বজনীন এবং যুগ কাল অতিক্রান্ত। সুতরাং এখানে সামান্য একটা নামের ব্যাপারে অনুমান করে কূটতর্কে জড়িয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ফলে কুরআনের যে মূল শিক্ষা বা যে উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখা হয়েছে তার থেকে আমরা বহু দূরে চলে যেতে পারি। কুরআনের সার্বজনীন ও বৃহত্তর রূপ হৃদয়ঙ্গম করার পরিবর্তে আমরা ক্ষুদ্র পরিবেশে কুটতর্কের ফলে আল্লাহ্র বাণীর মহিমা থেকে বঞ্চিত হব। এ যেনো সমুদ্র দর্শনের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ‘ডোবা’ দর্শন এবং এর মহিমা কীর্তন। উপরের আয়াত তিনটি [২ : ২৫৮, ২৫৯, ২৬০] যে কোনও পয়গম্বরের জীবনেই ঘটতে পারে, তবে আয়াত [২ : ২৫৮]-এ আল্লাহ্, নবী মুহম্মদ মুস্তফাকে (সাঃ) সম্বোধন করেছেন।
৩০৩। আয়াতের [২ : ২৫৮] লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মানুষের ক্ষমতার দম্ভ ও অহংকার আল্লাহ্র ক্ষমতার কাছে তুচ্ছ। যে ব্যক্তির সাথে হযরত ইব্রাহীমের তর্কবিতর্ক হচ্ছিল, সম্ভবতঃ তিনি ছিলেন বেবীলনের রাজা নমরুদ। মাওলানা ইউসুফ আলী এখানে নমরুদের উল্লেখ করেছেন এ জন্য যে হযরত ইব্রাহীমের আদি বাসস্থান ছিল বেবীলনে। সে সময়ে বেবীলন শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানে পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় ছিল। বিজ্ঞান পৃথিবীতে বহু আশ্চর্য্য ঘটনার জন্ম দিতে সক্ষম। একথা সে সময়ের বেবীলনের জন্যও প্রযোজ্য ছিল, বর্তমান সময়ের জন্যও প্রযোজ্য আছে। বিজ্ঞান যত কিছুই আবিষ্কার করুক না কেন জীবনের বা প্রাণের রহস্য আজও তার কাছে অজানা। এই রহস্য সে সময়েও বিজ্ঞানীদের হতবুদ্ধি করতো, আজ এত বছর পরেও বিজ্ঞানীদের প্রাণের রহস্য সেই একইভাবে বিস্মিত ও হতবুদ্ধি করে। আজকের যুগে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাহায্যে মানুষ সৃষ্টির কলা-কৌশল উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইব্রাহীমের (আঃ) পরে কত যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে। বিজ্ঞানের জ্ঞান কত সমৃদ্ধ হয়েছে, তবুও নিউটনের মত বলতে হয়, “আমরা জ্ঞান সমুদ্রের তীরে নুড়ি কুড়াচ্ছি।” অসীম জ্ঞানের আঁধার একমাত্র সর্বশক্তিমান। যখন লোকে অহংকারে স্ফীত হয়ে দম্ভ প্রকাশ করে তখন সে এই সত্যকে ভুলে যায় বা দেখতে অপারগ হয়। নিজেকে সে স্রষ্টার সমকক্ষ মনে করে। আজকের যুগেও আমরা এসব লোকের সন্ধান পাই যারা বিজ্ঞান পড়ে আল্লাহ্র অস্তিত্ব অস্বীকার করে। তাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানের দম্ভে ভুলে যায় যে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাকৃতিক বিধান বা বিজ্ঞান সবই আল্লাহ্র অসীম জ্ঞানের সামান্য অংশ মাত্র। নৃপতি বা রাজা এবং বিজ্ঞানী এরা উভয়েই সাধারণ মানুষের তুলনায় ক্ষমতাধর সন্দেহ নাই। কিন্তু আল্লাহ্র তুলনায় তা অত্যন্ত সীমিত। হযরত ইব্রাহীম নমরুদকে সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে, যদি সে আল্লাহ্র মতই ক্ষমতাধর হয়, তবে সূর্যকে বলুক পশ্চিম দিক থেকে উঠতে।
আয়াতঃ 002.259
তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
Or like the one who passed by a town and it had tumbled over its roofs. He said: ”Oh! How will Allâh ever bring it to life after its death?” So Allâh caused him to die for a hundred years, then raised him up (again). He said: ”How long did you remain (dead)?” He (the man) said: ”(Perhaps) I remained (dead) a day or part of a day”. He said: ”Nay, you have remained (dead) for a hundred years, look at your food and your drink, they show no change; and look at your donkey! And thus We have made of you a sign for the people. Look at the bones, how We bring them together and clothe them with flesh”. When this was clearly shown to him, he said, ”I know (now) that Allâh is Able to do all things.”
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىَ يُحْيِـي هَـَذِهِ اللّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللّهُ مِئَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِئَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ وَانظُرْ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِّلنَّاسِ وَانظُرْ إِلَى العِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
Aw kaallathee marra AAala qaryatin wahiya khawiyatun AAala AAurooshiha qala anna yuhyee hathihi Allahu baAAda mawtiha faamatahu Allahu mi-ata AAamin thumma baAAathahu qala kam labithta qala labithtu yawman aw baAAda yawmin qala bal labithta mi-ata AAamin faonthur ila taAAamika washarabika lam yatasannah waonthur ila himarika walinajAAalaka ayatan lilnnasi waonthur ila alAAithami kayfa nunshizuha thumma naksooha lahman falamma tabayyana lahu qala aAAlamu anna Allaha AAala kulli shay-in qadeerun
