[উপদেশঃ এই আয়াতের কাহিনীর মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাদের অনেকগুলি নৈতিক উপদেশ দিচ্ছেন। এর প্রধান উপদেশ হচ্ছে, যদি আমরা আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব এবং সংহতি রক্ষা করতে চাই, যদি আমরা আমাদের ধর্মকে নিরাপদ করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে সাহস, দৃঢ়তা এবং আল্লাহ্র প্রতি ঐকান্তিক বিশ্বাসের সাথে শত্রুর মোকাবেলা করা। অন্যান্য যে সব উপদেশের কথা বলা হচ্ছে, তা হলো :
(১) যুদ্ধক্ষেত্রে বিপক্ষদলের সৈন্য সংখ্যা বা অস্ত্র সজ্জার আধিক্যই শেষ কথা নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে নৈতিক মনোবল, বিশ্বাস, দৃঢ়তা এবং সর্বোপরি আল্লাহ্র উপরে আস্থা স্থাপন।
(২) যুদ্ধক্ষেত্রে নৈতিক মনোবলই প্রধান অস্ত্র। শত্রুপক্ষের সমরসজ্জা বা আয়তন দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আর এই নৈতিক মনোবল তখনই পাওয়া যায় যখন অস্ত্র ধারণ করা যায় অন্যায়, অসত্যের বিরুদ্ধে। সত্যের জন্য যুদ্ধ করার নৈতিকতা, সাহস এবং বিচক্ষণতার সাথে পরিকল্পনা করা [যেমন করেছিলেন দাউদ]।
(৩) বীর যোদ্ধা সব সময়ে নিজের শক্তি ও অস্ত্রের উপরে ভরসা রাখে, যেখানে যা সহজলভ্য তা-ই তার অস্ত্র হতে পারে [যেমন দাউদ ব্যবহার করেছিলেন নুড়ি পাথর]। আজকের পৃথিবীতে যে গেরিলা যুদ্ধ হচ্ছে তারা এই পথই অবলম্বন করে। পরিবেশকে তারা শত্রুনিধনের কাজে লাগায়।
(৪) যদি আল্লাহ্র রহমত আমরা পেতে পারি তবে শত্রুর অস্ত্র বুমেরাং এর মত তার নিজেরই ধ্বংসের কারণ হবে [জালুতকে, জালুতের তরবারী দ্বারা হত্যা করা হয়]।
(৫) নেতার ব্যক্তিত্ব, অধীনস্তদের দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং শত্রুপক্ষের অন্তরে ত্রাসের সঞ্চার করে [যেমন দাউদের বীরত্ব বিপক্ষ দলের মনে ত্রাস এবং ইহুহীদের শত্রুদের ছত্রভঙ্গ করতে উৎসাহিত করে।]
(৬) বিশুদ্ধ ঈমান আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কারণ, আল্লাহ্র রহমতের কারণ। এই রহমত বান্দার জীবনে বিভিন্নভাবে প্রবাহিত হতে পারে। যেমন – দাউদের ক্ষেত্রে আল্লাহ্র পুরস্কার বা রহমত ছিল; ক্ষমতা, জ্ঞান এবং আরও অন্যান্য চারিত্রিক গুণাবলী। [নীচের টিকা দেখুন।]
২৮৭। মেষপালক দাউদকে আল্লাহ্ যেসব গুণাবলীতে ভূষিত করেছিলেন সেগুলি হচ্ছে, বড় যোদ্ধা, রাজা, জ্ঞানী ব্যক্তি, পয়গম্বর ইত্যাদি। এ ব্যতীত দাউদ নবীকে আল্লাহ্ আর যে নেয়ামতে ধন্য করেছিলেন তা হচ্ছে তার কাব্য প্রতিভা ও সঙ্গীতে অসাধারণ দক্ষতা। অর্থাৎ একাধারে কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ।
[উপদেশঃ ব্যক্তির চরিত্রের গুণাবলী বা Talent-ই হচ্ছে আল্লাহ্র সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত বা পুরস্কার।
২৮৮। আল্লাহ্র অস্তিত্ব বিশ্বব্রহ্মান্ড ব্যাপী। তিনি সর্বত্র বিদ্যমান। তিনি তার সৃষ্টিকে ভালোবাসেন, করুণা করেন, রক্ষা করেন [১ : ২] এবং পালন করেন। পৃথিবীর জীবনযাত্রায় আমরা দেখি প্রকৃতিতে শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে (Peace harmony) এক অপূর্ব সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। প্রাণীকূলের দিকে দৃষ্টি ফেরালে দেখি কেউ শক্তিশালী কেউ দুর্বল। কিন্তু প্রকৃতিতে আল্লাহ এমন বিধিবদ্ধ আইন করে দিয়েছেন যে, সবল ও দুর্বল সেই সৃষ্টির আদি থেকে শান্তি ও শৃঙ্খলার মধ্যে সমন্বয় করে বেঁচে আছে। তা না হলে দুর্বল পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো। মানুষের বেলাতেও আল্লাহ্ একদল দ্বারা অন্য দলের ক্ষমতাকে সীমিত করেন, কারণ তাঁর সৃষ্টিতে সমতা রক্ষা করার জন্য এর প্রয়োজন আছে। বিশ্বব্যাপী আল্লাহ্র পরিকল্পনা বোঝার বা হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা আমাদের মত ক্ষুদ্র মানুষের নাই। তার জ্ঞান এবং পরিকল্পনা স্থান, কাল ও সময়ের উর্ধ্বে। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হচ্ছে সর্বশক্তিশানের প্রতি অটল বিশ্বাস রাখা যে, তিনি আমাদের ভালোবাসেন এবং তার নেয়ামত সীমাহীন এবং তিনি আমাদের মঙ্গলাকাঙ্খী।
আয়াতঃ 002.252
এগুলো হলো আল্লাহর নিদর্শন, যা আমরা তোমাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে থাকি। আর আপনি নিশ্চিতই আমার রসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।
These are the Verses of Allâh, We recite them to you (O Muhammad SAW) in truth, and surely, you are one of the Messengers (of Allâh).
تِلْكَ آيَاتُ اللّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
Tilka ayatu Allahi natlooha AAalayka bialhaqqi wa-innaka lamina almursaleena
YUSUFALI: These are the Signs of Allah: we rehearse them to thee in truth: verily Thou art one of the messengers.
PICKTHAL: These are the portents of Allah which We recite unto thee (Muhammad) with truth, and lo! thou art of the number of (Our) messengers;
SHAKIR: These are the communications of Allah: We recite them to you with truth; and most surely you are (one) of the messengers.
KHALIFA: These are GOD’s revelations. We recite them through you, truthfully, for you are one of the messengers.
২৫২। এ সকল আল্লাহ্র আয়াত; আমি তোমার নিকট তা যথাযথভাবে আবৃত্তি করছি। অবশ্যই তুমি রাসূলদের একজন।
তৃতীয় পারা
২৫৩। এই রাসূলদের মধ্যে, কতককে অপর সকলের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি ২৮৯। তাদের একজনের সাথে আল্লাহ্ কথা বলেছেন, ২৯০; অন্যদের [মর্যাদায়] উন্নীত করেছেন ২৯১। মরিয়ম পুত্র ঈসাকে আমি সুস্পষ্ট [নিদর্শন] দিয়েছিলাম এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা তাঁকে শক্তিশালী করেছিলাম ২৯২। আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করতেন তবে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের নিকট স্পষ্ট [প্রমাণ] আসার পরও পারস্পরিক যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা বিবাদ বিতন্ডায় লিপ্ত হলো। ফলে তাদের কতক ঈমান আনলো, কতক প্রত্যাখ্যান করলো। আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করতেন তবে তারা পরস্পরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেন ২৯৩।
