রুকু – ৩৩
২৪৯। অতঃপর যখন তালূত সৈন্যবাহিনীসহ বের হলো, সে তখন বলেছিলো, “আল্লাহ্ তোমাদের এক নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন ২৮৪ কেউ যদি এর পানি পান করে তবে সে আমার সেনাবাহিনীর সাথে অগ্রসর হবে না। কেবল তারাই আমার সাথে অগ্রসর হবে যারা তা থেকে পান করবে না। [অবশ্য] এক গন্ডুষ পানি যে পান করবে তাঁকে ক্ষমা করা হবে।” কিন্তু তাদের মাঝে স্বল্প সংখ্যক ব্যতীত সকলেই তা পান করলো। সে এবং তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণ যখন উহা [নদী] অতিক্রম করলো, তখন তারা বলেছিলো, “আজকে আমরা জালুত ও তাঁর সেনাবাহিনীর সাথে শক্তিতে পেরে উঠবো না ২৮৫।” কিন্তু তাদের মধ্যে যাদের আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে দৃঢ় প্রত্যয় ছিলো তারা বলেছিলো, ” আল্লাহ্র ইচ্ছায় বার বার কি ক্ষুদ্র দল বৃহৎ দলকে পরাভুত করে নাই ?” যারা দৃঢ়তার সাথে অধ্যাবসায়ী হয়, আল্লাহ্ তাদের সাথে থাকেন।
২৮৪। যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে সৈনিকের শৃঙ্খলার। সেনাপতির আদেশ হবে শিরোধার্য। যদি যুদ্ধক্ষেত্রে সাধারণ সৈনিকেরা সেনাপতির আদেশ লঙ্ঘন করে এবং খেয়াল খুশীমত চলে; তবে সৈন্য সংখ্যা যত বেশীই হোক না কেন সে যুদ্ধ জয়ের আশা সুদূর পরাহত। এ রকম উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক থাকার থেকে না থাকাই ভালো। এরা পারে শুধু বিশৃঙ্খলা ও ত্রাসের সৃষ্টি করতে। তালুত ছিলেন আল্লাহ্ প্রদত্ত জ্ঞানে সমৃদ্ধ। উত্তপ্ত গরমে পদব্রজে দুর্গম পথ অতিক্রমের পরে স্বাভাবিকভাবে সবাই পিপাসায় ক্লান্ত হয়ে পড়বে। সে সময়ে ছোট নদী অতিক্রান্ত করার সময়ে স্বাভাবিকভাবে সবাই পানি পান করতে চাইবে। সত্যিকার ভাবে ইহুদীরা তালুতের (সেনাপতি) অনুগত কিনা এটা পরীক্ষা করার জন্য তালুত হুকুম জারী করলেন যে, কেউ যেনো নদী থেকে পানি পান না করে। এটা আল্লাহ্র পরীক্ষা। যারা পানি পান করবে তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এবং অধিকাংশ ইহুদী এই পরীক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিল। স্বল্প সংখ্যাক এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সমর্থ হয়েছিল।
[উপদেশঃ প্রয়োজনের সময়ে খুব নগন্য সংখ্যক লোকই এগিয়ে আসে। উপরন্তু তখন কিছু লোকের অসহযোগ অন্যান্য লোককেও বিচলিত করে।]
২৮৫। যদিও নগণ্যসংখ্যক লোক বিশ্বস্ত ছিল তালুতের নেতৃত্বে। কিন্তু তাদের মধ্যেও বিভক্তি ছিল। তালুতের সেনাবাহিনীর মধ্যে একদল ছিল অসম্পূর্ণ ঈমানদার, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে নাই। দ্বিতীয় দল : ঈমানদার যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলো ঠিকই কিন্তু যখন জালুতের (Goliath) বিরাট বাহিনীর সম্মুখীন হলো, তখন নিজেদের সংখ্যা কম বলে চিন্তা করেছিলো এবং তৃতীয় দল ছিল পূর্ণ ঈমানদার, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং নিজেদের সংখ্যা লঘুষ্টতার কথাও চিন্তা করেন নাই। কারণ তাদের ভরসা ছিল একমাত্র আল্লাহ। কারণ তারা জানে যে তারা ন্যায় ও সত্যের জন্য যুদ্ধ করছে। এবং যারা ন্যায় ও সত্যের জন্য যুদ্ধ করে তাদের পক্ষে আল্লাহ্ যুদ্ধ করেন। সুতরাং তাদের কোনও ভয় নাই।
উপদেশঃ সংসারের যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রতিকূল শক্তি দেখে ভয় না পেয়ে আল্লাহ্র উপরে ভরসা স্থাপন করা পূর্ণ ঈমানের লক্ষণ। এখানে প্রতিকূল অর্থাৎ অন্যায় অবিচারের শক্তি ও ক্ষমতা দেখে ভয় না পেয়ে ন্যায় ও সত্য পথে আল্লাহ্র উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে অগ্রসর হলে আল্লাহ্র সাহায্য সুনিশ্চিত।
আয়াতঃ 002.250
আর যখন তালূত ও তার সেনাবাহিনী শত্রুর সম্মুখীন হল, তখন বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ-আর আমাদের সাহায্য কর সে কাফের জাতির বিরুদ্ধে।
And when they advanced to meet Jalût (Goliath) and his forces, they invoked: ”Our Lord! Pour forth on us patience and make us victorious over the disbelieving people.”
وَلَمَّا بَرَزُواْ لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالُواْ رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
Walamma barazoo lijaloota wajunoodihi qaloo rabbana afrigh AAalayna sabran wathabbit aqdamana waonsurna AAala alqawmi alkafireena
YUSUFALI: When they advanced to meet Goliath and his forces, they prayed: “Our Lord! Pour out constancy on us and make our steps firm: Help us against those that reject faith.”
PICKTHAL: And when they went into the field against Goliath and his hosts they said: Our Lord! Bestow on us endurance, make our foothold sure, and give us help against the disbelieving folk.
SHAKIR: And when they went out against Jalut and his forces they said: Our Lord, pour down upon us patience, and make our steps firm and assist us against the unbelieving people.
KHALIFA: When they faced Goliath and his troops, they prayed, “Our Lord, grant us steadfastness, strengthen our foothold, and support us against the disbelieving people.”
২৫০। যখন তারা জালুত ও তাঁর সেনাবাহিনীর সম্মুখীন হলো, তারা প্রার্থনা করেছিলো, “হে আমাদের প্রভু ! আমাদের [চিত্তে] স্থিরতা দান কর এবং আমাদের পা অবিচলিত রাখ। যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর।”
