২২১। [পৌত্তলিক] মুশরিক নারীকে ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা বিয়ে করো না। মুশরিক নারী তোমাকে মুগ্ধ করলেও, ঈমানদার ক্রীতদাসী তাদের থেকে উত্তম। ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষের সাথে [তোমার কন্যার] বিয়ে দিও না। মুশরিক পুরুষ তোমাদের মুগ্ধ করলেও একজন ঈমানদার ক্রীতদাস তাদের থেকে উত্তম ২৪৬। অবিশ্বাসীরা তো তোমাদের অগ্নির দিকে আহবান করে, কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর নিজ অনুগ্রহে জান্নাতে ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন। তিনি তার নিদর্শনাবলী [আয়াতসমূহ] মানুষের জন্য সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেন যেনো তোমরা তাঁর প্রশংসা কীর্তন করতে পারো।
২৪৬। ‘বিবাহ’ হচ্ছে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশের চাবিকাঠি। দু’জন ব্যক্তি একই বন্ধনে আবদ্ধ হয় চিন্তায়, কর্মে, প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। বিবাহ সম্পর্ক হচ্ছে একে অপরের সম্পূরক বা ভূষণ স্বরূপ। পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী, পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহের জন্যই এখানে আমাদের আগমণ। পৃথিবীর জীবনকে বলা হয় ‘শিক্ষানবীশকাল’ (Probationary Period) পরকালের জন্য। এই জীবনের সাফল্যই পরকালের সাফল্য। আর এ সাফল্য হচ্ছে আত্মিক, চারিত্রিক ও নৈতিক উন্নতি। পৃথিবীর এই দুস্তর, দুর্গম পথে আছে নানা প্রলোভন, একে সাফল্যের সাথে অতিক্রম করতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সহযোগিতার ভূমিকা পালন করে। বৈবাহিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এত নিবিড় ও একান্ত যে একে অন্যের ভাবধারায় বা চিন্তাধারায় সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ধর্মীয় বা নৈতিক জীবনে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যবধান থাকে তবে তার প্রভাব তাদের জীবনে পড়তে বাধ্য। সুতরাং যারা পরস্পরের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে তাদের ধর্মীয় চেতনা একই প্রকার হওয়া উচিত। যেহেতু বৈবাহিক জীবন পরস্পরের প্রতি ভালবাসা, বিশ্বাস, নির্ভরশীলতা ও একাত্মতার উপর প্রতিষ্ঠিত সেই কারণে ধর্মীয় ও নৈতিক জীবন যদি দু’জনের দু’রকম হয় তবে তাদের মধ্যে মত পার্থক্য থেকে জন্ম নেবে অবিশ্বাস ফলে বৈবাহিক জীবনের অন্যান্য গুণাবলী যথা নির্ভরশীলতা ও একাত্মতা কমে যাবে। ফলশ্রুতিতে বৈবাহিক জীবনের মূল ভিত্তি, ভালবাসার ভিত্তি হয়ে যাবে দুর্বল। যদি দু’জন দু’জনকে ভালবাসে তবে তাদের ধর্মের ভিত্তি এক হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এখানে ধর্মের অর্থ যেনো কেউ ধর্মের লেবেল মনে না করেন। আজকে বাংলাদেশে জন্মসূত্রে মুসলমান লেবেল সর্বস্ব বহু নারী-পুরুষের সন্ধান পাওয়া যায়। এসব নারী পুরুষের মধ্যে ধর্মের ন্যূনতম মূল্যবোধও অনুপস্থিত। ইসলামের স্বরূপ ও অর্থ হচ্ছে ইসলামের আনুগত্য। এ আনুগত্যের সারমর্ম হলো রিপুর কামনা-বাসনার বিপরীতে আল্লাহ্র নির্দেশের আনুগত্য ও স্বেচ্ছাচারিতা ত্যাগ করে হেদায়েতের অনুসরণ। আজকে বাংলাদেশীদের মধ্যে অনেকের ধারণা মসজিদে গমন এবং নামায রোজার মধ্যেই ধর্ম নিহিত। এ কথা বলার কারণ হচ্ছে আজকে আমাদের সমাজের বহু লোক দেখা যায়, যারা নামায রোজার ব্যাপারে অত্যন্ত মনোযোগী ও সতর্ক। কিন্তু এদের মধ্য ইসলামী মূল্যবোধ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। মূল্যবোধ এই অর্থে তারা আল্লাহ্ যে সব কাজ করতে নিষেধ করেছেন তা অহরহই করছেন। যেমন-ঘুষ খাচ্ছেন, জনগণের মাল (সরকারী সম্পত্তি) বে-আইনীভাবে ব্যবহার করছেন, জনগণের আমানতের খেয়ানত করছেন, জীবনের প্রতিটি পদে (কথায় ও কাজে) মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করছেন, অন্যকে ঠকাচ্ছেন ইত্যাদি। সুতরাং এদেরকে ইসলামের লেবেল ভূষিত ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। দু’জন লোক ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হতে পারে কিন্তু তাদের মূল্যবোধ যদি একই হয় তবে তারা ধর্মের যে মূল সত্য তা অনুধাবন করতে বাধ্য। কারণ জগতে পয়গম্বরগণ যত ধর্ম এনেছেন, নিজ নিজ সময়ে সে সবই আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল। সুতরাং সেসব ধর্মও ছিল ইসলাম যদিও সেগুলি বিভিন্ন নামে অভিহিত হত। যেমন-মুসা (আঃ) এর ধর্ম তথা ইহুদী ধর্ম, ঈসা (আঃ) এর ধর্ম তথা খৃষ্ট ধর্ম ইত্যাদি। এসব ধর্মের স্বরূপ ছিল ইসলাম, যার মর্ম হচ্ছে আল্লাহ্র হুকুমের প্রতি আনুগত্য। যেহেতু স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের উপর প্রভাব বিস্তার করে সেই কারণে তাদের একই ধর্মে একই মূল্যবোধে বিশ্বাসী হওয়া একান্ত প্রয়োজন। না হলে তাদের মধ্যে বক্তিগত ও সামাজিক কোন্দল হতে বাধ্য। এখানে ধর্ম অর্থ যারা আল্লাহ্র আনুগত্যে বিশ্বাসী এবং অনুসরণকারী।
আয়াতঃ 002.222
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।
They ask you concerning menstruation. Say: that is an Adha (a harmful thing for a husband to have a sexual intercourse with his wife while she is having her menses), therefore keep away from women during menses and go not unto them till they have purified (from menses and have taken a bath). And when they have purified themselves, then go in unto them as Allâh has ordained for you (go in unto them in any manner as long as it is in their vagina). Truly, Allâh loves those who turn unto Him in repentance and loves those who purify themselves (by taking a bath and cleaning and washing thoroughly their private parts, bodies, for their prayers, etc.).
