রুকু – ২৭
২১৭। পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে ২৩৭। বল, ‘তখন যুদ্ধ করা ভীষণ অন্যায়। কিন্তু আল্লাহ্র পথে বাঁধা দান করা, আল্লাহ্কে অস্বীকার করা, মসজিদুল হারামে প্রবেশে বাঁধা দান করা এবং এর সদস্যদের [সেখান থেকে] বিতাড়িত করা, আল্লাহ্র নিকট অধিকতর অন্যায় ২৩৮।’ দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও উৎপীড়ন হত্যা অপেক্ষাও নিকৃষ্ট ২৩৯। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত হবে না যতক্ষণ না তারা তোমাদেরকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, যদি তারা [তা করতে] সক্ষম হয়। আর যদি তোমাদের মধ্যে কেউ দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে; পৃথিবীতে এবং পরলোকে তাদের [সকল] কাজকর্ম হবে মূল্যহীন। তারা হবে আগুনের অধিবাসী এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
২৩৭। পবিত্র মাস দেখুন [২:১৯৪] ও টিকা ২০৯।
২৩৮। রাসূল (সাঃ) এর কয়েকজন সাহাবা কোন এক সফরে ঘটনাচক্রে কাফিরদের সাথে একটি খণ্ডযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। সে যুদ্ধে একজন কাফির নিহত হয়। দিনটি ছিল রজব মাসের পহেলা তারিখ। যেহেতু ঘটনাটি নিষিদ্ধ মাসে সংঘটিত হয়েছিল, তাই কাফিররা মুসলমানদের দোষারোপ করতে লাগল যে, মুসলমানেরা নিষিদ্ধ মাসের সম্মান পর্যন্ত করে না। তাতে মুসলমানগণ চিন্তিত হয়ে রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন। এখানে তারই উত্তরে ইরশাদ হচ্ছে উপরের আয়াত। হিজরতের পূর্বে মক্কার সেই দুর্বিসহ দিনগুলিতে নও মুসলমানদের অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। তারা এই নির্যাতন দীর্ঘকাল ভোগ করেন যতদিন না আল্লাহ্ তাদের আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার হুকুম দান করেন। তারা নিষিদ্ধ মাসে আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তা ছিল তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ফলে তারা বিবেকের দংশনে জর্জরিত হয়েছিলেন। শত্রুরা শুধু যে তাদের যুদ্ধ করতে বাধ্য করে তাদের বিবেককে ক্ষত বিক্ষত করেছিল তাই-ই নয় তারা তাদের উপরে অপমান, অত্যাচারের ঝড় বইয়ে দিয়েছিলো। তারা আল্লাহ্কে অস্বীকার করতো, মুসলমানদেরকে কাবা ঘর থেকে বের করে দিত, মুসলমানদের নির্বাসনে যেতে বাধ্য করতো ইত্যাদি। এই আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন যে, ফিৎনা বা সন্ত্রাস হত্যার চেয়ে বেশী অপরাধ।
২৩৯। আয়াত [২:১৯১, ১৯৩]-টি, আয়াত [২:২১৭] এরই অনুরূপ। ফিৎনা কথাটির অর্থ করা হয়েছে দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা, গৃহযুদ্ধ, শিরক্, কুফর, ধর্মীয় নির্যাতন ইত্যাদি।
আয়াতঃ 002.218
আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়।
Verily, those who have believed, and those who have emigrated (for Allâh’s Religion) and have striven hard in the Way of Allâh, all these hope for Allâh’s Mercy. And Allâh is Oft-Forgiving, Most-Merciful.
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أُوْلَـئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللّهِ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
Inna allatheena amanoo waallatheena hajaroo wajahadoo fee sabeeli Allahi ola-ika yarjoona rahmata Allahi waAllahu ghafoorun raheemun
YUSUFALI: Those who believed and those who suffered exile and fought (and strove and struggled) in the path of Allah,- they have the hope of the Mercy of Allah: And Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.
PICKTHAL: Lo! those who believe, and those who emigrate (to escape the persecution) and strive in the way of Allah, these have hope of Allah’s mercy. Allah is Forgiving, Merciful.
SHAKIR: Surely those who believed and those who fled (their home) and strove hard in the way of Allah these hope for the mercy of Allah and Allah is Forgiving, Merciful.
KHALIFA: Those who believe, and those who emigrate and strive in the cause of GOD, have deserved GOD’s mercy. GOD is Forgiver, Most Merciful.
২১৮। যারা ঈমান এনেছে এবং যারা নির্বাসনের কষ্ট ভোগ করেছে এবং [সর্বশক্তি দিয়ে] আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধ করেছে, তাদের জন্য আল্লাহ্র অনুগ্রহের আশা আছে। আর আল্লাহ্ তো বারে বারে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
২১৯। তারা তোমাকে মদ ২৪০ ও জুয়া ২৪১ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘এগুলির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু লাভ। কিন্তু লাভ অপেক্ষা পাপ অনেক বেশী।’ তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কি পরিমাণ তারা [দানে] ব্যয় করবে? বল, ‘তোমার প্রয়োজনের পরে যা উদ্বৃত্ত থাকে ২৪২।’ এভাবেই আল্লাহ্ তাঁর বিধান সমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট রূপে ব্যক্ত করেন-যেনো তোমরা চিন্তা করতে পার;-
২৪০। ‘Khamr’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘গাঁজানো’। হতে পারে তা আঙ্গুরের রস বা মদ। যদি একে বৃহত্তর অর্থে প্রয়োগ করা হয় তবে যে কোনও ‘গাঁজানো’ পানীয় এর জন্য তা প্রযোজ্য। সাধারণ অর্থে যে কোনও মাদক দ্রব্যের জন্য তা প্রযোজ্য।
