১৯৬। তোমরা আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ও ওমরা পালন কর ২১২। কিন্তু তোমরা যদি [তা করতে] বাঁধাপ্রাপ্ত হও, তবে সহজলভ্য কুরবানী করো। যতক্ষণ না কুরবাণীর পশু কুরবানী স্থলে পৌঁছায় ততক্ষণ মাথা মুন্ডন করো না। তোমাদের মধ্য যদি কেহ পীড়িত হয় ২১৩, কিংবা মাথার [চামড়ায়] অসুস্থতা থাকে তবে সিয়াম কিংবা গরীবকে অন্নদান অথবা কুরবাণীর দ্বারা ক্ষতিপূরণ দেবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে ২১৪, তখন যদি কেউ হজ্জ্বের সময়ে উমরাহ্ দ্বারা লাভবান হতে চায়, তবে সে সহজলভ্য কুরবাণী দেবে। কিন্তু যদি কেহ তার ব্যয়ভার বহনে সমর্থ না হয়, তবে সে হজ্জ্বের সময় তিন দিন এবং গৃহে প্রত্যাবর্তনের পরে সাত দিন এই পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করবে। ইহা তাদের জন্য যাদের ঘর-গৃহস্থালি মসজিদুল হারামের [সীমানার] নিকট নয় ২১৫, আল্লাহ্কে ভয় কর, এবং জেনে রাখ শাস্তি দানে আল্লাহ্ কঠোর ২১৬।
২১২। দেখুন সূরা ২, আয়াত ১৫০ ও টিকা ১৬১। হজ্জ্ব প্রক্রিয়া হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ ইবাদত যা জুলহজ্জ্ব মাসের প্রথম ১২/১৩ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। উমরাহ্ হচ্ছে সংক্ষিপ্ত হজ্জ্ব যা বৎসরের যে কোন সময়েই করা সম্ভব। হজ্জ্ব ও উমরাহ্ উভয় ক্ষেত্রেই ইহ্রাম পরিধান করতে হয়, যা শুধুমাত্র কাফনের কাপড়ের ন্যায় সেলাইবিহীন দু’টুকরো কাপড়। ইহ্রাম হচ্ছে পৃথিবীর দম্ভ, অহংকার, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ইত্যাকার সর্ব রিপুর ত্যাগের প্রতীক স্বরূপ। ইহ্রাম পরিধানের পর থেকে হজ্জ্ব বা উমরাহ্র সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কাপড়, গহনা বা চুলের পরিচর্যা অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করা, শিকার করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুরুষ লোকদের মাথার চুল চেঁছে ফেলা এবং মহিলাদের এক গোছা চুল কাটা বিধেয়। এরপরে ইহ্রাম খুলে ফেলে পোষাক পরিবর্তন করা জায়েজ।
বলা হয়েছে যে, (১) একবার ইহ্রাম পরিধান করার পর হজ্জ্ব বা উমরাহ্র সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। (২) এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে দুনিয়াবী হবে না, তা হবে শুধুমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত। (৩) যদি কোন কারণে আমরা তা সম্পন্ন করতে সক্ষম না হই, তবে তার উপরে কুরবানী করা অত্যাবশকীয় হয়ে যাবে।
২১৩। যদি কেউ সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পূর্বে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যার দরুন তাকে ইহ্রাম খুলে অন্য কাপড় পড়তে হবে, সেক্ষেত্রে অথবা তার মাথাতে চর্মরোগের জন্য বা অন্য কারণে তার পক্ষে চুল কামানো সম্ভব নয়, এসব ক্ষেত্রে যদি তাকে ইহ্রাম খুলে ফেলতে হয় তবে সে তিনদিন রোজা রাখবে এবং গরীবদের খাদ্য দান করবে বা পশু কুরবানী দেবে।
২১৪। এই আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হয়, তখন মক্কা নগরী ছিলো ইসলামের শত্রুদের অধীন। সে কারণে যুদ্ধাবস্থা ও শান্তিপূর্ণ অবস্থার কথা একই সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্র আয়াতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হলেও তার প্রয়োগ হবে সর্বজনীন। কারণ শীঘ্রই মক্কা নগরী শত্রুমুক্ত হয়েছিলো। দূর-দূরান্ত থেকে হজ্জ্বযাত্রীরা হজ্জ্ব ক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে হজ্জ্বের সময়ের পূর্বেই মক্কা নগরীতে আগমন করতো। এসব হজ্জ্বযাত্রীরা উমরাহ্ সম্পন্ন করে ইহ্রাম খুলে ফেলতো এবং আনুষ্ঠানিক হজ্জ্বের জন্য অপেক্ষা করতো [হজ্জ্বে তামাত্তু অথবা আল্ কিরান]।
২১৬। এখানেই যুদ্ধ সম্পর্কিত কর্তব্য বা বিধান সম্বন্ধে বর্ণনা শেষ করে হজ্জ্বের সময়কার পালনীয় ও করণীয় বিধান সম্বন্ধে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুদ্ধের সাথে সর্বদাই জীবনের ভয় জড়িত থাকে। কিন্তু আমাদের সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, আমরা যেন আমাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তীব্র আবেগে অন্ধ না হয়ে যাই। কারণ ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করা অপেক্ষা আল্লাহ্র হুকুম মান্য করে জিহাদে অংশ গ্রহণ করা উত্তম। জিহাদ এমন একটি কঠিন সময় যখন ব্যক্তির চরিত্রের প্রকৃত তেজস্বীতা ও গুণাবলী পরিলক্ষিত হয় এবং এভাবেই আল্লাহ্ আমাদের ঈমানের পরীক্ষা করে থাকেন। আল্লাহ্র রাস্তায় যারা সৎ কাজ করে এবং আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে যারা আত্মসমর্পন করে তাদের প্রতি আল্লাহ্র করুণার কথা বলে শেষ করা হয়েছে ১৯৫ আয়াতটি। এই [২:১৯৬] আয়াতটি শেষ করা হয়েছে সেইসব লোকদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণের মাধ্যমে যারা আল্লাহ্র রাস্তায় কাজ করার দোহাই দিয়ে সীমা লঙ্ঘন করে থাকে। তাদের শাস্তি যে অবধারিত তাও এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী আয়াতে আমাদের বলা হয়েছে হজ্জ্বের মত কোন বৃহৎ লোকসমাবেশে কোন কোন কাজ আমাদেরকে পরিহার করে চলতে হবে।
আয়াতঃ 002.197
হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।
The Hajj (pilgrimage) is (in) the well-known (lunar year) months (i.e. the 10th month, the 11th month and the first ten days of the 12th month of the Islâmic calendar, i.e. two months and ten days). So whosoever intends to perform Hajj therein by assuming Ihrâm), then he should not have sexual relations (with his wife), nor commit sin, nor dispute unjustly during the Hajj. And whatever good you do, (be sure) Allâh knows it. And take a provision (with you) for the journey, but the best provision is At-Taqwa (piety, righteousness, etc.). So fear Me, O men of understanding!
