২১০। যদিও আল্লাহ্ মুসলমানদের যুদ্ধের হুকুম দিয়েছেন কিন্তু একই সাথে আত্মসংযমের আদেশ দিচ্ছেন। শক্তি প্রয়োগের এক ধরণের মাদকতা আছে। কিন্তু ধ্বংসের জন্য এ শক্তি প্রয়োগ নিষেধ। শুধুমাত্র আত্মরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা চলবে। মানুষের স্বভাবধর্ম এই যে শক্তির স্বাদ একবার পেলে সে শক্তি মদমত্ত হয়ে যায়। তাই আল্লাহ্র হুকুম হচ্ছে প্রয়োজনে অস্ত্র ধরবে কিন্তু সর্বদা নিজেকে সংযত রাখবে। যারা শক্তিধর হয়েও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে সংযত রাখে আল্লাহ্র কাছে তারা মুত্তাকী। আল্লাহ্র হুকুম হচ্ছে যুদ্ধ করবে নীতিগত কারণে অন্ধ আবেগ ত্বারিত হয়ে নয়। নীতির জন্য প্রয়োজনে প্রাণ বিসর্জন দেবে এবং শহীদ হবে। আবেগ ত্বারিত এবং আক্রোশ দ্বেষ বা হিংসা চরিতার্থ করার জন্য যুদ্ধ করা না জায়েজ।
আয়াতঃ 002.195
আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।
And spend in the Cause of Allâh (i.e. Jihâd of all kinds, etc.) and do not throw yourselves into destruction (by not spending your wealth in the Cause of Allâh), and do good. Truly, Allâh loves Al-Muhsinûn (the good-doers).
وَأَنفِقُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوَاْ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
Waanfiqoo fee sabeeli Allahi wala tulqoo bi-aydeekum ila alttahlukati waahsinoo inna Allaha yuhibbu almuhsineena
YUSUFALI: And spend of your substance in the cause of Allah, and make not your own hands contribute to (your) destruction; but do good; for Allah loveth those who do good.
PICKTHAL: Spend your wealth for the cause of Allah, and be not cast by your own hands to ruin; and do good. Lo! Allah loveth the beneficent.
SHAKIR: And spend in the way of Allah and cast not yourselves to perdition with your own hands, and do good (to others); surely Allah loves the doers of good.
KHALIFA: You shall spend in the cause of GOD; do not throw yourselves with your own hands into destruction. You shall be charitable; GOD loves the charitable.
১৯৫। তোমাদের ধন-সম্পদ আল্লাহ্র পথে ব্যয় কর। তোমরা নিজের হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে এনো না ২১১। সৎ কাজ কর। যারা সৎ কাজ করে আল্লাহ্ তাদের ভালবাসেন।
২১১। প্রতিটি যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রয়োজন। যদি যুদ্ধ ন্যায় সঙ্গত কারণে, অন্যায়কে প্রতিরোধের জন্য আল্লাহ্র দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য হয়, তবেই সে যুদ্ধ হবে আল্লাহ্র কারণে যুদ্ধ করা বা ‘নীতির’ জন্য যুদ্ধ করা। এসব যুদ্ধের সময়ে, আল্লাহ্র হুকুম হচ্ছে যার অর্থ-সম্পদ আছে তা যুদ্ধের জন্য মুক্ত হস্তে দান করা। শুধু অর্থ সম্পদ দান করেই দায়িত্ব পালন শেষ হয় না। সবচেয়ে বড় কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন হচ্ছে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা সর্বান্তকরণে নিয়োগ করা। অর্থাৎ ‘আল্লাহ্র পথে’ ব্যয়ের সময়ে প্রত্যেকে স্ব-স্ব ক্ষমতা অনুযায়ী অর্থ-সম্পদ, মেধা, বুদ্ধি, শারীরিক সামর্থ এক কথায় সব কিছুই আল্লাহ্র রাস্তায় খরচ করবে। যদি কেউ এ সময়ে আল্লাহ্র রাস্তায় খরচ না করে অর্থ সম্পদকে কুক্ষিগত করে রাখে তবে সে তার নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে। যদি কেউ তার অর্থ সম্পদকে আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় না করে নিজস্ব ভোগ বিলাসের জন্য ব্যয় করে, তবে সে প্রকারান্তে শত্রুকেই সাহায্য করে। এবং ফলস্বরূপ নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে। তাদের বোঝা উচিত স্বার্থপরতা কখনও ভাল কিছু করতে সমর্থ হয় না। নিঃস্বার্থভাবে সমাজের জন্য যা কিছুই করা হয় তাই আল্লাহ্কে খুশী করে। এই উপদেশ সর্বকালের সর্বযুগের। যে সমাজে ধনীদের ধন-সম্পদ, কুক্ষিগত নয়, যে সমাজে ধন-সম্পদ শুধুমাত্র তাদের বিলাস-ব্যসনে ব্যয় হয় না। তাদের সম্পদে গরীবের হক থাকে, আমরা দেখি সে সমাজ উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহ্র রহমত সে সমাজের উপর বর্ষিত হয়। এই ব্যয়কেই ‘আল্লাহ্র পথে’ ব্যয় বলা হয়েছে।
আয়াতঃ 002.196
আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কুরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ্ব ওমরাহ একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন।
And perform properly (i.e. all the ceremonies according to the ways of Prophet Muhammad SAW), the Hajj and ’Umrah (i.e. the pilgrimage to Makkah) for Allâh. But if you are prevented (from completing them), sacrifice a Hady (animal, i.e. a sheep, a cow, or a camel, etc.) such as you can afford, and do not shave your heads until the Hady reaches the place of sacrifice. And whosoever of you is ill or has an ailment in his scalp (necessitating shaving), he must pay a Fidyah (ransom) of either observing Saum (fasts) (three days) or giving Sadaqah (charity – feeding six poor persons) or offering sacrifice (one sheep). Then if you are in safety and whosoever performs the ’Umrah in the months of Hajj, before (performing) the Hajj, (i.e. Hajj-at-Tamattu’ and Al-Qirân), he must slaughter a Hady such as he can afford, but if he cannot afford it, he should observe Saum (fasts) three days during the Hajj and seven days after his return (to his home), making ten days in all. This is for him whose family is not present at Al-Masjid-al-Harâm (i.e. non-resident of Makkah). And fear Allâh much and know that Allâh is Severe in punishment.[]
