১৭৮। হে মুমিনগণ! হত্যার ব্যাপারে কিসাসের ১৮২ বিধান দেয়া হলো ১৮৩। স্বাধীন ব্যক্তির পরিবর্তে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস ও নারীর বদলে নারী। কিন্তু যদি নিহত ব্যক্তির ভাই এর ১৮৪ পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা প্রদর্শন করা হয় তবে, ন্যায়সঙ্গত দাবী মেনে নাও ১৮৫ এবং কৃতজ্ঞতার সাথে তাকে ক্ষতিপূরণ দাও। এটা তোমার প্রভুর নিকট থেকে সুবিধা প্রদান এবং অনুগ্রহ। এরপরে যে কেহ সীমানা অতিক্রম করবে তার জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি।
১৮২। লক্ষ্য করুণ এই আয়াতটিতে এবং এর পরবর্তী আয়াতটিতে ইসলাম পূর্বাবস্থায় প্রতিহিংসার যে ব্যাপকতা তার ভয়াবহতা অনেকটা হ্রাস করা হয়েছে। এই আয়াতটিতে ন্যায় এর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সমতার ভিত্তিতে তবে কেউ যদি ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারে সেটা হচ্ছে সর্বোত্তম। ‘কিসাস’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘জানের বদলে জান’ এ ধরণের হত্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইসলামের পূর্বে আরবে গোত্রে গোত্রে রক্তক্ষয়ী বদলা বংশ পরম্পরায় চলতো। তাতে অনেক নিরাপরাধ লোকও মৃত্যুমুখে পতিত হতেন। ইসলাম তা অনুমোদন করে না। ইসলামের নিয়ম হচ্ছে ‘জানের বদলে জান’। তবে সর্ব সম্মতিক্রমে দয়া প্রদর্শন হচ্ছে সর্বোত্তম, এমনকি জানের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ দানও আল্লাহ্র কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য।
ইসলামে সমতার আইনে [Law of equality] তিন ধরণের লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির পরিবর্তে স্বাধীন ব্যক্তি, এখানে মেয়ে বা পুরুষ, ধনী বা দরিদ্রের কোন পার্থক্য নাই। একজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিবর্তে দু’জন গরীব স্বাধীন ব্যক্তি হতে পারে না। একজন ক্রীতদাসের পরিবর্তে একজন ক্রীতদাস, একজন মহিলার পরিবর্তে একজন মহিলা। স্বাধীন মেয়েদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এর কারণ এটা নয় তারা সমাজে ছোট বা হেয়। তারা সন্তানের মা। এই হিসেবে সমাজে তাদের অন্য আর এক অবস্থান আছে। ইসলামে ন্যায়-নীতি এরকম সুশৃঙ্খল যে, একজনের হত্যার পরিবর্তে বহু জানের সমাপ্তি হতে পারে না-যা সে সময়ে আরবদের মধ্যে গোত্রগত বিবাদের ফলে ঘটতো। কিন্তু যদি ক্ষতিগ্রস্থ দল ক্ষমা প্রদর্শন করে সেটাই সর্বোত্তম।
১৮৩। ‘কিসাস’ প্রযোজ্য শুধুমাত্র বিবাদ বিসংবাদ, ঝগড়া-ঝাটির সময়ে। ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ব্যাপারে ‘কিসাস’ প্রযোজ্য নয়।
১৮৪। ‘ভাই’ এই আয়াতের এই শব্দটির অর্থ অনেক ব্যাপক ইসলামে সবাই ভাতৃবন্ধনে আবদ্ধ।
১৮৫। যদি ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ ক্ষমা করে দেয়, তবে অন্য পক্ষের সব শাস্তি মাফ হতে পারে।
আয়াতঃ 002.179
হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।
And there is (a saving of) life for you in Al-Qisâs (the Law of Equality in punishment), O men of understanding, that you may become Al-Muttaqûn (the pious – see V.2:2).
وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَاْ أُولِيْ الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
Walakum fee alqisasi hayatun ya olee al-albabi laAAallakum tattaqoona
YUSUFALI: In the Law of Equality there is (saving of) Life to you, o ye men of understanding; that ye may restrain yourselves.
PICKTHAL: And there is life for you in retaliation, O men of understanding, that ye may ward off (evil).
SHAKIR: And there is life for you in (the law of) retaliation, O men of understanding, that you may guard yourselves.
KHALIFA: Equivalence is a life saving law for you, O you who possess intelligence, that you may be righteous.
১৭৯। হে বোধসম্পন্ন মানব সম্প্রদায়, কিসাসের আইন তোমাদের জন্য [জীবন রক্ষাকারী]; যেনো তোমরা নিজেদের সংযত করতে পার।
১৮০। তোমাদের মধ্যে কারও মৃত্যুকাল উপস্থিত হলে, যদি তার বিষয় সম্পত্তি থাকে, তবে ন্যায় সঙ্গত প্রথামত তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওসিয়াত করার বিধান তোমাদের দেয়া হলো। এটি আল্লাহ্ ভীরুদের জন্য একটি কর্তব্য ১৮৬।
১৮৬। মৃতব্যক্তির সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। কিন্তু এটি একটি ভাল পদ্ধতি যে, মৃত্যুপথযাত্রী পুরুষ বা মহিলা নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় তার পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়দের মধ্যে কারও সম্বন্ধে ওসিয়ত করে যেতে পারে। এটি হতে হবে তার কাছের লোকদের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশস্বরূপ এবং একান্ত আন্তরিকতার সাথে, কারও প্রতি অন্যায় করার নিয়ত যেনো তাতে না থাকে। এই ওসিয়ত অবশ্যই ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে হবে।
আয়াতঃ 002.180
তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন-সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সবকিছু শোনেন ও জানেন।
It is prescribed for you, when death approaches any of you, if he leaves wealth, that he make a bequest to parents and next of kin, according to reasonable manners. (This is) a duty upon Al-Muttaqûn (the pious – see V.2:2).
