আয়াতঃ 002.162
এরা চিরকাল এ লা’নতের মাঝেই থাকবে। তাদের উপর থেকে আযাব কখনও হালকা করা হবে না বরং এরা বিরাম ও পাবে না।
They will abide therein (under the curse in Hell), their punishment will neither be lightened, nor will they be reprieved.
خَالِدِينَ فِيهَا لاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلاَ هُمْ يُنظَرُونَ
Khalideena feeha la yukhaffafu AAanhumu alAAathabu wala hum yuntharoona
YUSUFALI: They will abide therein: Their penalty will not be lightened, nor will respite be their (lot).
PICKTHAL: They ever dwell therein. The doom will not be lightened for them, neither will they be reprieved.
SHAKIR: Abiding in it; their chastisement shall not be lightened nor shall they be given respite.
KHALIFA: Eternally they abide therein. The retribution is never commuted for them, nor are they reprieved.
১৬০। কিন্তু যারা অনুতাপের মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করে এবং প্রকাশ্যে [সত্যকে] ঘোষণা করে, আমি তাদের তওবা কবুল করি, কারণ আমি বার বার তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।
১৬১। যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে এবং কাফিররূপে মারা যায়, তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত এবং ফেরেশ্তাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত।
১৬২। তারা সে অবস্থায় স্থায়ী হবে ১৬৪, তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না, তাদের [ভাগ্যে] কোন অবসরও দেয়া হবে না।
১৬৪। ‘অভিশাপ’ এটা শুধুমাত্র মুখের কথা নয়। অভিশপ্ত হচ্ছে আত্মার এক বিশেষ অবস্থা। [State of mind] এই অবস্থা আল্লাহ্র অনুগ্রহের ঠিক উল্টো। আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও রহমত আত্মাকে অন্ধকার থেকে আলোর ভূবনে নিয়ে আসে। ফলে আত্মার মধ্যে জন্ম নেয় শান্তি, অন্তর্দৃষ্টি [Spiritual insight] এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (Wisdom) এরকম অবস্থায় বান্দার মধ্যে জন্ম নেয় ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা, ভালকে মন্দ থেকে পার্থক্য করার ক্ষমতা, ফলে তিনি হন বিবেকবান এবং আল্লাহ্র রহমতের ফলে তার সমস্ত সত্তা শান্তিতে ভরে যায়। পৃথিবীর দুঃখ ব্যাথা, লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না। অনাবিল শান্তি এবং আলোর ভূবনে হয় আত্মার অগ্রযাত্রা।
অভিশাপ প্রাপ্ত অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। অনেকে মনে করে মুখে উচ্চারণ করলেই অভিশাপগ্রস্থ করা যায় কোনও ব্যক্তিকে, কিন্তু তা ঠিক নয়। তাই ইংরেজী প্রবাদ আছে, ‘Causeless curse will not come.’ কিন্তু যদি অত্যাচারী নিপীড়িত ব্যক্তি আল্লাহ্র কাছে এর প্রতিকার চায় তাহলে তার কান্না আল্লাহ্র আরসকে কাঁপিয়ে দেয়, ফলে অত্যাচারিত ব্যক্তির অভিশাপের ফলে অন্যায়কারী, অত্যাচারী ব্যক্তির উপর আল্লাহ্র রোষানল পতিত হয়। তারা আল্লাহ্র অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যায়কারী বা অত্যাচারী তার নিজের আত্মার উপরে অত্যাচার করে। ফলে আত্মার শান্তি হয় বিঘ্নিত। ঐ ব্যক্তি সর্বদা থাকে ভীত, সন্ত্রস্ত, বিচলিত, পৃথিবীর উপর সে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এরাই হচ্ছে অভিশপ্ত আত্মা। এটা হচ্ছে এক ধরনের (State of mind) মানসিক অবস্থা।
আয়াতঃ 002.163
আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই।
And your Ilâh (God) is One Ilâh (God – Allâh), Lâ ilâha illa Huwa (there is none who has the right to be worshipped but He), the Most Beneficent, the Most Merciful.
وَإِلَـهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
Wa-ilahukum ilahun wahidun la ilaha illa huwa alrrahmanu alrraheemu
YUSUFALI: And your Allah is One Allah: There is no god but He, Most Gracious, Most Merciful.
PICKTHAL: Your Allah is One Allah; there is no Allah save Him, the Beneficent, the Merciful.
SHAKIR: And your Allah is one Allah! there is no god but He; He is the Beneficent, the Merciful.
KHALIFA: Your god is one god; there is no god but He, Most Gracious, Most Merciful.
১৬৩। এবং তোমাদের আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। তিনি পরম করুণাময় ও দয়াময় ১৬৫।
১৬৫। এই আয়াতটির মর্মার্থ হচ্ছে, যখনই ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ্কে অস্বীকারকারী এবং অন্যায় অত্যাচারকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্র রোষানলের কথা বলা হয়েছে, তখনই আবার বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে আল্লাহ্র রহমত (Grace) এবং করুণার (Mercy) কথা। এই আয়াতে আল্লাহ্র একত্বের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়াতটি শেষ করা হয়েছে। বিশ্ব প্রকৃতি, আকাশ-নভোমন্ডল সবই আপাতঃদৃষ্টিতে মনে হবে বিভিন্ন। কিন্তু যারা বিজ্ঞানের সাধক তারা জানেন বিশ্ব-প্রকৃতি, নভোমন্ডল সবই প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলে। সে নিয়ম সবার জন্যই এক। যেমন-উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বিজ্ঞান বলে মানুষ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে বুদ্ধি জগতের দিক থেকে বিভিন্নতা থাকলেও শারীরিক (Physiology) কলাকৌশল এক। রক্ত সঞ্চালন প্রণালী, Digestive System ইত্যাদি মানুষ ও প্রাণীর একই প্রক্রিয়ায় কাজ করে। তাইতো বিজ্ঞানীরা কোনও নতুন ঔষধ মানুষের পূর্বে কোনও প্রাণীর উপরে পরীক্ষা করে নেয়। একই নিয়ম বিশ্ব চরাচরের সবার জন্য প্রযোজ্য। একই নিয়মের আওতায় পৃথিবী, শুক্র, বৃহস্পতি, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি। এ সমস্তই একটি তত্ত্বের প্রতিই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে সব কিছুই এক জনের দ্বারা সৃষ্টি। বিভিন্ন স্রষ্টা বিভিন্ন জিনিস সৃষ্টি করলে বিশ্বজগতের বিজ্ঞান এক সূত্রে গাঁথা হতো না। বিভিন্ন বস্তু বিভিন্ন নিয়মের সূত্রে গাঁথা হতো। ফলে প্রকৃতিতে অনিয়ম ও সংঘর্ষ ঘটতো প্রতিনিয়ত। কিন্তু আমরা দেখি আমাদের চারিপার্শ্বের বিশ্ব এক সূত্রে গাঁথা যা নির্দেশ করে স্রষ্টার একত্ব।
