————–
১২৮. F. Engels OFPPS ভূমিকা দ্রষ্টব্য।
১২৯. Ibid 7.
১৩০. F. Engels LF, AD ইত্যাদি দ্রষ্টব্য।
১৩১. G. Thomson AA 421; SAGS 43; FP 43-4, ইত্যাদি।
১৩২. বেদান্তসার প্রভৃতি দ্রষ্টব্য।
১৩৩. H. L. Morgan AS 3.
১৩৪. Ibid 10-1, 56.
১৩৫. Ibid 17-8.
১৩৬. G. Thomson SAGS 34.
১৩৭. G. Childe MMH 51.
১৩৮. G. Thomson op. cit. 35.
১৩৯. Ibid 86.
১৪০. F. Engels OFFPPS 30.
১৪১. G. Thomson op. cit. 85-6.
১৪২. Ibid 57 : “To tell the whole story from beginning to end would not only reveal the present as a continuation of the past—it would lift the veil on the future. There’s the rub.”
১৪৩. K. Marx & F. Engels C 209.
১৪৪. Ibid.
১৪৫. কর্ণপর্ব ৩৪:১১৯।
১৪৬. তৃতীয় পরিচ্ছেদের “রাষ্টশক্তির আবির্ভাব” অধ্যায় দ্রষ্টব্য।
১৪৭. G. Thomson SAGS 155 : আমেরিকার ইরোকোয়া এবং ভারতের খাসিদের মধ্যে এই ব্যবস্থা প্রচলিত। অন্যান্য ভারতীয় দৃষ্টান্তের জন্য O. R. Ehrenfels-এর MI দ্রষ্টব্য।
২৪. উপসংহার (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : পদ্ধতি প্রসঙ্গে)
আধুনিক যুগের বিদ্বানেরা ভারতবর্ষের প্রাচীন রচনাবলী সম্বন্ধে অনেক গবেষণা করেছেন। সে-গবেষণাকে ছোটো করবার প্রশ্ন নিশ্চয়ই ওঠে না; কেননা, তার উপর নির্ভর করতে না পারলে আমাদের পক্ষে আজ হয়তো ওই পুঁথিপত্রগুলির দিকে অগ্রসর হওয়াই অনেকাংশে অসম্ভব হতো। কিন্তু তবুও শুধুমাত্র এই গবেষণা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকাও সম্ভব নয়। কেননা, এই রচনাগুলিতে প্রাচীন-সমাজের সে-সব স্মারক পড়ে রয়েছে আধুনিক বিদ্বানেরা সেগুলির প্রকৃত ব্যাখ্যা খোঁজ করেন নি। তার কারণ কি এই যে, প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির ওই সব ঝুলজমা ধুলোঢাকা গহ্বরগুলিতে এমন কঙ্কাল লুকানো রয়েছে যার কাহিনী শুনতে আধুনিক সমাজ সাহস পায় না? এই কঙ্কালগুলি রবীন্দ্রনাথের কঙ্কাল গল্পের অশরীরী নায়িকাটির মতো সত্যিই বড় অপরূপ কাহিনী আমাদের শোনাতে চায়। এরা বলতে চায়, উত্তরযুগের ভারতীয় সমাজে হিংসা ও বিদ্বেষের তাণ্ডব যতো প্রচণ্ড হয়েই উঠুক না কেন এককালে এই সমাজেই সবাই স্বাধীন ছিলো, সবাই সমান ছিলো, মানুষে-মানুষে ছিলো ভাই-ভাই সম্পর্ক। তখনো মানুষ মানুষকে শোষণ করতে শেখেনি, তাই শেখেনি অধ্যাত্মবাদের প্রবঞ্চনা, শেখেনি ভাববাদের আলেয়া দেখিয়ে মানুষকে ভুল পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
এ-কাহিনী প্রকাশ করতে আধুনিক সমাজ এতো ভয় পায় কেন? কেননা, সে-কাহিনী শুনে আজকের মানুষ আবার সমানে-সমান সম্পর্ককে ফিরে পেতে চাইবে। তার মানে অবশ্যই সে-সমাজের দৈন্যকে ফিরে পাবার কথা নয়—ধনসম্পদের দৈন্যও নয়, চিন্তাচেতনার দৈন্যও নয়—তার বদলে, প্রাচুর্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নতুন সাম্য-সমাজ, আর তারই অনুরূপ ধ্যানধারণা হিসেবে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ লোকায়ত-দর্শনও। অতীতকে আবিষ্কার করবার সঙ্গে শুধুই অতীতকে চেনবার সম্পর্ক নয়—সচেতনভাবে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবার যোগাযোগও আছে।
২ম খণ্ড : বস্তুবাদ । ৩য় পরিচ্ছেদ : গণপতি—বস্তুবাদের উৎস-সন্ধানে
০১. ভারতের কি কোন ইতিহাস নেই?
দ্বিতীয় খণ্ড
বস্তুবাদ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
গণপতি : লোকায়ত-র উৎস সন্ধানে
দার্শনিক হেগেল দেখাতে চেয়েছেন, ভারতবর্ষের কোনো ইতিহাস নেই। এদেশে জীবাত্মা তার নিজস্ব সত্তা খোয়াতে খোয়াতে একেবারে দেউলে হয়ে গিয়েছে। এদেশে পরমাত্মার মর্যাদাকে মলিন করা হয়েছে খণ্ড, সংকীর্ণ বস্তুরাজ্যের মধ্যে তাঁকে বিলীন করে দিয়ে। এবং এ-পরিস্থিতিতে আর যাই হোক ইতিহাস বলে কিছু সম্ভব নয়।
হেগেলের এই ভারত-আবিষ্কার সত্যিই বিস্ময়কর!
ভারতের কি কোন ইতিহাস নেই?
হেগেলের মূল কথা হলো, মানুষের ইতিহাসকে শুধুমাত্র মানুষের কীর্তিকাহিনী মনে করা ভুল। কেননা, এই পরিদৃশ্যমান জগতের পিছনে আছেন এক চিন্ময় পরমাত্মা। এখানের ধূলিকণা থেকে শুরু করে ধ্যানধারণার জটিলটা পর্যন্ত সর্বত্রই তাঁর বিকাশ।
তাই, ইতিহাস বলতে মরলোকের মানুষ যেটুকু দেখেছে সেটুকুই সব নয়। আসলে সবই তাঁর লীলা। আর কী অপরূপ এই লীলা : যুগের পর যুগ ধরে একের পর এক পর্যায় পার হয়ে, ভগবান তাঁর মহিমার বিকাশ করে চলেছেন! এক এক যুগের এক এক দেশের কথা তাই এই লীলাপ্রসঙ্গেই যেন এক একটি পরিচ্ছেদ।
আমাদের দেশে, ভারতবর্ষে, লীলাময়ের কী রকম মহিমা?
হেগেল(১) বলছেন, এ-যেন তাঁর স্বপ্ন-দশা। স্বপ্নমহিমা। তার মধ্যে লাবণ্য যে নেই তা নয় : যা-কিছু কঠিন, যা-কিছু এলোমেলো, এবড়ো-খেবড়ো, দ্বন্দ্বকণ্টকিত, তা সবই এখানে শান্ত, সমাধিস্থ হয়ে গিয়েছে। তবুও, কী সাংঘাতিক অলীক এই স্বপ্ন—এমনকি মনগড়া বা কাল্পনিক কথার মতোও নয়। যদি তাই হতো তাহলেও জীবাত্মা এ-কল্পনা থেকে ও-কল্পনায় সহজে যাতায়াত করতে পারতো। তার মানে, একটা কল্পনাকে যতো সহজে জড়িয়ে ধরতো ততো সহজেই আবার তাকে ছেড়ে আসতে পারতো। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে লীলাময়ের যে-স্বপ্ন-দশা সেখানে জীবাত্মা যে-কোনো একটি খণ্ড ও সংকীর্ণ বস্তুর কাছেই একেবারে চরম আত্মসমর্পণ করে বসে—যেন বিধাতার পায়ে, ভগবানের কাছে, একেবারে বিলীন হয়ে যাওয়া! এখানে তার সবকিছুই যেন এক একটি মূর্তিমান ভগবান : সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, গঙ্গা, সিন্ধু, জানোয়ার, সবকিছুই। ঈশ্বর-সৃষ্টির এই নেশায় জীবাত্মার স্বরূপ ও স্বাতন্ত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। অপরপক্ষে আবার সংকীর্ণ ও খণ্ড বস্তুরাজ্যের স্তরে নামিয়ে এনে মলিন করা হয় ঈশ্বরের মর্যাদা।
