অ্যালেন বলল, তা ডেভিড, তুমি ক্রিসমাস পার্টিতে জয়েন করবে না কেন? কী সমস্যা?
বিরাট সমস্যা, বলল ডেভিড। তুমি জানলে খুব অবাক হবে যে, আমাদের জিসাস ক্রাইস্ট কিন্তু ডিসেম্বরের পঁচিশ তারিখে জন্মগ্রহণ করেননি। আমরা একটি ভুল-দিনে জিসাস ক্রাইস্টের জন্মদিন পালন করি। আই সোয়ার।
ডেভিডের কথার আগামাথা কোনো কিছু অ্যালেন বুঝতে পারল না। সে কপাল কুঁচকে বলল, কী বললে তুমি? ডেভিড খুব সিরিয়াস চেহারায় বলল, আমাদের জিসাস ক্রাইস্ট পঁচিশে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেননি। আমরা, মানে খ্রিষ্টানরা একেবারে একটি ভুল-দিনে জিসাস ক্রাইস্টের জন্মদিন পালন করি।
আর ইউ কিডিং?, অ্যালেনের চেহারা থেকে রুক্ষ ভাবটি যায়নি। কুচকানো কপাল আর গুটানো চোখে যেন তার রাজ্যের বিস্ময়।
নো, মাই ফ্রেন্ড। ট্রাস্ট মি। আই অ্যাম নট লায়িং টু ইউ। আই সোয়ার।
আমার সবচেয়ে মজা লাগছে ডেভিডের হাবভাব দেখে। সে এমনভাবে অ্যালেনকে বোঝাচ্ছে যেন অ্যালেন ক্রিসমাস ডে পালন না করলে তারই লাভ। সিরিয়াসনেসের সবটুকু তার চেহারায় বিরাজ করছে।
অ্যালেন বলল, তুমি এই কথা কোথায় শুনলে?
আমাকে সাজিদ বলেছে। সে কিন্তু মিথ্যে বলেনি অ্যালেন। সে একেবারে এভিডেন্স সহকারে আমাকে প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে—জিসাস ক্রাইস্ট পঁচিশে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেননি। আমরা ভুলদিনে ক্রিসমাস ডে পালন করি।
তাই?
হ্যাঁ।
এবার অ্যালেন সাজিদের দিকে মুখ ফেরাল। তার চেহারায় একটু আগের উজ্জ্বলতাটুকু নেই। সেখানে স্থান করে নিয়েছে একগাদা অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতা। সে হয়তো এতক্ষণে ধরে নিয়েছে যে, আমরাই ডেভিডের মাথা গুলিয়ে খেয়েছি। অ্যালেন সাজিদকে উদ্দেশ্য করে বলল, তুমিই বলেছ ডেভিডকে এই কথা?
আমি খেয়াল করলাম অ্যালেন এবার আপনি সম্বোধন ছেড়ে তুমিতে চলে এসেছে। সচেতনভাবে এসেছে না অবচেতনভাবে এসেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।
সাজিদ বলল, হ্যাঁ।
তোমার কাছে কী ধরনের এভিডেন্স আছে?
সাজিদ ধীরে ধীরে অ্যালেনকে সব কাহিনি খুলে বলল, যা সে গতকাল ডেভিডকে বুঝিয়েছিল। তবে একটি ব্যাপার বুঝেছি, অ্যালেন বাইবেল সম্পর্কে বেশ ভালো জ্ঞান রাখে। কয়েকটি জায়গায় সাজিদকে প্রশ্ন করে আটকাতেও চেয়েছে; কিন্তু সাজিদ দুর্দান্তভাবে সেগুলো রিফিউট করেছে। একটি পর্যায়ে গিয়ে অ্যালেন তো স্বীকার করেই বসল যে, জিসাস ক্রাইস্টের জন্ম কোনদিন সেটি বাইবেল নিশ্চিত করে না এবং সে এও বলল যে—আর্লি খ্রিষ্টানদের থেকে এই দিনটি জিসাস ক্রাইস্টের জন্মদিন হিশেবে উদ্যাপনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
তার কথা শুনে ডেভিড বলল, তাহলে, আমরা এই দিন পালন করি কেন অ্যালেন?
অ্যালেন বলল, ধর্মের কিছু কিছু বিচ্যুয়াল এভাবেই তৈরি হয়ে যায়। হতে পারে এই দিনেই জিসাস ক্রাইস্টের জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষ্যে এমন কোনো ব্যাখ্যা আছে, যা আমরা কেউই জানি না। যারা জানে তারা হয়তো গত হয়েছে। তবে আমাদের উচিত প্রশ্ন না করে সেগুলো পালন করে যাওয়া।
তার কথা শুনে অবাক হলো ডেভিড। অবাক হলাম আমিও। সে ক্রিসমাস ডের জন্য এমন এক ব্যাখ্যার কথা বলছে যা বাইবেলে নেই, আর্লি ক্রিশ্চিয়ানরা পালন করেনি। সে এটিকে একটি রিচ্যুয়াল বানিয়ে সার্টিফায়েড করে দিতে চাইছে। অদ্ভুত! অ্যালেন আবার বলল, এরকম রিচ্যুয়ালগুলো যে কেবল ক্রিশ্চিয়ানিটির মধ্যেই আছে তা নয়। মোটামুটি সব ধর্মেই এসব পাওয়া যায়। এমনকি, ইসলামধর্মেও।
আমি আর সাজিদ সাথে আছি বলেই হয়তো অ্যালেন ইসলামধর্মের নামটি বেশ জোর দিয়েই বলল। ইসলামধর্মেও এরকম রিচ্যুয়াল আছে শুনে আরেকবার অবাক হলো ডেভিড। সে বেশ বিস্ময়ের সাথেই আমার আর সাজিদের চেহারার দিকে তাকাল। এই কথা শুনে আমাদের রিঅ্যাকশান কী হতে পারে সম্ভবত সেটি দেখাই তার উদ্দেশ্য।
আমি অ্যালেনকে উদ্দেশ্য করে বললাম, ইসলামধর্মেও এরকম রিচ্যুয়াল আছে বলতে?
অ্যালেন আমার দিকে তাকাল। বলল, শিওর।
যেমন?
এই যেমন ধরো তোমাদের কাবা ঘর। তোমাদের কুরআন বলে এটি নাকি আব্রাহাম আই মিন নবী ইবরাহীম তার পুত্র ইসমাঈলকে নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। দেখো, এটি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে জিসাস ক্রাইস্টের জন্মের আগেও পৃথিবীতে কাবা ঘরের অস্তিত্ব থাকবে, রাইট? এমনকি, জিসাস ক্রাইস্টের জন্মের সময়েও এটার অস্তিত্ব থাকা স্বাভাবিক ছিল; কিন্তু নবী মুহাম্মদের জন্মের আগে তুমি এমন কোনো নন-মুসলিম সোর্স পাবে না যেখান থেকে প্রমাণ করা যায় যে, কাবা ঘরের অস্তিত্ব সেই আদিকাল থেকেই আছে। তাহলে কাবা ঘর আসলেই সেই আদিকাল থেকে ছিল কি ছিল না, সেটি নিয়ে একটি সংশয় কিন্তু আছে। তবুও মুসলিমরা সেটার দিকে মুখ করে ইবাদত করে। কাবায় হজ করে ইত্যাদি। এই যে, এভাবেই তো রিচ্যুয়াল তৈরি হয়।
সাজিদ বলল, তো, তুমি বলতে চাচ্ছ যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের আগে, নন-মসুসলিম কোনো সোর্স থেকে কাবার অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় না?
অ্যালেন বলল, হ্যাঁ। দ্যাটস ইট।
কফি চলে এলো। কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে ডেভিড বলল, হাউ স্ট্রেইঞ্জ!
সাজিদ বলল, অ্যালেন, আমার মনে হয় তুমি কোথাও একটি ভুল করছ।
