১১। ক্রিয়াপদ
সাধু ও চলিত প্রয়োগে কৃদন্ত রূপে করান, পাঠান প্রভৃতি অথবা বিকল্পে করানো, পাঠানো প্রভৃতি বিধেয়।
চলিত ভাষার ক্রিয়াপদের বিহিত বানানের কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হইল। বিকল্পে ঊর্ধ্ব কমা বর্জন করা যাইতে পারে এবং লাম বিভক্তি স্থানে লুম বা–লেম লেখা যাইতে পারে।
হ-ধাতু– হয়, হন, হও, হস, হই। হচ্ছে। হয়েছে। হক, হন, হও, হ। হল হলাম। হত। হচ্ছিল। হয়েছিল। হব (হবো, হবে। হয়ো, হস। হতে, হয়ে হলে, হবার, হওয়া।
খা-ধাতু– খায়, খান, খাও, খাস, খাই। খাচ্ছে। খেয়েছে। খাক, খান, খাও, খা। খেলে, খেলাম। খেত। খাচ্ছিল। খেয়েছিল। খাব (খাবো), খাবে। খেয়ো, খাস। খেতে, খেয়ে, খেলে, খাবার, খাওয়া।
দি-ধাতু।– দেয়, দেন, দাও, দিস, দিই। দিচ্ছে। দিয়েছে। দিক, দিন, দাও, দে। দিলে, দিলাম। দিত। দিচ্ছিল। দিয়েছিল। দেব (দেববা), দেবে। দিও, দিস। দিতে, দিয়ে, দিলে, দেবার, দেওয়া।
শু-ধাতু– শোয়, শোন, শোও, শুস, শুই, শুচ্ছে। শুয়েছে। শুক, শুন, শোও, শশা। শুল, শুলাম। শুত। শুচ্ছিল। শুয়েছিল। শোব (শোব), শোবে। শুয়ো, শুস। শুতে, শুয়ে, শুলে, শোবার, শোয়া।
কর-ধাতু– করে, করেন, কর, করিস, করি। করছে। করেছে। করুক, করুন, কর, কর। করলে, করলাম। করত। করছিল। করেছিল? করব (করবো), করবে। করো, করিস। করতে, করে, করলে, করবার, করা।
কাট-ধাতু– কাটে, কাটেন, কাট, কাটিস, কাটি। কাটছে। কেটেছে। কাটুক, কাটুন, কাট, কাটু। কাটলে, কাটলাম। কাটত। কাটছিল। কেটেছিল। কাটব (কাটবো), কাটবে। কেটো, কাটিস। কাটতে, কেটে, কাটলে, কাটবার, কাটা।
লিখ-ধাতু– লেখে, লেখেন, লেখ, লিখিস, লিখি। লিখছে। লিখেছে। লিখুক, লিখুন, লেখ, লেখ। লিখলে, লিখলাম। লিখত। লিখছিল। লিখেছিল। লিখব (লিখবো), লিখবে, লিখো, লিখিস। লিখতে, লিখে, লিখলে, লেখবার, লেখা।
উঠ ধাতু– ওঠে, ওঠেন, ওঠ, উঠিস, উঠি। উঠছে। উঠেছে। উঠুক, উঠুন, ওঠ, ওঠ। উঠল, উঠলাম। উঠত। উঠছিল। উঠেছিল। উঠব (উঠবো), উঠবে। উঠো, উঠিস। উঠতে, উঠে, উঠলে, ওঠবার, ওঠা।
করা-ধাতু– করায়, করান, করাও, করাস, করাই। করাচ্ছে। করিয়েছে। করাক, করান, করাও, করা। করালে, করালাম। করাত। করাচ্ছিল। করিয়েছিল। করাব (করাবো), করাবে। করিও, করাস। করাতে, করিয়ে, করালে, করাবার, করান (করানো)।
১২। কতকগুলি সাধু শব্দের চলিত রূপ
কুয়া, সুতা, মিছা, উঠান, উনান, পুরান, পিছন, পিতল, ভিতর, উপর প্রভৃতি কতকগুলি সাধুশব্দের মৌখিকরূপ কলিকাতা অঞ্চলে অন্যপ্রকার। যে শব্দের মৌখিক বিকৃতি আদ্য অক্ষরে তাহার সাধুর রূপই চলিত ভাষায় গ্রহণীয়, যথা–পিছন, পিতল, ভিতর, উপর। যাহার বিকৃতি মধ্য বা শেষ অক্ষরে তাহার চলিত রূপ মৌখিক রূপের অনুযায়ী করা বিধেয়, যথা–কুয়ো, সুতো, মিছে, উঠন, উনন, পুরনো।
নবাগত ইংরাজী ও অন্যান্য বিদেশী শব্দ
Cut-এর u, cat-এর a, f, v, w, z প্রভৃতির প্রতিবর্ণ বাংলায় নাই। অল্প কয়েকটি নূতন অক্ষর বা চিহ্ন বাংলা লিপিতে প্রবর্তিত করিলে মোটামুটি কাজ চলিতে পারে। বিদেশী শব্দের বাংলা বানান যথাসম্ভব উচ্চারণসূচক হওয়া উচিত, কিন্তু নূতন অক্ষর বা চিহ্নের বাহুল্য বর্জনীয়। এক ভাষার উচ্চারণ অন্য ভাষার লিপিতে যথাযথ প্রকাশ করা অসম্ভব। নবাগত বিদেশী শব্দের শুদ্ধিরক্ষার জন্য অধিক আয়াসের প্রয়োজন নাই, কাছাকাছি বাংলা রূপ হইলেই লেখার কাজ চলিবে। যে সকল বিদেশী শব্দের বিকৃত উচ্চারণ ও তদনুযায়ী বানান বাংলায় চলিয়া গিয়াছে, সে সকল শব্দের প্রচলিত বানানই বজায় থাকিবে, যথা–কলেজ, টেবিল, বাইসিকেল, সেকেন্ড।
১৩। বিবৃত অ (cut-এর u)
মূল শব্দে যদি বিবৃত অ থাকে, তবে বাংলা বানানে আদ্য অক্ষরে আ-কার এবং মধ্য অক্ষরে অ-কার বিধেয়, যথা–ক্লাব (club), বাস (bus), বাল্ব (bulb), সার (sir), থার্ড (third), বাজেট (budget), জার্মন (German), কাটলেট (cutlet), সার্কস (circus), ফোকস (focus), রেডিয়ম (radium), ফসফরস (Phosphorus), হিরোডোটস (Herodotus)।
১৪। বক্র আ (বা বিকৃত এ। cat-এর a)
মূল শব্দে বক্র আ থাকিলে বাংলায় আদিতে অ্যা এবং মধ্যে া বিধেয়, যথা–অ্যাসিড (acid), হ্যাট (hat)।
এইরূপ বানানো ‘্যা’কে য-ফলা+আ-কার মনে না করিয়া একটি বিশেষ স্বরবর্ণের চিহ্ন জ্ঞান করা যাইতে পারে, যেমন হিন্দীতে এই উদ্দেশ্যে ঐ-কার চলিতেছে hat = ।ৈ নাগরী লিপিতে যেমন অ-অক্ষরে ও-কার যোগ করিয়া ও সী হয়, সেরূপ বাংলায় অ্যা হইতে পারে।
১৫। ঈ উ
মূল শব্দের উচ্চারণে যদি ঈ ঊ থাকে, তবে বাংলা বানানে ঈ ঊ বিধেয়, যথা–সীল (seal), ঈস্ট (east), উস্টার (worcester), শূল (spool)।
১৬। f v
f ও v স্থানে যথাক্রমে ফ ভ বিধেয়, যথা–ফুট (foot), ভোট (vote)। যদি মূল শব্দে v-এর উচ্চারণ তুল্য হয়, তবে বাংলা বানানে ফ হইবে, যথা–ফন (Von)।
১৭। w
w স্থানে প্রচলিত রীতি অনুসারে উ বা ও বিধেয়, যথা–উইলসন (wilson), উড (wood), ওয়ে (way)।
১৮। য়
নবাগত বিদেশী শব্দে অনর্থক য় প্রয়োগ বর্জনীয়। মেয়র, চেয়ার, রেডিয়ম, সোয়েটার প্রভৃতি বানান চলিতে পারে, কারণ য় লিখিলেও উচ্চারণ বিকৃত হয় না। কিন্তু উ-কার বা ও-কারের পর অকারণে য়, য়া, গো লেখা অনুচিত। এডোয়ার্ড, ওয়ারবন্ড না লিখিয়া এড়ওয়ার্ড, ওঅর-বন্ড লেখা উচিত। হার্ডওয়ার (hardware) বানানে দোষ নাই।
